ছবি: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ
আর্জেন্টিনা ৩ (অ্যালিস্টার, আলভারেজ, লওতারো) সুইজারল্যান্ড ১ (এনডোয়ে)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়ঃ কানসাসের মাটিতে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে খেলার ফল দেখে বোঝা যাবে না, গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় পেতে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথমে ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের দুরন্ত গোল। আর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজের গোলে সুইজারল্যান্ড বধ সম্পূর্ণ। তাও আবার একটা সময় ১০ জন হয়ে যাওয়া সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। আর সেকারণেই সুইজারল্যান্ড ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতিক্রিয়া, ‘ জানতাম আমাদের ভুগতে হবে। কারণ এটা আমাদের রক্তে আর ডিএনএতে আছে। আর এটাই বেশি শান্তি দেয়। খুশি করে।’ এই প্রথম চলতি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে মেসি গোল পেলেন না।
আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনির এমন ধরনের মন্তব্যের কারণ খুব পরিষ্কার। এর আগে কেপ ভার্দের সঙ্গে ম্যাচে ২ গোলের লিড খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল তাঁর দল। সংযুক্তি সময়ে গোল করে ম্যাচ জেতেন মেসিরা। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে পিছিয়ে থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে বসেছিল মেসিদের। সেখান থেকে অবিশাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৩ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন মেসিরা। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ মিনিটে করা ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে গিয়েও ৬৭ মিনিটে এনডোয়ের হেডে করা গোল হজম করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন স্কালোনির ফুটবলাররা। সুইজারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে যখন ম্যাচ, তখন ৭২ মিনিটে এমবোলো প্লেঅ্যাক্টিং করে দ্বিতীয় হলুদ ও লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ার পরও আর্জেন্টিনাকে জয়ের গোলের জন্য অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতায়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রথমে ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের গোলে ২-১ এগিয়ে যাওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দেন লওতারো মার্টিনেজ ১২০ মিনিটের অন্তিম লগ্নে।
নকআউট পর্যাযের ম্যাচ জেতাটা এত কষ্টকর কেন হচ্ছে এই প্রশ্নে স্কালোনির উত্তর, ‘ কাতার ২০২২য়েপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপ প্রাপ্তির অভিজ্ঞতা আমাকে ও আমার ফুটবলারদের অনেক বেশি পরিণত করেছে। লড়ে ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। বিশ্বকাপে কোনও প্রতিপক্ষ বা কোনও ম্যাচ সহজ নয়। কাতার বিশ্বকাপের সময় আমি বা আমার ফুটবলাররা এখনকার মতো অভিজ্ঞ ছিল না। তাই লড়াইটা আরও কঠিন ছিল। তবে এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। আর তাই প্রতিপক্ষ ম্যাচের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে চাপ তৈরি করলে বা খেলায় আমাদের বিরুদ্ধে গোল করলেও, ফুটবলাররা নিজেদের ফোকাস হারায়নি। সুইজারল্যান্ড আমাদের বিরুদ্ধে সমতা ফেরালেও খেলা থেকে হারিয়ে যায়নি আমাদের ফুটবলাররা। বরং ওরা শান্ত থেকে সুযোগের অপেক্ষায় থেকেছে জয়ের গোলের জন্য। হাল ছেড়ে দেয়নি কখনও।’
স্কালোনির মতে, ‘ সুইজারল্যান্ড শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। ওদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে পাঁচ থেকে ছটা পাস খেলা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। ওরা যেমন ফাঁকা জায়গা দিচ্ছিল না ডিফেন্সে, তেমন একের বিপক্ষে এক পরিস্থিতিতে ওদের হার মানানো সহজ হচ্ছিল না। তবে সেরা ছন্দে না থাকার দিনে আর্জেন্টিনার জয় এসেছে মূলত দলগত প্রচেষ্টার কারণে ও দলের গভীরতার জন্য। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররা অত্যন্ত কুশলী। ওরা ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। এর আগের ম্যাচেও সেটা ঘটেছে। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ঘটল। এটা দলের পক্ষে ভাল। ফুটবলারদের প্রশংসা প্রাপ্য। ওরা চাপ সামলে ম্যাচ জেতার চরিত্রটা মোক্ষম সময়ে বারবার তুলে ধরছে। আমার কৌশল ও পরিচালনায় বিশ্বাস রাখছে।’ মেসির গোল না পাওয়ার দিনেও জয় প্রাপ্তিটা সত্যি খুব স্বস্তির আর্জেন্টিনা শিবিরের কাছে।
স্কালোনি জানান, আর্জেন্টিনার সাফল্যের পিছনে একটা বড় কারণ সেটপিস কাজে লাগানোর ব্যাপারটা। বলেন, ‘ মেসির কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টার সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিল। অ্যালিস্টার দলের অন্যতম সম্পদ। সেটপিস স্পেশলিস্ট। আশা করি, ও আরও গোল করবে পরের ম্যাচগুলোতে।’
এই নিয়ে পরপর ৬টা গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। এবার আটলান্টায় তাদের সামনে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেনের দল একইরকম লড়ে হালান্ডের নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার হ্যান্ড অফ গড ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিল। আর এবার কি মেসির সোনায় মুড়ে দেওয়া পা জয় এনে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেবে? সুইজারল্যান্ড ম্যাচে মেসি গোল পাননি। তাহলে কি সেই গোলটা ইংল্যান্ড ম্যাচের জনয় জমিয়ে রাখলেন ফুটবলের রাজপুত্র। সময়ই বলবে সেকথা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
