অলস্পোর্ট ডেস্ক: এযেন আর এক ‘এসকেপ টু ভিক্টরি’র কাহিনী। তবে এটা কোনও কাল্পনিক কাহিনী বা ঘটনা নয়, চরম বাস্তব সত্য। ইরানের জাতীয় মহিলা দলের ৫ ফুটবলারের প্রাণ বাঁচানোর আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁদের অস্ট্রেলিয়ায় ‘ আশ্রয়’ দিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়া পুলিশের সহযোগিতায় ইরানের মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জারা ঘানবারি সহ ৫ ফুটবলারকে টিম হোটেল থেকে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে বের করে নিয়ে গিয়ে নিরাপদে আশ্রয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ওই ৫ ফুটবলার।
প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কে প্রহর গুনছিলেন ইরানের জাতীয় দলের মহিলা ফুটবলাররা, এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচের পর থেকেই। তাঁদের অপরাধ, প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাননি, মিলিটারি স্যালুট দেননি। পরের ২ ম্যাচে ইরানের প্রশাসনের তরফে চাপ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে ও মিলিটারি স্যালুট দিতে বাধ্য করলেও এই ফুটবলারদের ওপর রাগ যায়নি ইরানের প্রশাসনের। বরং সরাসরি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলা হয়, দেশে ফিরলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরম সাজা পেতে হবে।
মূলত রাগটা গিয়ে পড়ে ইরান মহিলা দলের অধিনায়ক জারা ঘানবারির ওপর। কারণ ইরানের প্রশাসনের মতে, তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে বাকি ফুটবলারদের উসকেছেন ইরানের জাতীয় সংগীত না গাইতে। তাঁকে ও ইরানের বাকি ফুটবলারদের গায়ে ‘বিশ্বঘাতক, দেশদ্রোহী’ তকমা এঁটে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইরানের টিভিতে এক সঞ্চালক বারবার হুমকির স্বরে বলতে থাকেন, দেশে ফিরলে মহিলা ফুটবলারদের ভুগতে হবে। তাঁদের জন্য চরম শাস্তি অপেক্ষা করে আছে। এটা শোনার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। ইরানের প্রশাসনিক কর্তারা সঙ্গে থাকায় তাঁরা মুখ খুলতে পারছিলেন না। তবে কোনও একটা সময় স্থানীয় ‘ বন্ধু’দের সাহায্যে অস্ট্রেলিয়া সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমক্ষ হয়েছিলেন তাঁরা। তখনই জারা ঘানবারি সহ ৫ মহিলা ফুটবলার অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে আশ্রয় চান। এই মহিলা ফুটবলারদের প্রাণ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়া সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নিয়ে সেই আশ্রয় দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গৃহমন্ত্রী টনি ব্রুক মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানের মহিলা ফুটবলাররা তাঁদের কাছে আশ্রয় চেয়েছিল প্রাণ সংশয়ের কারণে। তাঁরা সেই আশ্রয় দিয়েছেন। এই ফুটবলররা হলেন ঘানবারি, জারা সারবারি আলিশা, মোনা হামুদি, আতেফে রামেনেজানিজাদে ও ফতেমা পাসানদিদে। এই ৫ ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেশন পুলিশ নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে হোটেল থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে। তাঁরা আগে থেকেই বিভিন্ন পয়েন্ট পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী রেখেছিলেন, সুযোগ বুঝে ওই ৫ ফুটবলরকে বের করে নিয়ে যেতে। সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার পর সোমবার রাত দেড়টায় ইমিগ্রেশনের পালা সেরে মহিলাদের মানবিক ভিসা মঞ্জুর করা হয় ৫ ফুটবলারকে। তারপরই উল্লাসের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রচুর ছবি ওঠে। ওই ৫ ফুটবলারের উচ্ছাসে ও আবেগে ভেসে যেতে দেখা যায়। সতঃস্ফূর্তভাবে সকলের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ‘ অসি, অসি, ওই, ওই, ওই’ ধ্বনি। এই ফুটবলাররা শুধু বড় মাপের খোলোয়াড়ই নন, ভাল মানুষ। ওঁরা ওখন থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের বাড়ির মতোই নিরাপদ অনুভব করবেন।
এই ৫ ফুটবলারের মতো ৪ জন ইরানের ক্লাব বাম খাতুনেই খেলেন। যাঁরা ১১ বার ইরান মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ঘানবারি এখানেই খেলতেন পার্সিপোলিসে খেলতে যাওযার আগে। ২০২৪য়ে ম্যাচ খেলার সময় গোলের সেলিব্রেশন করার সময় ঘানবারির মাথা থেকে হিজাব পড়ে যাওয়ায়, তাঁকে দীর্ঘসময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছিল। এবার অন্তন ঘানবারি ও তাঁর ৪ সতীর্থ ফুটবলাররা একটু প্রাণখুলে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ায় বাতাসে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
