Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

জামশেদপুর ২(‌ এজে, তাচিকাওয়া)‌ ইস্টবেঙ্গল ১(‌এডুমুন্ড)‌

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ আইএসএলের প্রথম ৩ ম্যাচে জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে মাঠে নেমেও, তা পেল না ইস্টবেঙ্গল। শুক্রবার যুবভারতীতে এডমুন্ডের গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বিক্ষিপ্ত লগ্নে ছন্দ ও মনঃসংযোগ হারিয়ে ২ গোল হজম করে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ১-‌২ গোলে হেরে লিগ দৌড়ে একটা বড়সড় ধাক্কা খেল। ১৩ ম্যাচের লিগে ৩ পয়েন্ট খোয়ানোটা অনেকটাই ক্ষতি।  প্রথমে স্টিফেন এজে, পরে রেই তাচিকাওয়া গোল করে জামশেদপুরকে মধুর জয় এনে দিলেন। জামশেদপুরের কোচ ওয়েন কোল বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁর মতো চ্যাম্পিয়ন কোচকে আবার দলের দায়িত্বে ফিরিয়েছেন ইস্পাতনগরীর কর্তারা। সেখানে প্রচারমাধ্যমে কী খবর বেরিয়েছিল, তা নিয়ে ভাবতে বসে নিজের ও দলের ফোকাসটা সম্ভবত নড়িয়ে ফেলেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার। আর তাতেই এই হারের মুখ দেখতে হল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ বলেছিলেন, জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ৪ জন বিদেশিকে ব্যবহার করবেন। সেটাই করলেন। মাঝমাঠের দুই প্রাণভোমরা রশিদ ও মিগুয়েলের খেলা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। এমনকি প্রথম ২ ম্যাচে গোলের মাঝে থাকা ইউসেফ এজেজারির ওপর যে আক্রমণ সামলানোর ভার থাকবে, এটাও জানা ছিল। তবে নবাগত অ্যান্টন সোজবার্গকে খেলাবেন কিনা, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন চিহ্ন ছিল। তার বড় কারণ সদ্য কলকাতায় পা রেখেছেন তিনি। যতই আমেরিকার ক্লাবে খেলার মাঝে থাকুন, দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন খুবই অল্পসময়। তাই ডেনমার্কের এই ফুটবলারকে নামালে, তিনি কতটা সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন, এই ভাবনাটা নিশ্চয়ই কোচ অস্কারের মাথায় ছিল। তবে সেই ভাবনা সরিয়ে রেখে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে অ্যান্টনকে প্রথম একাদশে রাখেন তিনি। সল ক্রেসপো ফিট না থাকায় এটা অস্কারের সাহসী সিদ্ধান্ত বললে ভুল হবে না। কিন্তু লাল হলুদ জার্সিতে প্রথম ম্যাচ বলেই সম্ভবত নতুন পজিশনে একটু নীচ থেকে খেলার জন্য অ্যান্টনকে তেমন কার্যকরী ভূমিকায় দেখা যায়নি।

এর ফলে মাঝমাঠ থেকে মিগুয়েল ও রশিদের গড়ে তোলা আক্রমণ জামশেদপুর বক্স পর্যন্ত পৌঁছেও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরি ও স্টিফেন এজের বাধা টপকাতে পারেনি। ইউসেফ এজেজারির পায়ে বল গেলেও সুবিধা করতে পারেননি সামনে একা পড়ে যাওয়ায়। তিনি বল ধরলেই কড়া মার্কিংয়ে তাঁকে ট্যাকল করে থামিয়েছেন জামশেদপুরের ডিফেন্ডাররা।

ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ রোখার সঙ্গে সঙ্গে কোচ ওয়েন কোলের কৌশলমতো পাল্টা আক্রমণ তুলে আনার কাজটা ভালই চালিয়েছিল জামশেদপুর। একবার লাল হলুদের জালে বলও জড়িয়েছিলেন মেসি বাউলি। অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। সানান মহম্মদ বারবার লালচুংনুঙ্গাকে টপকে বক্সে টুকে পড়ছিলেন দেখে অস্কার তাঁকে আর মাঠে রাখার ঝুঁকি নেননি। ২৪ মিনিটের মাথায় লালচুংনুঙ্গাকে তুলে নামান রাকিপকে। তাতে রাইটব্যাক পজিশনের নড়বড়ে ভাবটা যায়।

ইস্টবেঙ্গল তাদের কাঙ্খিত গোলটা পেল ৪১ মিনিটে এডমুন্ড লালরিনডিকার সৌজন্যে। বাঁপ্রান্তে শুরু থেকেই সচল ছিলেন বিপিন। তিনি বল ধরলে জামশেদপুর রক্ষণে একটা ত্রাসের সঞ্চার হচ্ছিল। তবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা সতর্ক থাকায় লাভ কিছু হচ্ছিল না। তবে ডিফেন্সের এই জমাটভাবে ভাঙন ধরালো বিপিনের একটা সেন্টার। বল ধরে গোললাইন পর্যন্ত পৌঁছে বিপিন বাঁপায়ে জোরালো সেন্টার ভাসালে, তা জামশেদপুরের প্রতীক চৌধুরির মাথায় লেগে ডানদিকে এডমুন্ডের পায়ে পড়ে। এডমুন্ড সেই বল নিয়ন্ত্রণে এনে জালের ভেতর পাঠাতে কোনও ভুল করেননি। স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধেও গোল করেছিলেন এডমুন্ড। মিজোরামের এই উইঙ্গার তাঁর জাত চেনাচ্ছেন প্রতি ম্যাচে।

এডমুন্ডের গোলের পরই দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। এজেজারির কর্নারে মিগুয়েলের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতিতে এডমুন্ডের গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠেছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় গোলটা বুঝি পেয়েই যাবে লাল হলুদ। বিপিনের মাইনাস সময়মতো ব্লক করায় ফাঁকায় দাঁড়ানো এজেজারির পায়ে বল পৌঁছয়নি।

বরং খেলার গতির বিরুদ্ধে গোল করে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। ৬০ মিনিটে মেসি বাউলির মাইনাস মাদি তালাল বক্সের মাঝে ফাঁকায় পেয়েও ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখনের গায়ে মারলে, সাময়িক বেঁচেছিল ইস্টবেঙ্গল গোল খাওয়া থেকে। বল প্রভুসুখনের গায়ে লেগে কর্নার হয়। সেই কর্নার থেকেই গোল হজম করে লাল হলুদ ৬১ মিনিটে। নিকোলা স্টোজানোভিচের কর্নারে বক্সের মাঝে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ছাপিয়ে শূণ্য লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করে জামশেদপুরের পক্ষে সমতা ফেরান স্টিফেন এজে।

গোল খেয়ে সম্বিত ফেরে ইস্টবেঙ্গলের। ঝোড়ো আক্রমণ তুলে আনে তারা। ইউসেফ এজেজারি ও জয় গুপ্তার শট রুখে জামশেদপুরকে লড়াইয়ে রাখেন গোলকিপার আলবিনো গোমস। দ্বিতীয় গোল পেতে একসঙ্গে দলে তিনটি বদল এনেছিলেন কোচ অস্কার। এডমুন্ডের জায়গায় নন্দকুমার, বিপিনের বদলে বিষ্ণু, অ্যান্টনের পরিবর্তে শৌভিকে নামান তিনি। পরে এজেজারির বদলি হিসেবে আনেন ডেভিডকে। এতে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়লেও জয়ের গোল তুলে নেওয়া দূরে থাক, গোল খেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল মুহূর্তের ভুলে। অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল।

৮৪ মিনিটে নিকোলার জায়গায় জাপানি তেই তাচিকাওয়াকে নামিয়েছিলেন জামশেদপুর কোচ ওয়েন কোল। তিনি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের বুকে শক্তিশেল ঠুকে দিলেন ৮৭ মিনিটে গোল করে। ইস্টবেঙ্গল বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে মাদি তালাল টোকায় সামনে তাচিকাওয়াকে তা বাড়িয়েছিলেন। জাপানি মিডফিল্ডার দর্শনীয় ভাবে বাঁকখাওয়ানো শটে গোলকিপার প্রভুসুখননের বাড়ানো হাতের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে তা জালের ভেতর জড়িয়ে দেন। ওই গোলের সুবাদে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ইস্পাতনগরীতে ফিরে গেল জামশেদপুর। টানা ৩ ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে তারা।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, লালচুংনুঙ্গা(‌রাকিপ)‌, জিকসন, আনোয়ার, জয়, এডমুন্ড(‌নন্দকুমার)‌, রশিদ, মিগুয়েল, বিপিন(‌বিষ্ণু)‌, অ্যান্টন(‌শৌভিক)‌, এজেজারি(‌ডেভিড)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *