অলস্পোর্ট ডেস্ক: বল এখন এআইএফএফের কোর্টে। আইএসএল ও আই লিগ ক্লাব জোটের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে নিজেরা ঘরোয়া লিগ আয়োজনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কীভাবে সেই লিগ হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব মূলত এখন ফেডারেশন নিযুক্ত তিন সদস্যের কমিটির। যাতে আছেন আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত, গোয়া ফুটবল সংস্থার সভাপতি কায়তানো ফার্নান্ডেজ, কেরল ফুটবল সংস্থার সভাপতি নাভাস মেরান। এক্স অফিসিও সদস্য হিসেবে তাঁদের সঙ্গে কমিটিতে আছেন ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়াণ। এই কমিটি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নতুন সংশোধিত সংবিধান মেনে ২২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, চেন্নাইন এফসি, মুম্বই সিটি, দিল্লি এসসি, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসির পাঁচ ক্লাব প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইএসএল ও আইলিগ চালুর রূপরেখা ঠিক করতে।
এই আলোচনা শেষে ২৯ ডিসেম্বর একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা এই যৌথ কমিটির। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ঘরোয়া লিগ নিয়ে তৈরি হওয়া জট ছাড়ানোর জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিলেন সলিসিটার জেনারেল তু্ষার মেহতা। তাঁর কথা মেনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ পিএস নরসিমা ও জয়মাল্য বাগচী দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট জমা করতে তাঁদের কাছে। কিন্তু সেই দু’সপ্তাহ অনেকদিন পেরিয়ে গেছে। মাঝে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য আইএসএল, আইলিগ ক্লাব, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, এমনকি সম্ভাব্য বিডারদের সঙ্গেও কথা বলেন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাদের উপস্থিতিতে। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি তাতে । এমনকি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে ক্লাব জোটের কাছে লিগ আয়োজন নিয়ে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব বার্ষিক সাধারন সভায় খারিজ করে দেয় ফেডারেশন।
কারণ এই প্রস্তাব মানতে গেলে সংবিধান সংশোধন আবার জরুরি ছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব হত না। এর অর্থ আরও সময় নষ্ট হওয়া। তাছাড়া ক্লাব জোটের প্রস্তাব মানলে এআইএফএফের কোনও অস্তিত্ব আর থাকত না। এটা কোনওমতেই মানা সম্ভব ছিল না। আগেই এনিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন ওড়িশা ফুটবল সংস্থার কর্তা অভিজিত পাল ও কার্যকরী কমিটির সদস্য ভালাঙ্কা। ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার সরাসরি কোনও প্রতিবাদ না জানালেও, তিনি জানিয়ে দেন লিগ দ্রুত চালুর পক্ষে থাকলেও, নিজেরা লিগ আয়োজনের পক্ষপাতী তাঁরা নন। ওটা ফেডারেশনের হাতেই থাকা উচিত।
ক্লাব জোটের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ায় এআইএফএফের ওপর অসন্তুষ্ট নয় ক্লাব প্রতিনিধিরা। বরং তাদের মনোভাব খুব পরিষ্কার, এতদিন ফেডারেশনের তরফে কোনও কমিটমেন্ট মেলেনি লিগ করা নিয়ে। এখন সেটা পাওয়া গেছে। এখন সব দায়টাই নিতে হবে এআইএফএফকে লিগ চালু করতে। নইলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে শুধু ক্লাবগুলোর কাছেই নয়, এএফসি ও ফিফার কাছেও। সুপ্রিম কোর্টের থেকেও রেহাই মিলবে না সময়মতো রিপোর্ট জমা করতে না পারলে। এছাড়া ফুটবলারদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে অখুশি ফিপপ্রো। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়াকে দূরে সরিয়ে রেখে এআইএফএফ একটি নিজস্ব প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তৈরির ভাবনা নেওয়ায়।
এসব বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে এখন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সামনে একটাই কাজ। লিগ শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা চুড়ান্ত করা। কীভাবে লিগ হবে, কবে শুরু হয়ে তা শেষ করা যাবে। কত দলের লিগ হবে, সেটাও। মহমেডানের আইএসএল খেলা নিয়ে সামান্য হলেও সংশয় আছে। তাদের ট্রান্সফার ব্যান পুরোপুরি ওঠেনি। তারওপর মহমেডান এখনও কোনও ইনভেস্টার চুড়ান্ত করতে পারেনি। এসবের মাঝেই এআইএফএফের কমিটি আশা করা যায় ২৯ ডিসেম্বর একটা রিপোর্ট তৈরি করে ফেলতে পারবে। একইসঙ্গে লিগ চালু করতে যে আর্থিক সংস্থান দরকার, তাও জোগাড় করে ফেলবে। যদিও সেই টাকার পরিমানট নেহাত কম নয়। অন্তত ৩০ কোটির কাছাকাছি খরচ। এখানেই প্রশ্ন নতুন কোনও বানিজ্যিক সহযোগী না পেলে টাকাটা আসবে কোথা থেকে? টাকা দেবেন কোন গৌরী সেন? এফএসডিএলের সঙ্গে অন্তত এইমুহূর্তে আর কোনও আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার আশা নেই এআইএফএফের, যদি না পায়ে গিয়ে পড়ে। ফেডারেশনর তববিলে নাকি ৫০ কোটি টাকা আছে। কিন্তু সেটা কি লিগ আয়োজনের জন্য সেই ফিক্সড ডিপোসিট ভাঙা সম্ভব বা অনুমতি মিলবে? এর উত্তর অবশ্য দিতে পারবে ফেডারেশনই।
যাই হোক বড়দিনের ছুটির পর কোর্ট খুললে ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেঞ্চের কাছে এআইএফএফের যৌথ কমিটির রিপোর্ট পেশ করার সম্ভাবনা ৫ জানুয়ারি। তারপরই বোঝা যাবে বল কোনদিকে গড়াবে। সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে লিগ শুরুর সংকেত মিললেও ঘরোয়া লিগ শুরু করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। যৌথ কমিটির জোরালো দাবি, জানুয়ারির শেষে জোর চেষ্টা হবে আইএসএল শুরুর, নইলে ফেবরুয়ারির শুরুতে যাতে করা যায়, তার জন্য সর্বোত ভাবে ঝাঁপাবে তারা। দেখাই যাক শেষপর্যন্ত এই দাবি কতটা কার্যকর হয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
