জোড়া গোলের মালিক ইউসুফ এজেজ্জারি। ছবি—ইস্টবেঙ্গল এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। হ্যা, ইউসুফ এজেজ্জারির জন্য এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এই কথাটা বলাই যায়। ১০ দিন আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। প্রথম ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নেমে পড়েছিলেন, মাঠে থাকলেন প্রায় ৮৫ মিনিট। প্রথমার্ধে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে তা পূরণ করলেন। শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিকে মাতিয়ে দিলেন এই বিদেশি। আশা করাই যায় এদিনের প্রায় ১৯ হাজারের গ্যালারি এর পর ৪০-এর গন্ডি পেরিয়ে যাবে। শুধু এজেজ্জারি নন, এদিন গোলের সামনে সারাক্ষণ ছটফট করতে দেখা গেল মিগুয়েল, বিপিন, রশিদকে। এই ইস্টবেঙ্গলে যে কেউ গোল করতে পারবে কিনা তা সময়ই বলবে তবে তার ইঙ্গিত প্রথম ম্যাচ থেকেই পাওয়া গেল। ছ’বছরে এই প্রথম জয় দিয়ে আইএসএল শুরু করল ইস্টবেঙ্গল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। সঙ্গে উপহার এজেজ্জারি।
প্রথমার্ধের পুরো সময়টাই পর পর আক্রমণে প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট ইউনাটেড রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন বিপিন, মিগুয়েল, রশিদরা। কিন্তু গোলের মুখটাই খুলতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। যেখানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় দেখাল ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে। আলাদিন আজারির অভাব এদিন স্পষ্ট ছিল জুয়ান পেদ্রোর দলে। সোমবার ঘরের মাঠে আইএসএল ২০২৫-২৬-এর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার আগেই অবশ্য আইএসএল-এর ফিতে কেটে ফেলেছিল মোহনবাগান জয় দিয়ে। কোচ অস্কার ব্রুজোঁ ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মলনে তাঁর দল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, এই বলে যে তিনি নিজের পছন্দ মতো দল তৈরি করতে পেরেছেন এই মরসুমে। তবে প্রথম ম্যাচের পর জয় এলেও বলা যেতেই পারে, এখনও অনেকটাই তৈরি হওয়া বাকি রয়েছে। তা হয়তো খেলতে খেলতেই তৈরি করে ফেলবেন অস্কার।
এদিন তিনি প্রথম থেকেই নামিয়ে দিয়েছিলেন নবাগত বিদেশি ইউসুফ এজেজ্জারিকে। ভরসা রেখেছিলেন কোচ, তার মান রাখলেন ফুটবলার। অভিষেকেই নামের পাশে লিখে নিলেন জোড়া গোল। ৬৪ মিনিটে বিপিন সিংয়ের পাস থেকে বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের দাড় করিয়ে রেখেই গোলে হেড নিয়েছিলেন এজেজ্জারি। বল গোলের রাস্তা চিনতে ভুল করেনি। একটা গোলই তাঁকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছিল। যার ফল মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল। যখন পরিবর্ত এডমুন্ডের সেন্টার ধরে আবারও সেই হেড, যা ভিড়ের মধ্যে থেকেই পথ খুঁজে পৌঁছে গিয়েছিল নর্থ-ইস্ট গোলে।
যদিও যা গোলের সুযোগ তৈরি করল তাতে নর্থ-ইস্টকে হাফডজন গোল দিতে পারত লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রথম ২০ মিনিট ছিল দেখে নেওয়ার। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছে দলগুলো। সেক্ষেত্রে কিছুটা জড়তা কাটিয়ে উঠতে সময় তো লাগেই। তবে বেশি সময় নেয়নি অস্কারের ছেলেরা। ২৩ মিনিট থেকে প্রথমার্ধের বাকি সময়টা পর পর আক্রমণ দেখা গেল ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। প্রথমেই নুঙ্গার পাস থেকে এজেজ্জারির শট অল্পের জন্য বাইরে গেল। এর পর ৩০ মিনিটে রশিদের লং পাস বক্সের বাঁদিকে ধরে গোলে শট নিয়েছিলেন নন্ধাকুমার। গোললাইনের গা ঘেঁষে তা বেরিয়ে যায় বাইরে। তার ঠিক ৬ মিনিটের মাথায় বিপিনের কর্নার থেকে রশিদের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে, ফিরতি বলেই আবার আনোয়ারের শট কোনওরকমে বাঁচিয়ে দেন নর্থ-ইস্ট গোলকিপার গুরমিত। তার আগেই অবশ্য বিপিনের একটি গোলমুখি শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মিগুয়েল জাবাকো। অল্পের জন্য রক্ষা পায়।
এখানেই শেষ নয়, যত না গোল তার থেকে অনেকবেশি গোল মিসের বহর চিন্তায় রাখবে কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে। ছোট আইএসএল-এ একটা পয়েন্টও যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তা খুব ভালো করেই জানেন কোচ। এদিনের ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে এই দল যে দৌঁড়বে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল প্রথম ম্যাচেই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পর পর দু’বার নর্থ-ইস্টের গোলকিপার দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে না দিলে ব্যবধান তখনই বাড়তে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জিতেই মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল। শেষ গোলটি এল অতিরিক্ত সময়ে বিষ্ণুর পাস ধরে মিগুয়েলের বক্সের ডানদিক থেকে মাপা শটে। প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে সেই সময় দর্শকের ভূমিকায় পাওয়া গেল। যদিও এদিন হ্যাটট্রিক করতে পারতেন মিগুয়েল। তবে দুই বিদেশির তিন গোলে জয় দিয়ে আইএসএল শুরু করে দিল ইস্টবেঙ্গল এফসি।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, লালচুংনুঙ্গা, আনোয়ার আলি, জিকসন সিং (মার্তন্ড রায়না), জয় গুপ্তা, নন্ধাকুমার (এডমুন্ড), সাউল ক্রেসপো (সৌভিক চক্রবর্তী), মহম্মদ রশিদ, বিপিন সিং (পিভি বিষ্ণু), মিগুয়েল ফেরেরা, ইউসুফ এজ্জেজারি (ডেভিড)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
