নোয়া
অলস্পোর্ট জেস্ক: ইস্টবেঙ্গলের জন্য অনেকদিন আগেই অতীত হয়েছে আইএসএল। অতীত হয়েছে এএফসি, যা গত বছর সুপার কাপ জয়ের জন্য সুযোগ এসে গিয়েছিল। এবার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সেই সুপার কাপ। গত মরসুমে যা জিতিয়ে দলকে দীর্ঘদিন পর ট্রফি এনে দিয়েছিলেন বিতারিত কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। এবার অস্কার ব্রুজোঁর জন্যও সেটাই ছিল সবেধন নীলমনি। যদিও তার আগে দলের অন্দরের সমস্যা রীতিমতো বাইরে চলে এসেছিল। দল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল প্লেয়ার থেকে সাপোর্ট স্টাফকে। তার মধ্যেই পাঁচ বিদেশি নিয়ে সুপার কাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কেরালা ব্রাস্টার্সের। চোট নিয়েই দলের সঙ্গে গিয়েছেন সল ক্রেসপো। যদিও তাঁকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নামিয়ে দিতে বাধ্য হন কোচ। কিন্তু কোনও পরিকল্পনাই কাজে লাগল না ইস্টবেঙ্গলের। ০-২ গোলে হেরে সুপার কাপ ২০২৫ থেকে বিদায় নিতে হল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। এবার কি তাহলে অস্কারের চাকরি যাবে?
রবিবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হয়ে গেল সুপার কাপ ২০২৫-এর। এদিনই ক্লাবের হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামলেন নাওরেম মহেশ সিং অধিনায়কের ব্যান্ড পরেই। ম্যাচের আগে তাঁর হাতে ১০০ লেখা জার্সি তুলে দিলেন কোচ অস্কার। সব সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটিই ছিল ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র মঞ্চ। কিন্তু প্রথমার্ধেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে হল লাল-হলুদ ব্রিগেডকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক। আর সেখানেই সব আশা শেষ হয়ে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেডের।
প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করল ঠিকই কিন্তু তা গোলে রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। তবে প্লেয়ারদের সব থেকে বেশি সমস্যায় ফেলল ভুবনেশ্বরের প্রচন্ড গরম আর আদ্রতা। তার মধ্যেই পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে গেল কেরালা। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জিমেনেজের শট বাঁচিয়ে দেন প্রভসুখন। কিন্তু প্রভসুখন সময়ের আগেই লাইনের বাইরে চলে আসায় আবার নতুন করে পেনাল্টি শট নেন জিমেনেজ। এবার আর ভুল করেননি তিনি। ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় কেরালা। ৪৩ মিনিটে বিষ্ণুর শট পোস্টে না লাগলে সমতায় ফিরেই প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত ইস্টবেঙ্গল।
০-১ গোলে পিছিয়ে পড়েই দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন করেন অস্কার ব্রুজোঁ। জিকসনের পরিবর্তে সল ক্রেসপো আর রাকিপের পরিবর্তে নিশু কুমারকে নামিয়ে খেলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলায় আরও জাঁকিয়ে বসে কেরালা। রক্ষণের ভুলে আবারও প্রায় গোলের মুখ খুলেই ফেলেছিল কেরালা। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ব্যবধান বাড়াতে বেশি দেড়ি করেনি দক্ষিণের দল। এবার সেই নোয়া, যিনি অতীতেও লাল-হলুদ ব্রিগেডকে বেগ দিয়েছেন। এদিন প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে একক দক্ষতায় বাঁ পায়ের জোড়াল শটে যে গোলটি করলেন, তা এর পরের প্রতিপক্ষদের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিছু করার ছিল না প্রভসুখন সিং গিলেরও। অতিরিক্ত সময়ে নিশু কুমারের ভুলে গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারলেন নোয়া, না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। মরসুম শেষ হয়ে গেল, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের সমস্যা শেষ হল না।
সুপার কাপের প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগানের মুখোমুখি কেরালা ব্লাস্টার্স। একই দিনে সুপার ১৬-র ম্যাচ খেলার কথা ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু প্রতিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্স ফেডারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নাম তুলে নেওয়ায় সেই ম্যাচ বাতিল হয়ে যায় এবং বাই পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় মোহনবাগান। তবে সুপার কাপে আরও একটি ডার্বির স্বপ্ন মাঠেই রেখে ফিরতে হল সমর্থকদের। এক কথায় এই মরসুমের জন্য সব আসা শেষ হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, আনোয়ার আলি, লালচুংনুঙ্গা (সৌভিক চক্রবর্তী), হেক্টর ইউয়েস্তে, মহম্মদ রাকিপ (নিশু কুমার), জিকসন সিং (সল ক্রেসপো), পিভি বিষ্ণু, নাওরেম মহেশ সিং, রিচার্ড সেলিস (নন্ধা কুমার), মেসি বৌলি (ডেভিড), দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকোস
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
