অলস্পোর্ট ডেস্ক: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-তে খেলছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাই ডুরান্ডের কোয়ার্টারফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পর সবুজ মেরুনের অনুশীলন কোনওসময় বন্ধ হয়নি। রুটিন মাফিক অনুশীলনের ফাঁকে ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়া ছাড়া। কিন্তু ডুরান্ডের সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবার এফসির বিরুদ্ধে হারের পর থেকে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলন এতদিন বন্ধই ছিল। সামনে কোনও খেলা নেই বলে। শনিবার থেকে লাল হলুদ ব্রিগেড আবার অনুশীলন শুরু করছে সুপার কাপকে সামনে রেখে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসিএল টু-র প্লে অফ খেলার লক্ষ্যে।
ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবল ঘিরে অচলাবস্থার কারণে ইস্টবেঙ্গল সহ অধিকাংশ আইএসএল ক্লাব তাদের অনুশীলন বন্ধ রেখেছে। কেউ কেউ আবার ক্লাবের কাজকর্মই বন্ধ রেখেছিল। এটাই স্বাভাবিক। কারণ ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ঠিক করে বলতে পারছে না কবে আইএসএল শুরু হবে নতুন বানিজ্যিক সহযোগী বা স্পনসর ঠিক করে। সেখানে ক্লাবগুলো কোন লক্ষ্য সামনে রেখে অনুশীলন চালিয়ে খরচ বাড়াবে অনর্থক। সামনে সুপার কাপকে খুড়োর কলের মতো ঝুলিয়ে রেখে ফেডারেশন ক্লাবগুলো মাঠে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও , সব কটি ক্লাবই ফেডারেশনের কাছে সুনিশ্চিতভাবে জানতে চায় আইএসএল কবে শুরু হতে পারে।
আপাতত সবেমাত্র এআইএফএফ ও বিড ইভালুয়েশন কমিটি বানিজ্যিক স্বত্ত্বের অধিকারী স্পনসর ঠিক করার জন্য গ্লোবাল টেন্ডার ডাকতে নামী এজেন্সি কেপিএমজিকে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা টেন্ডার ফ্লোট করবে ফেডারেশনের বানিজ্যিক সহযোগী খুঁজতে। এই বানিজ্যিক সহযোগীর ভূমিকায় এতদিন ধরে ছিল এফএসডিএল। তারাই আইএসএলের পরিচালনায় যুক্ত ছিল। কিন্তু মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট ইস্যু বিতর্কের জেরে এফএসডিএল সুপ্রিম কোর্টের সামনে নিজেদের যাবতীয় স্বত্ত্ব ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে নতুন বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করে কবে থেকে আইএসএল শুরু করতে পারবে, ফেডারেশন নিজেও জানে না। সবেচেয়ে বড় কথা, আইএসএল দূরে থাক, এখনও পর্যন্ত সুপার কাপের কোনও নির্দেষ্ট সূচী দিতে পারেনি ফেডারেশন।
আইএসএল ক্লাবগুলো এ কারণেই ফেডারেশনকে চিঠি লিগে আগেই জানিয়েছিল, তাদের বিড ইভালুয়েশন কমিটিতে রাখা হোক স্বচ্ছভাবে দ্রুত বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করতে। ফেডারেশন পাল্টা ক্লাবগুলোকে বলেছে, তারা আইএসএলে অংশগ্রহনকারী ক্লাবের প্রতিনিধির সঙ্গে বসবে, মতামত জানতে। এটা বানিজ্যিক সহযোগী চুড়ান্ত করতে সাহায্য করবে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, টেন্ডার ডাকলেও ফেডারেশনের চাহিদা মতো বানিজ্যিক সহযোগী হতে কে বা কারা রাজি হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। শেষপর্যন্ত যোগ্য বা আর্থিকভাবে সম্পন্ন বানিজ্যিক সহযোগী বা স্পনসর না পেলে, ঝামেলায় পড়বে ফেডারেশন। তখন তাদের গিয়ে এফএসডিএলেরই শরণাপন্ন হতে হবে পুনরায় আইএসএল সহ ঘরোয়া ফুটবলের সব টুর্নামেন্ট উতরে দিতে। এফএসডিএল এটাই তো চায় মনে মনে। নানা দিক থেকে আভাস মিলেছে, তলায় তলায় ঘুঁটি সাজাচ্ছে এফএসডিএল। সুপার কাপটা নমো নমো করে ফেডারেশন চেয়ে চিন্তে পার করে ফেললেও, ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১২তে আইএসএস শুরু করতে এফএসডিএলের সঙ্গে নয়া শর্তে চুক্তির পথে হাঁটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
একদিকে যেমন ফেডারেশনের বানিজ্যিক সহযোগী খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে, তখন আশা করা যায় আগামী সপ্তাহের কোনও একটা সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ফেডারেশনের সংশোধিত নয়া সংবিধান নিয়ে তাঁদের চুড়ান্ত রায় জানাবেন। জানালেই ভাল, নইলে সুপ্রিম কোর্টে ছুটি পড়ে গেলে, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশোধিত সংবিধানের বিষয়টি চুড়ান্ত করা সম্ভব না হলে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া নেমে আসবে ভারতীয় ফুটবলের ওপর। সেটা মোটেই ভাল ব্যাপার হবে না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
