Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ডুরান্ডের প্রথম সেমিফাইনাল যে উত্তেজনায় পৌঁছেছিল তার পর এই রাতে ঘুম আসবে না কোনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের নিশ্চিত। প্লেয়াররাও কি পারবেন এই উত্তেজনার রেশ কাটিয়ে উঠতে? একটা সময় পর্যন্ত ধরেই নেওয়া হয়েছিল হেরে বিদায় নিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। গ্যালারিতে তখন পিন পড়লেও শোনা যাওয়ার নিস্তব্ধতা। মুহূর্তে সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে খান খান করে দিল নন্ধা কুমারে হেড। শেষ বাঁশি বাজতে তখন আর বাকি এক মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল আট মিনিট। সেই আট মিনিটের এক মিনিট বাকি থাকতে সমতায় ফিরল ইস্টবেঙ্গল। বাঁধ ভাঙল গ্যালারির। কম-বেশি ২০ হাজার দর্শক অবশ্যই এদিন এসেছিলেন দলকে সমর্থন করতে। ডুরান্ড ফাইনাল-এ দলকে তুলেই বাড়ি ফিরলেন তাঁরা।

যদিও কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত বললেন, ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট নাওরেম মহেশের গোল। ৭৭ মিনিটের মহেশের গোল নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিলই। কারণ প্রতিপক্ষ প্লেয়ারের গায়ে লেগে গোলে গিয়েছিল সেই বল। তবে গোল মুখি শট হওয়ায় আত্মঘাতী গোল দেওয়া হয়নি। বরং নাওরেম মহেশের নামে লেখা হয়েছে সেই গোল। আর সেই গোলই ঘুরিয়ে দিল ম্যাচের মুখ। তার আগে পর্যন্ত সাইড লাইনে হতাশার বহিঃপ্রকাশের ফলে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গল কোচ ও তাঁর সাপোর্ট স্টাফকে। সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি নর্থ-ইস্ট কোচও। এদিন প্লেয়ারদের থেকে সাপোর্ট স্টাফরাই বেশি কার্ড দেখলেন।

ম্যাচ শেষে কুয়াদ্রাত বলছিলেন, ‘‘ফাইনালে প্রতিপক্ষ যেই থাকুক না কেন ম্যাচ আমাদের জন্য সহজ হবে না।’’ মোহনবাগানকেই চাইছে কিনা জানতে চাওয়া হলে দলের গোলকিপার প্রভসুখন গিল বলেন, ‘‘যেই আসবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে একই গেম খেলব।’’ যদিও ইস্টবেঙ্গল ফাইনালে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই ডুরান্ড কাপে আরও একটি ডার্বির স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে বাং‌লার ফুটবল ফ্যানরা। সারে চার বছর পর এই ডুরান্ড কাপেই ডার্বি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। তার পর থেকে একটিও ম্যাচ হারেনি এখনও। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকার কথাই এই দলের। তবে এদিনের খেলায় সেই প্রতিফলন ছিল না।

প্রশ্ন উঠছে কুয়াদ্রাতের দল নির্বাচন নিয়ে। যদিও তাঁর কাছে সহজ যুক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পর পর ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। দলের মধ্যে চোট আর কার্ড সমস্যা রয়েছে। সে কারণেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দল নামানোর চেষ্টা করা।’’ যদিও যে কারণে সৌভিক চক্রবর্তীকে বেঞ্চে রেখে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন সেটা কাজে লাগল না। এদিন দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরও একটি কার্ড দেখে ফাইনালে খেলা হচ্ছে না তাঁর।

এদিকে দুই গোল হজম করার পর টাইব্রেকারে নেমে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ ছিল প্রভসুখন গিলের কাছে। কিন্তু তিনি বলছেন, ‘‘আমি খুব ঠান্ডা মাথায় টাইব্রেকারে গিয়েছিলাম। নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছি।’’ সে কারণেই নর্থ-ইস্টের তৃতীয় গোল বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে সেই সেটা বাতিল করে নতুন করে শট নিতে বলেন রেফারি। যেটা গোলকিপারের জন্য বড় চাপ হলেও নর্থ-ইস্ট প্লেয়ার সেটা ক্রসবারে মারেন। সব মিলে কিছুটা ভাগ্য সহায় আর কিছুটা ভুল শুধরে দলকে নতুন করে চাগিয়ে দেওয়ার ফলেই হারা ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার মোহনবাগান-এফসি গোয়ার ম্যাচের পরই ঠিক হয়ে যাবে ফাইনালের প্রতিপক্ষ।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *