Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮ দেশ। তার মধ্যে অনেক অনেক ছোট ছোট দেশ আছে। যাদের লোকসংখ্যা হাতে গোনা। অথচ বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারত এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠতে হিমসিম খায়। বিশ্বকাপ খেলা তো দূর অস্ত। এখানে অবশ্য ভারতীয় পুরুষ দলের কথাই বলা হচ্ছে মূলত। এবার তারা এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যেতে পারেনি। সেখানে ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলের সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষণীয়। তারা অস্ট্রেলিয়ায় ১ থেকে ২১ মার্চ অনুষ্ঠেয় মহিলা এএফসি এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে। সবচেয়ে বড় কথা, তাদের সামনে এবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ফিফা ২০২৭ মহিলা বিশ্বকাপে খেলার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে, এশিয়ান কাপে ভাল ফল করলে। সেটা মাথায় রেখেই ভারতীয় মহিলা দলের নামী ফুটবলার আশালতা দেবীর বিশ্বাস, ফিফা মহিলা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণের সমূহ সম্ভাবনা আছে ভারতীয় দলের।

সম্প্রতি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও সেই লক্ষ্যপূরণে ভারতীয় সিনিয়র মহিলা দলের চিফ কোচ ক্রিসপিন ছেত্রীর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন কোস্টা রিকার হয়ে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া আমলিয়া ভালভার্দেকে। এটা ভাল, না খারাপ হল, সেটা সময়ই বলবে। আপাতত এনিয়ে কোনও বিতর্কে না গিয়ে সকলে একসঙ্গে কাজ করতে তৈরি এশিয়ান কাপ ভারতীয় দলের সাফল্যের জন্য, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে। এমনটা মনে করেন আশালতী দেবীও।

ভারতীয় মহিলা সিনিয়র দলের হয়ে ১০০র বেশি ম্যাচ খেলা আশালতার মতে, ২০২৫টা ভারতীয় মহিলা ফুটবলের সোনার বছর বললে ভুল হবে না। একই বছরে অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ১৯, ও সিনিয়র মহিলা দল তাদের এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতার্জন করেছে। আর ওই পর্যায়ে ভাল খেলতে পারলে, ২০২৬য়েই কোনও না কোনও একটা স্তরে মহিলা বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব হবে। তবে তার জন্য আমাদের ফোকাস ঠিক রাখতে হবে যথার্থ প্রস্তুতির পাশাপাশি। এটা মানতে দ্বিধা নেই, আমরা মহিলা ফুটবলে অনেক উন্নতি করলেও, আন্তর্জাতিক মানে অনেক দেশের তুলনায় এখনও পিছিয়ে আছি। তবে আমাদের ফুটবলারদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, আবেগের ওপর আস্থা আছে। চেষ্টায় কোনও ফাঁক নেই। তাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এএফসি এশিয়ান কাপে ভাল ফল করে মহিলা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণ এবার হবেই।

কোথায় কোথায় ভারতীয় মহিলা ফুটবল পিছিয়ে অন্যদের তুলনায় এই প্রশ্নে রক্ষণের অন্যতম ভরসা আশালতা দেবীর ব্যাখ্যা, ‘‌ আমরা আসলে টেকনিকাল দিকটায় বেশি নজর দি, বেসিকসটা ছেড়ে। আমি খেলা শুরু করেছিলাম ১৩ বছর বয়সে। আর এখন মেয়েরা খেলা শুরু করে ১০/‌১১ বছর বয়সে। কিন্তু যদি ৫ থেকে ৬ বছর বয়সেই ফুটবল খেলানোটা এদের শুরু করানো যায়, তাহলে অনেক ভাল হবে। কারণ ১৭/‌১৮ বছর বয়সে আর বল কন্ট্রোলের মতে সাধারন বেসিকসগুলো আর শেখানো সম্ভব নয়। তখন ফুটবলারদের মধ্যে খেলা দিকে মন থাকে বেশি, শেখাতে নয়। তখন যে কোনও ফুটবলারের মধ্যে একটা সব জানি ভাব চলে আসে। এইকারণে গ্রাসরুট স্তরে প্রতিভা তুলে আনা ও তাদের শিক্ষিত করে তোলা জরুরি। তার জন্য এআইএফএফের একটা বড় ভূমিকা থাকা দরকার।’‌

খেলার ছাড়ার পর কী করবেন, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন আশালতা। ইতিমধ্যেই সতীর্থ অদিতি চৌহানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইম্ফলে আশালতা দেবী ফুটবল ফেস্টিভালের পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘‌ অবসরের পরও ফুটবল ছেড়ে থাকার কথা ভাবতেই পারছি না। তাই ফুটবলের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছি। যখন ছোট ছিলাম, তখন ফুটবল খেলা আর পড়াশোনা একসঙ্গে চালানোর কোনও সুযোগ ছিল না। কারণ সে সময় বাড়ির কাছে এমন কোনও অ্যাকাদেমি ছিল না। আমি চাই না পরবর্তী প্রজন্ম সেই একসমস্যা ফেস করুক। ফুটবল খেলার সঙ্গে পড়াশোনাটা যাতে চালানো যায়, সেটাই আমার লক্ষ্য। আমি ৫০ জন ফুটবলারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলাম। ৪৭ থেকে ৪৮ জন বাচ্চা হাজির হয়েছিল আমার ডাকে সাড়া দিয়ে। এটা আমাকে ছোটদের নিয়ে কাজ করতে আরও বেশি করে উৎসাহ জোগাচ্ছে।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *