সুচরিতা সেন চৌধুরী: বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসেছিলেন ম্যারাথনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্তু সামনে যখন ভাইচুং ভুটিয়া তখন তাঁর কাছে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না তা কী করে হয়। তিনিও কল্যাণ চৌবে জমানার ভরাডুবি নিয়ে বার বার আক্রমণ করেছেন। এদিনও তার অন্যথা হল না। বরং কল্যাণ চৌবে ও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের একহাত নেওয়ার পাশাপাশি সদ্য ভারতীয় কোচের দায়িত্ব পাওয়া খালিদ জামিল প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন তিনি।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া জোর দিয়ে বলেছেন যে, মহাদেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতকে এগিয়ে যেতে হলে নবনিযুক্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচ খালিদ জামিলকে ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের উপর মনোযোগ দিতে হবে। খালিদ জামিলের কোচিংয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই কাফা নেশনস কাপে ভারত তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে, যেখানে তারা উন্নত র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ওমানকে টাইব্রেকারে ১(৩)-১(২) গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিয়েছে। খালিদ জামিলকে দায়িত্ব দেওয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাইচুং বলেন, “আমি মনে করি খালিদকে ধারাবাহিকতা এবং নতুন খেলোয়াড় এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ভালো স্ট্রাইকারদের নিয়ে শুরু করতে হবে কারণ তাঁকে ভবিষ্যতের দল জন্য গড়ে তুলতে হবে।”
“আমি মনে করি মূল মনোযোগ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন এবং এশিয়া কাপে পারফরম্যান্সের উপরই থাকা উচিৎ। এই দুটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি সত্যিই সেই বিশ্বকাপের মান অর্জন করতে চান, তাহলে আমার মনে হয় আমাদের ভালো মানের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে যাতে আমরা সেই যোগ্যতার উপর নির্ভর করে সেখানে পৌঁছতে পারি। কেবল রক্ষণাত্মক বা ডেড বলের উপর নির্ভর করে আমরা বেশিদূর এগোতে পারব না,” তিনি যোগ করেন।
ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং সম্প্রতি ১৩৩-এ নেমে এসেছে, যাকে ভাইচুং “পারফরম্যান্সের দিক থেকে একটি বিপর্যয়” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মত, ফেডারেশন এবং কোচদের মধ্যে দুর্বল সম্পর্ক এই অধঃপতনের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
“পারফরম্যান্সের জন্য আপনি প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে দোষ দিতে পারবেন না, এটি মাঠের পারফরম্যান্সও। তবে আমার মনে হয় গত ৩ বছরে, যা ঘটেছে তা হল বিশ্বের সেরা দুই কোচ, ইগর স্টিমাচ, খারাপ পরিস্থিতিতে, ফেডারেশনের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তিনি চলে গেলেন। এরপর, আমরা এফসি গোয়া থেকে সবচেয়ে সফল কোচদের একজনকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি ৪-৫ মাসের মধ্যে চলে গেলেন। যখন বিশ্বের সেরা দুই কোচ ফেডারেশনের সাথে কাজ করতে পারেননি, তখন সেটিই সব থেকে বড় উদাহরণ যে ফেডারেশন কীভাবে কাজ করছে। খালিদ এখন এসেছে। আশা করি ও ভালো করবে,” ভাইচুং বলেন।
এদিকে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন সংবিধান ইস্যুতে যে ফিফা এবং এএফসির নির্বাসনের মুখোমুখি হতে পারে, তারও সমালোচনা করেছেন তিনি। বরং সংবিধান সংশোধনের বিলম্বের সমালোচনা করেছেন তিনি। ৩০ অক্টোবরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে
“ফিফা জানত যে গত ৩ বছর ধরে এআইএফএফ-এর কোনও সংবিধান নেই। আমি গত ৩ বছর ধরে সংবিধানের এই বিষয়টি উত্থাপন করে আসছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে সুপ্রিম কোর্টে একটি সংবিধানের জন্য মামলা করছি। তাহলে, ফিফা এত দেরিতে কেন চিঠি লিখল? যদি ফিফা ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে তাদের ৩ বছর আগেই চিঠি লেখা উচিত ছিল। সেক্ষেত্রে, সংবিধান তৈরি করা যেত এবং দ্রুত নির্বাচন হতে পারত। যাতে ৩ বছরে ভারতীয় ফুটবলের, বিশেষ করে প্রশাসনের এতটা ক্ষতি হত না,” ভুটিয়া বলেন।
তবে তিনি ভারতীয় ফুটবলকে নতুন করে শুরু করার জন্য তার সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন। তবে নির্বাচন হলে তিনি সভাপতি পদের জন্য দাঁড়াবেন কি না জানতে চাওয়া হলে তা নিয়ে স্পষ্ট জবাব দেননি। তবে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে যেই আসুক না কেন, তিনি যেন ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থেই কাজ করেন। তিনি এও বলেছেন, তিনি কোনও ক্ষমতা চান না, শুধু ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি চান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
