Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: গত কয়েক ম্যাচে দুই দলের পারফর্মেন্স দেখে ধরে নেওয়াই হয়েছিল এই ডার্বি জিততে চলেছে ইস্টবেঙ্গলই। তবে যেহেতু ডার্বি সেহেতু আগাম কোনও সিদ্ধান্তে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। এই ডার্বির আগের দিন থেকে ডার্বির দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসেও সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। এদিনও তিনি বললেন, “মরসুমের প্রথম ডার্বিতে সবাই বলেছিল ঐতিহাসিক ৫-০ গোলের বদলা নেবে মোহনবাগান। কিন্ত হয়নি। এদিনও সহজ ছিল না। ওরা ভাল দল। কিন্তু আমরা ভাল খেলেছি।“

আসলে প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমের ভোকাল টনিকটাই দারুণভাবে চাগিয়ে দিয়েছিল পুরো ইস্টবেঙ্গল দলকে। ততক্ষণে অবশ্য ১-১ করে প্রথমার্ধ শেষ করেছে লাল-হলুদ। কিন্তু জয় পাওয়ার জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না। যদিও ড্র করলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল তাদের। কিন্তু কখনওই ড্রয়ের লক্ষ্যে খেলেনি কুয়াদ্রাতের ছেলেরা। কোচ বলছিলেন, “আমি ছেলেদের বলেছিলাম এই ম্যাচ আমাদের জিততেই হবে। এটাই শেষ সুযোগ। ওরা সেটাই করেছে।”

ক্লেটন, নন্ধা গোল করে দলকে জিতিয়েছেন ঠিকই কিন্তু মাঝ মাঠ থেকে রক্ষণ হয়ে গোল কিপিং সবেতেই এদিন নিজেদের সেরাটা তুলে আনতে পেরেছিলেন ফুটবলাররা। মাঝ মাাঠ থেকে যেভাবে দলকে পরিচালনা করলেন দলের একমাত্র বাঙালি শৌভিক চক্রবর্তী তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসনীয়। অন্যদিকে রক্ষণে নবাগত হিজাজি মেহেরের প্রতিদিনের উন্নতিটা যেন চোখে পড়ছে। তিনি শুধু রক্ষণ সামলাচ্ছেন তা নয়, উঠে এসে আক্রমণও শানাচ্ছেন। ক্লেটনের শেষ গোল তাঁরই পাস থেকে। একটু এদিক -ওদিক হলে শ্রীনিধি ম্যাচের মতো একটি গোল লেখা হত তাঁরই নামে।

কোচের মুখেও শোনা গেল তাঁর প্রশংসা। তবে এখনই উচ্ছ্বাসে মাততে নারাজ কুয়াদ্রাত। তিনি পরিষ্কার বলছেন, “সব থেকে বড় কাজ দুটো বাকি আছে। তার মধ্যে এখনই ফাইনালের কথা ভাবছি না। কারণ ফাইনাল আর আমাদের মাঝখানে একটা ৯০ মিনিট রয়েছে। যেখানে আমাদের খেলতে হবে জামশেদপুরের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে।” লড়াইটা যে সহজ হবে না তা খুব ভাল করে জাননে তিনি। তাই সেমিফাইনাল নিয়ে আগাম সতর্ক ইস্টবেঙ্গল।

এদিকে, ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে রীতিমতো হতাশ মোহনবাগান কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। তবে দলের কারও উপর কোনও দোষ চাপাতে চান না তিনি। বলছিলেন, “এদিন আমাদের খেলায় কিছু ভুল, ত্রুটি হয়েছে। তবে আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, যেটা পজিটিভ দিক। সেগুলো থেকে গোল পেয়ে গেলে অন্যরকম হতে পারত।” পেনাল্টি প্রসঙ্গে তিনি মনে করছেন, সেটা ঠিক ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার সময় পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন হুগো বুমৌস। যে কারণে গোল হয়ে যাওয়ার পরও রিটেক দেওয়া হয়। ক্লিফোর্ড বলছেন, “পেনাল্টি গোলটা দিলে ফল অন্যরকম হতেই পারত। তবে আমার দলের কারও উপর কোনও অভিযোগ নেই। সকলেই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। এই হারের দায় আমার।”

হাবাস যুগের শুরুটা জয় দিয়ে হল না ঠিকই কিন্তু তিনি এখনও বেঞ্চে বসার সুযোগ পাননি। হয়তো আইএসএল-এর দ্বিতীয় পর্বে তাঁকে পাওয়া যাবে। তাঁকে দেখা যেতে পারে সুপার কাপ সেমিফাইনালেও। তবে নিশ্চিত নয়। সে কারণে ডার্বির টিম লিস্টেও দেখা গেল কোচের নামের জায়গায় হাতে লেখা ক্লিফোর্ডের নাম। তবে যেমনই হোক, এই মোহনবাগান দলকে নিয়ে ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে । বিশেষ করে দলের বিদেশিদের। তারকা থেকে বিশ্বকাপার , কে নেই তাঁদের দলে। শুধু কি মোহনবাগান? ইস্টবেঙ্গল জিতছে ঠিকই কিন্তু সেরাটা আসা এখনও বাকি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *