সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান খেলছে কিন্তু গ্যালারি ফাঁকা এমনটা সাধারণত দেখা যায় না। কলকাতার বাইরে অন্য রাজ্যে যে সেটা স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে এই দুই দলের সমর্থকদের আবেগ এতটাই যে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই দলকে সমর্থন করতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ভুবনেশ্বরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁরা। সংখ্যাটা নেহাতই হাতে গোনা হলেও এই দুই দলকে নিয়ে আবেগের প্রতিফলন একেই বলে। যে ৯৯ শতাংশ দর্শক মাঠে বসে দলকে সমর্থন করতে পারলেন না তাদেরও প্রতিনিধি এঁরাই। তবে এবার সামনে ডার্বি। যার জন্য অনেকদিন আগে থেকেই কোমর বেঁধেছেন সমর্থকরা। ট্রেনের রিজার্ভেশন থেকে হোটেল বুকিং, যাঁরা কোনওটাই করতে পারেননি তাঁদের জন্য বরাদ্দ রাতের ট্রেন ধরে সকালে পৌঁছে খেলা দেখে আবার রাতের ট্রেনে ফিরে যাওয়া। এই ভালবাসার জন্যই নিজেদের সবর্স্ব দিয়ে মাঠে লড়াই করেন ১১ জন। আর ম্যাচটা যখন ডার্বি তখন যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। কলকাতা ডার্বি দেখতে ভুবনেশ্বরের গ্যালারি ভরাবেন ইস্ট-মোহন সমর্থকরা।
ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান কলিঙ্গ সুপার কাপের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ৯ জানুয়ারি। এর পর দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে ১৪ জানুয়ারি। সুপার কাপের গ্রুপ – এ-তে এই দুই দলের সঙ্গে ছিল আইএসএল-এর দুর্বলতম দল হায়দরাবাদ এফসি ও আই লিগের শ্রীনিধি ডেকান। শ্রীনিধি আবার আই লিগের ভাল দলের তালিকায় পড়ে। তবে খাতায় কলমে হোক বা আগের ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখে যে কোনও দলকে বিচার করতে নেই তা কিন্তু এই দুই দলের খেলায় প্রমান হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে হায়দরাবাদের। পুরো অনামী ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি একটা দলকে তুলে দেওয়া হয়েছে এক ভারতীয় কোচের হাতে। তারাই কিনা রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল হাইপ্রোফাইল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে?
তাই ডার্বি খেলতে নামার আগে প্রমাদ গুনছে দুই দল। কারণ এই ম্যাচের ফলের উপরই নির্ভর করবে সেমিফাইনাল। এই ম্যাচের পর একদল ছিটকে যাব টুর্নামেন্ট থেকে আর অন্য দল এগিয়ে যাবে সেমিফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে জামশেদপুর এফসি। সেখানে দাঁড়িয়ে ড্র করলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলবে ইস্টবেঙ্গল। কারণ গোলের বিচারে এগিয়ে রয়েছে তারা। অন্যদিকে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালের দরজা খুলতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। তবে এই পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গল যে ড্রয়ের জন্য খেলবে না তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সুপার কাপের পারফর্মেন্স বলছে একটু হলেও ধারে, ভাড়ে এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবে ডার্বি সব সময়ই আনপ্রেডিক্টেবল।
মোহনবাগানের নেগেটিভ আর পজেটিভ দিক আলাদা করে দেখতে গেলে এই মুহূর্তে তাদের সেরা ভারতীয় প্লেয়াররা রয়েছেন জাতীয় দলে। তাঁদের দলে পাচ্ছে না। রয়েছে কিছু চোট-আঘাতও। তবে পজিটিভ দিক হল, দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হেড কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। সোমবাার কলকাতায় পৌঁছেই মঙ্গলবার ভুবনেশ্বর উড়ে গিয়ে দলকে অনুশীলনও করিয়েছেন। ডার্বির আগে নতুন কোচের সঙ্গে তিনদিন অনুশীলন করার সুযোগ পাচ্ছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। সঙ্গে বেশ ভাল ফর্মেই রয়েছেন দলের বিদেশিরা। এক সঙ্গে ছয় জন বিদেশিকে খেলানোর নিয়মকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন দলের সহকারি কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভাল জায়গায় রয়েছে দল।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খুব ভাল যায়নি প্রথম পর্বে। প্রথম দিকে হারের পর পর পর ড্র করে ঘরে পয়েন্ট তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল-এর শেষ পাঁচটি ম্যাচ আর সুপার কাপের দুটো ম্যাচ ধরলে টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত কার্লেস কুয়াদ্রাতের ইস্টবেঙ্গল। মাঠে ও মাঠের বাইরে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন কোচ। শুধু শেষ ম্যাচের পর ভারতের রেফারিং নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে হতাশ দেখাচ্ছিল। হয়তো তিনি হতাশ ছিলেন ডার্বির কথা ভেবে। তবে দলের প্লেয়ারদের খেলা তাঁকে অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে ডিফেন্ডার হিজাজি মেহেরের পারফর্মেন্স।তাঁর রক্ষণ নিয়ে সমস্যা মিটিয়ে দিয়েছে অনেকটাই। সঙ্গে বক্সের মধ্যেও যে তিনি বেশ সচল তাও গোল করে আর গোলের চেষ্টা করে প্রমান করে দিয়েছেন।
তবে হ্যাঁ, আগের দুই ম্যাচে দুই দলের পারফর্মেন্স নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতও অনেক জায়গা তৈরি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে দুর্বল দলের কাছে যেভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে হয়েছে তারকাখচিত দুই দলকে সেটা চিন্তায় রাখবে দুই কোচকে। হায়দরাবাদের কাছে দুই গোল হজন করতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। অন্যদিকে এই দলের বিরুদ্ধেই ৮২ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল মোহনবাগান। একটি সেমসাইড আর একটি পেনাল্টি গোলে জয় পায় তারা। শ্রীনিধির বিরুদ্ধেও স্ট্রাগল করতে হয়েছে দুই দলকে। মোহনবাগান দুই ম্যাচই জিতেছে ২-১ গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচ জিতেছে। ৩-২ গোলে আর পরের ম্যাচ ২-১-এ। আর সব ম্যাচেই প্রশ্ন উঠেছে পেনাল্টি থেকে অফসাইড নিয়ে,, স্বাভাবিকভাবেই রেফারিং নিয়ে। দুই দলের পাশাপাশি রেফারিদের জন্যও তাই ডার্বি একটা কড়া চ্যালেঞ্জ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
