মুনাল চট্টোপাধ্যায়: বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আইএসএলের শেষ ম্যাচে ১০ জনে খেলে অ্যান্টন সজবার্গের সংযুক্তি সময়ের গোলে ৩-৩ ড্র করে মাঠ ছেড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এই ড্রয়ে পয়েন্ট নষ্ট হলেও লাল হলুদ শিবিরে তৃপ্তির পাশাপাশি চরম ক্ষোভ ছিল তাদের দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখানো নিয়ে। ইস্টবেঙ্গল শিবিরের কাছে এটা এখনও স্পষ্ট নয়, মিগুয়েলের ঠিক কত ম্যাচের নির্বাসন হবে? মিগুয়েলকে আগামী ৩ ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, নাকি শুধু মঙ্গলবার ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে নির্বাসনের শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি? এসব ভাবনার মাঝে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর আসল ফোকাস অবশ্য মঙ্গলবার গোয়ার মাঠে ওড়িশা ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট পাওয়া। আর এই জয়টা তিনি ও তাঁর ফুটবলাররা পেতে মরিয়া, পরের তিন কঠিন প্রতিপক্ষ মুম্বই সিটি, পাঞ্জাব এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাস অটুট রাখতে। মিগুয়েলকে আগামী ২ ম্যাচে পাওয়া যাবে না এটা জেনে নিয়ে নিজের কৌশল ঠিক করছেন কোচ অস্কার।
কলকাতায় বিধানসভার নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার তাপমাত্রা চরমে। একইসঙ্গে যুবভারতী নির্বাচন কমিশনের আওতায় রবিবার থেকে পুরোপুরি চলে যাওয়ার কারণে লাল হলুদ বাহিনীর প্র্যাকটিস মাঠ পাওয়াই সমস্যা। নির্বাচনের কারণে ওড়িশার সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচটা গোয়ায় সরিয়ে দিয়েছিল লিগ কমিটি। আর তাই রবিবারই দল নিয়ে গোয়া যাচ্ছেন লাল হলুদ কোচ। এতে বাড়তি প্র্যাকটিসের যেমন সুযোগ মিলবে নতুন পরিবেশে ও মাঠে, তেমন গোয়ার গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন অস্কারের ফুটবলাররা।
ওড়িশা এফসি ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১৩ নম্বরে আছে ঠিক মহমডানের ওপরে। এমন একটা দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতা কি খুব কঠিন হবে? এটাই কি পরের তিন কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করার আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ? লাল হলুদ ব্রিগেডের হেড স্যার অস্কারের উত্তর, ‘ ওড়িশা যতই লিগ টেবিলের নীচের দিকে থাকুক, ওদের হাল্কাভাবে নেওয়া যাবে না। ওড়িশা দলে একজন মাত্র বিদেশি থাকলেও, ওরা প্রতি ম্যাচে লড়ছে। শেষম্যাচেও ওরা লড়ে হেরেছে কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে না হলেও, আমরা নানা কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছি এই ম্যাচের আগে। পচা শামুকেও মাঝেমধ্যে পা কাটে। তাই ফোকাস ঠিক রেখেই ওড়িশা ম্যাচ জেতার জন্য ঝাঁপাতে হবে।’
মিগুয়েলের কী শাস্তি হবে, এটা সাংবাদিক সম্মেলন করার সয়ম নিশ্চিত ছিলেন না কোচ অস্কার, তেমন আনোয়ার ও রশিদের চোট চিন্তায় রেখেছে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কারকে। তাই প্রচারমাধ্যমকে অস্কার জানিয়েছিলেন, মিগুয়েল বা এই দুই ফুটবলারকে দলের সঙ্গে গোয়া নিয়ে যাবেন কিনা, সেটা নির্ভর করছে শাস্তি ও ফুটবলারদের ফিটনেসের ওপর। বলেন ‘ আমি আগেও যা বলেছি, এখনও তাই বলছি। মিগুয়েলের লাল কার্ডের নির্বাসনের শাস্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। কারণ মিগুয়েলকে প্ররোচিত করা হয়েছিল গোটা ঘটনার জন্য। এটা ঠিক নয়। শুনানিতে এর ব্যাখ্যা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপে মেসিও এমন প্ররোচনার শিকার হয়েছিল। মাঠে মেসির তাৎক্ষনিক আচরণ সকলের নজর কেড়েছিল। তবে ফিফা সবদিক বিবেচনা করে মেসিকে তার আচরণের জন্য কোনও শাস্তি দেয়নি। তাহলে মিগুয়েলের ক্ষেত্রে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন কেন সবদিক খতিয়ে দেখে নির্বাসন থেকে মিগুয়েলকে রেহাই দেবে না।? আর একটা লম্বা লিগে তিন ম্যাচ নির্বাসন যুক্তিগ্রাহ্য, কিন্তু ১৩ ম্যাচের লিগে ৩ ম্যাচ নির্বাসনটা মানা যায় না। অপেক্ষা করছি, চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। সেটা জানার পরই বুঝতে পারব, ওড়িশা ম্যাচে মিগুয়েলকে খেলানো সম্ভব হবে কিনা।’ সাংবাদিক সম্মেলন শেষে খবর আসে শিবিরে মিগুয়েলের ২ ম্যাচ নির্বাসন ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। এর অর্থ মিগুয়েল দলের সঙ্গে গোয়া যাচ্ছেন না। তবে মুম্বই সিটি ম্যাচে মিগুয়েলকে যাতে খেলানো যায়, তার জন্য আবার আবেদন করছে ইস্টবেঙ্গল।
ওড়িশা ম্যাচে স্ট্র্যাটেজি কী হবে , এই প্রশ্নে অস্কারের উত্তর ছিল,‘ মিগুয়েল আমার দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ও খেললে, ম্যাচের দল গঠন, ছক ও কৌশল একরকম হবে, না খেললে আর একরকম হবে। আনোয়ার ও রশিদ পুরো ফিট নয়। এদের দলের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও ঝুলে থাকছে গোয়া রওনা হওয়ার আগে পর্যন্ত।’ তবে ওড়িশা ম্যাচটা মঙ্গলবার। মাঝে ২ দিন সময় আছে, আর শনিবার বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে তাঁদের অনুশীলনও করালেন অস্কার। সেক্ষেত্রে বলাই যায় আনোয়ার ও রশিদকে দলের সঙ্গে গোয়া যাচ্ছেন।
ঘনঘন খেলা বা হোম ম্যাচ বাইরে গিয়ে গোয়ায় খেলতে হচ্ছে বলে কোনও অভিযোগ নেই কোচ অস্কারের। বরং তাঁর চিন্তা বা ক্ষোভ রেফারিং নিয়ে। বলেই দিলেন, ‘ চলতি মরশুমে আইএসএল শুরু হওয়া নিয়েই সংশয় ছিল। শুরু থেকেই সূচীতে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে সমান সুবিধা সবদল পায়নি। তাই ওনিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচে মিগুয়েল ও রেফারির অন্যান্য সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের ভুগতে হয়েছে। এটা অনুচিত। এটাই ভাবাচ্ছে। আশা করি, এরপর এমন কিছু ঘটবে না। যদি এরপর প্রমাণ হয় কোনও ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না, তাহলে তাঁকে কি ফ্রিজ করে দেওয়া হবে বাকি আইএসএল ম্যাচের জন্য।’
বেঙ্গালুরু ম্যাচে পরিত্রাতার ভূমিকায় শেষমুহূর্তে গোল করে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন অ্যান্টন সজবার্গ। তিনি যেমন ওড়িশা ম্যাচে শুরু থেকে খেলার স্বপ্ন দেখছেন, তেমন কোচ অস্কারও বললেন, তিনি অ্যান্টনকে রেখে জোড়া স্ট্রাইকারে শুরু করতে পারেন ওড়িশা ম্যাচে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
