অলস্পোর্ট ডেস্ক: নেইমার এখনও পুরো ফিট নন। তাঁর ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা এখনও অনিশ্চিত। এই অবস্থায় জোর ধাক্কা খেল ব্রাজিল ফুটবল শিবির। রিয়েল মাদ্রিদ তারকা আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের অন্যতম ভরসা রডড্রিগো এসিএল চোটের কারণে গোটা মরশুমের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন। একইসঙ্গে ব্রাজিল বিশ্বকাপের দল থেকেও ছিটকে গেলেন ফরোয়ার্ড রডড্রিগো। লা লিগা ম্যাচে গেটাফের বিরুদ্ধে খেলায় চোট পেয়ে বসে যান রডড্রিগো। চোট পরীক্ষা করে দেখা যায় এসিএল টিয়ার। এই খবর পাওয়ার পরই ব্রাজিল দলে সতীর্থ ও বন্ধু রডড্রিগোকে আবেগঘন বার্তা পাঠান নেইমার।
মঙ্গলবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রডড্রিগোর চোট কতটা গুরুতর তা তুলে ধরা হয় বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার পর। তাতে ২৫ বছর বয়সী রডড্রিগো সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ রিয়েল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম রডড্রিগোর চোট পরীক্ষা করে দেখেছে , ফুটবলারের ডান পায়ের এসিএল ও এক্সটার্নাল মিনিসকাস ছিঁড়েছে। এই চোট লাগে গেটাফের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৫৫ মিনিটের মাথায় বদলি হিসেবে নামার ১১ মিনিট বাদেই।
টেনডোনাইটেসের সমস্যায় সম্প্রতি ভুগছিলেন রডড্রিগো। গেটাফের বিরুদ্ধে ম্যাচে উইংয়ে প্রতিপক্ষকে পায়েক মোচড়ে বোকা বানাতে গিয়ে হাঁটু ঘুরে পড়ে যান তিনি। চোখে মুখে যন্ত্রণা ফুটে উঠেছিল, তবু সেই অবস্থাতেই মাঠ ছাড়েন। কিন্তু পরে বিভিন্ন স্ক্যানের মাধ্যমে ধরা পড়ে বোঝা গেছে রডড্রিগোকে ৭ থেকে ৯ মাস মাঠের বাইরে যেতে হবে। এর অর্থ আগামী বিশ্বকাপে তাঁকে পাবেন না ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লেল আনসেলোত্তি।
সোসাল মিডিয়ায় রডড্রিগোকে নিজের ‘ছোট ভাই’ বলে উল্লেখ করে এক আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন নেইমার। ইনস্টাগ্রামে একরাশ বেদনা নিয়ে নেইমার লিখেছেন, ‘ এটা আমার জীবনের অত্যন্ত দুঃখের দিন। যখন আমি রডড্রিগোর চোটের খবর পেলাম, তখন আমার চোখের সামনে নিজের দুঃসহ অবস্থাটা ভেসে উঠল। এইধরনের চোটের মধ্যে দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। সেটা যে কী কষ্টের বলে বোঝাতে পারব না। আমার নাম্বার টেন, আমার উত্তরাধিকারী, আমার প্রিয় রডড্রিগো, একটা কথাই তোমাকে এসময় বলি, ভেঙে পড়ো না, মাথা ঠিক রাখ। আমরা সবাই তোমার পাশে আছি এই দুঃসময়ে। তুমি বলেছ, এটা তোমার প্রাপ্য ছিল না। ঠিক কথা। কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা বা তাঁর পরিকল্পনার কাছে আমাদের কিছু করার নেই। ছোট ভাই আমার, মনের জোর রাখ। আমি নিশ্চিত, তুমি দারুনভাবে ফিট হয়ে মাঠে ফিরবে। ভালবাসা রইল, সঙ্গে সমর্থন। সবসময় পাশে পাবে তুমি আমাকে।’
রডড্রিগো নিজের কষ্ট গোপন করেননি। বলেছেন,‘ এটা আমার প্রাপ্য ছিল না। ক্লাব ও বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল এক নিমেষে। সবসময় একটা আশঙ্কা ছিল চোট নিয়ে। সেটাই সত্যি হল। জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন। এইসময় আমি আর কী করতে পারি, মনের জোর ধরে রাখা ছাড়া।’ ভেঙে পড়েও রডড্রিগো রিয়েল মাদ্রিদে তাঁর সতীর্থ ফুটবলার, কোচ, কোচিং স্টাফ, ব্রাজিল দলের নেইমার সহ অন্যান্য ফুটবলারদের পাশে থাকার বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, এই দুঃসময়ে তাঁর পাশে থেকে মাঠে ফেরার সাহস জোগোনোর জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
