অলস্পোর্ট ডেস্ক: আগের ভারতীয় কোচ মানোলো মারকোয়েজ জাতীয় দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুকে। জাতীয় দলের প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়াটা বড় মনে হত না গুরপ্রীতের, যদি না তাঁকে ভারতীয় দল থেকেই ছেঁটে ফেলা হত। তখনই তাঁর প্রশ্নটা মনে জাগে, তাঁর দিন কি তাহলে শেষ? নাকি, এটা একটা সাময়িক ধাক্কা? কিন্তু তারপরেও হাল ছাড়েননি গুরপ্রীত। ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের জন্য নিজেকে আরও বেশি করে তৈরি করেন। তার ফল পেয়েছেন। ফিরে পেয়েছেন ভারতীয় দলের এক নম্বর গোলকিপারের জায়গা।
গুরপ্রীতের মতে, ‘ ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এমন ঘটনা সকলের জীবনে ঘটে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা একটু হলেও আলাদা। কারণ আমার বয়সটা ২০ বা ২৩ নয়। বরং ৩৩। প্রচুর খেলা হয়ে গেছে। জাতীয় দলে অসংখ্য ভাল পারফরমেন্স দিয়েছি। তাই কিছুদিন আগেও ভারতীয় দলে নেতৃত্ব দেওয়ার পর শুধু প্রথম একাদশ থেকেই নয়, ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম, এটা কি আমার জন্য ঠিক হল? আমি কী খেলা ছেড়ে দেব? আমার কি আর কিছুই দেওয়ার নেই। নাকি আমার খেলা তাঁদের পছন্দ হচ্ছে না? অনেক চিন্তা মাথায় ভিড় করেছিল। বেশ অশান্তিতে ছিলাম। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছিল সেই মুহূর্তে। না, সেটা থেকে বিরত রেখেছিলাম নিজেকে। বরং সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এতে ভালই হয়েছে।’
গুরপ্রীতের এই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে থাকাটাই ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিল। মানোলো মারকোয়েজের জায়গায় খালিদ জামিল কোচের দায়িত্ব নিয়েই গুরপ্রীতকে জাতীয় দলে ফেরান। তাঁর সুফলও পেয়েছেন খালিদ কাফা নেশনস কাপে। ভারতীয় দলের ব্রোঞ্জ জয়ে গুরপ্রীতের অবদান অনস্বীকার্য। প্রথম ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ করে জয় এনে দেন। ইরান ম্যাচে ভারত ৩-০ গোলে হারলেও ব্যবধান আর বাড়েনি গুরপ্রীতের অসংখ্য সেভের জন্য। ওমানের বিরুদ্ধেও নির্ধারিত সময়ে গোল বাঁচানোর পাশাপাশি টাইব্রেকারের শেষ শট রুখে ভারতীয় দলকে ব্রোঞ্জ এনে দেন গুরপ্রীত। তাঁর ওপর আস্থা রাখার মর্যাদা দেন।
জাতীয় দলে কোচ খালিদের ডাকে প্রত্যাবর্তন অপ্রত্যাশিত মনে করেন না গুরপ্রীত। বলেন,‘ আমার ফর্ম কিন্তু কখনও খুব খারাপ ছিল না। অন্তত যেভাবে সমস্ত জায়গায় এটা তুলে ধরা হয়েছিল। ৩০টা ম্যাচের মধ্যে ৫ থেকে ৬টা ম্যাচের পারফরমেন্স আশানুরূপ হয়নি। বাকি ম্যাচে নিজের সেরাটাই দিয়েছিলাম। এমনকি জাতীয় দলের জার্সিতেও। ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ। আইএসএল সেমিফাইনালে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু জার্সিতে সেভগুলো লোকে মনে হয় দেখেনি। সুপার কাপে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে দারুন পারফরমেন্স কারও কি চোখে পড়েনি? তাই জানতাম আমি ফিরবই, প্রমাণ করব আমি ফুরিয়ে যাইনি। বরং এখনও অনেক কিছু দেওয়া বাকি আছে আরও। খালিদ স্যারকে আমি খুব একটা চিনতাম না। কেমন কোচ তা নিয়ে কোনও ধারনা ছিল না। তবে মনে মনে খুশি হয়েছিলাম, স্বস্তি পেয়েছিলাম খালিদ স্যার আমাকে জাতীয় দলে ডাকায়। নতুন করে আবার প্রমাণের সুযোগ দেওয়ায়। এতে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’
গুরপ্রীত জানিয়েছেন, ‘ভারতীয় দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার পিছনে সুনীল ছেত্রীর পরামর্শ ও নরওয়ের স্টাবেক এফসি দলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করতে যাওয়া কাজ দিয়েছে। সতীর্থ সুনীল বলেছিল হাল ছাড়ার মতো কিছু ঘটেনি। বরং জিমে যাও, মাঠে যাও, অতিরিক্ত প্র্যাকটিস কর। আমার জীবনেও এমন ওঠা পড়া এসেছে। আমি সেটাই ফলো করেছিলাম। স্টাবেক এফসি গিয়ে বাড়তি প্র্যাকটিস করি। এতে ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তাই খালিদ স্যার ভারতীয় দলে ডাকতে, খেলার সুযোগ দিতে নিজের সেরা দিতে সমস্যা হয়নি। খালিদ স্যারের সম্পর্কে এব্যাপারে কয়েকটা কথা বলতেই হয়। একজন ভারতীয় কোচকে এভাবে ফুটবলারদের সঙ্গে যেমন আলাদাভাবে কথা বলতে খুব কম দেখেছি, তেমন আবার গ্রুপ হিসেবে। ট্যাক্টিকালি খুব সাউন্ড। খালিদ স্যার নিজের কাজটা খুব ভাল বোঝেন। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে নিখুঁত বিশ্লেষণ করেন। কাফা নেশনস কাপ দলকে দারুনভাবে সংগঠিত করেছিলেন। তার সুফল মিলেছে।’
ভারতীয় দলে আরও একজনের প্রশংসা করেছেন গুরপ্রীত। তিনি হলেন সন্দেশ ঝিঙ্গান। গুরুপ্রীতের মতে, ‘ সন্দেশ ভাইয়ের মতো লিডারশিপ কোয়ালিটি খুব জনের আছে। তার থেকেও বড় কথা, ম্যাচ জেতার অদম্য মনোভাব। বারবার সতীর্থদের সন্দেশকে বলতে শুনেছি, জেতার জন্য খেলো। আমরা জেতার ক্ষমতা রাখি। সেটাই কাফা নেশনস কাপে পদক এনে দিয়েছে। দেশের বাইরে শেষবার কবে কোন ভাল মানের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারত পদক পেয়েছে, আমার মনে নেই। এটা সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে।’
তবে কাফা নেশনস কাপ পদক জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না গুরপ্রীত। তাঁর লক্ষ্য এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের বাকি ৪ ম্যাচে ভাল খেলা তুলে ধরা। মূল পর্বে যাওয়া নিশ্চিত করা। আপাতত বেঙ্গালুরু জাতীয় শিবিরে রয়েছেন গুরপ্রীত। প্রথম লক্ষ্য সিঙ্গাপুরের মাঠে ৯ অক্টোবর জেতা। তারপর ১৪ অক্টোবর ঘরে গোয়ার মাঠেও সিঙ্গাপুরকে হারানো। যাতে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে থাকে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
