মারি-লুইস এটা। ছবি— ইউনিয়ন বার্লিনের এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ইউরোপীয় ফুটবলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। বুন্দেসলিগার ক্লাব ইউনিয়ন বার্লিন এই মরসুমের বাকি সময়ের জন্য মারি-লুইস এটা-কে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গেই বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। স্টেফেন বাউমগার্ট-এর বিদায়ের পর জার্মান ক্লাবটি এটা-র নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও এটা-কে দীর্ঘমেয়াদী কোনও দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত খবর নেই, তবুও জার্মান ক্লাবটি নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লক্ষ্যে একজন মহিলা কোচের ওপর আস্থা রাখার যে সিদ্ধান্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিয়েছে—তা এটা-র প্রতি তাদের গভীর বিশ্বাসের কথাই জোরালোভাবে তুলে ধরে। আর এর সঙ্গে এটাও প্রমাণ করে যে যদি মহিলা দলের কোচ কোনও পুরুষ হতে পারে, তাহলে পুরুষ দলের কোচও মহিলা হতে পারে।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের কোনও পুরুষ দলের দায়িত্ব কোনও মহিলা কোচ হয়েছেন, এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটলেও, ইউরোপীয় ফুটবলে এটা কোনও অপরিচিত মুখ নন। ৩৪ বছর বয়সী এই কোচ খেলোয়াড় হিসেবেও অত্যন্ত সফল ছিলেন; ২০১০ সালে ‘টারবাইন পটসডাম’-এর হয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন এবং ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি বুন্দেসলিগা শিরোপাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
জার্মান ফুটবলের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে, এটা বছরের পর বছর ধরে প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজের কৌশলগত দর্শনকে শানিত করেছেন। তিনি কেবল ভাগ্যের জোরে এই পদে এসে পৌঁছাননি, বরং জার্মান জাতীয় যুব দলের বিভিন্ন স্তরে এবং ইউনিয়ন বার্লিনে একজন বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেই এই পদটি অর্জন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম জার্মানির অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ইউনিয়ন বার্লিনের শীর্ষ পদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বুন্দেসলিগা পয়েন্ট তালিকায় ১১তম স্থানে থাকা ইউনিয়ন বার্লিন বর্তমানে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেওয়ার পেছনে তাদের যে স্বকীয় পরিচয় ও মানসিকতা কাজ করেছিল—এই মরসুমে তা চরম পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। এটা-র দায়িত্ব কেবল পয়েন্ট তালিকায় ক্লাবের অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করাই নয়, বরং তালিকার উপরের দিকে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে দলের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করা।
নতুন খেলোয়াড় কেনার জন্য কোনও ‘ট্রান্সফার উইন্ডো’ বা দলবদলের সুযোগ না থাকায়, এটা-কে এমন একটি দলকে নতুন করে উজ্জীবিত করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যারা বর্তমানে তাদের আক্রমণভাগের ধার বা ক্ষিপ্রতা হারিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি, তাদের সেই রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও ফিরিয়ে আনতে হবে—যা একসময় তাদের লিগের সবচেয়ে ‘ভয়ঙ্কর আন্ডারডগ’ বা চমকপ্রদ দল হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল। জুন মাসের পরেও এটা এই পদে বহাল থাকবেন কি না—সেই প্রশ্নটি এখন অনেকটাই গৌণ, বরং তিনি ইতিমধ্যেই যা অর্জন করেছেন, সেটাই এখন মুখ্য বিষয়। প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ‘টেকনিক্যাল এরিয়া’ বা ডাগআউটে পা রাখার মধ্য দিয়ে, তিনি লিঙ্গ-নির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে কোচিং পেশায় আসতে ইচ্ছুক সকল মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
