মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় ফুটবল ফেডারশনের টেকনিকাল কমিটির চেয়ারম্যান আইএম বিজয়ন। ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কিংবদন্তী স্ট্রাইকার বিজয়ন ও তাঁর টেকনিকাল কমিটির সদস্যদের হাতে রয়েছে পরবর্তী ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ দলের কোচ নিয়োগের ভার।
২ জুলাই ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটি মানোলো মারকোয়েজকে ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার পর কোচের ওই আসন আপাতত খালি রয়েছে। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা নতুন কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশপাশি নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়টা পুরোপুরি টেকনিকাল কমিটির ওপরই ছেড়ে দেন সেদিনের বৈঠকে। সেইমতো ফেডারেশন বিজ্ঞাপন দিয়েছে। দেশি ও বিদেশি কোচেরা সেই বিজ্ঞাপন দেখে ভারতীয় কোচের পদের জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন। তাঁর মধ্যে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ূবে, সেটা সময়ই বলবে। ১৩ জুলাই আবেদনের শেষদিন। তারপর টেকনিকাল কমিটি সেই আবেদনপত্র দেখে একটা বাছাই তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দলের কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া সারবেন বিজয়নরা।
আবেদনকারীদের তালিকায় দেশির পাশাপাশি বিদেশি কোচরা থাকলেও , এমনকি বিজ্ঞাপনে নানা কোচিং অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যিক ভাবে লেখা থাকলেও, এই মুহূর্তে ফেডারেশনের পছন্দের তালিকায় ঘরের কোচই। টেকনিকাল কমিটির চেয়ারম্যান আইএল বিজয়নের গলাতেও সেই সুর। বিজয়ন ‘নিজের ঘরের’ ছেলেকেই চান। বলা ভাল, ঘরের কোচকেই চান ভারতীয় পুরুষ সিনিয়র দলের জন্য। ভারতীয় দলের নতুন কোচ বাছাইয়ের সময় সেটাই মাথায় রাখবেন তিনি বেশি করে। তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেদনকারীদের নাম, অভিজ্ঞতা ও তাঁরা মানোলোর মতো পার্টটাইম নয়, ফুলটাইম কোচিং করার মতো আগ্রহী কিনা জেনে নিতে চান ইন্টারভিউয়ের সময়।
ফোনে যোগাযোগ করলে বিজয়ন পরিষ্কার বলেই দিলেন, ‘ আমি কার্যকরী কমিটির গত বৈঠকে ছিলাম না। কিন্তু আগেই সভাপতি কল্যান চৌবেকে বলে দিয়েছি, আমার পছন্দ দেশি কোচ। বারবার নামী ও দামী বিদেশি কোচকে দায়িত্ব দিয়েও ভারতীয় দলের চেহারা, মান, অবস্থান কিছু বদলায়নি। বিদেশি কোচরা আসছেন, আর যাচ্ছেন, আমরা যে তিমিরে , সেই তিমিরেই থাকছি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের অবনতি ঘটেছে মানোলোর কোচিংয়ে। তাই বিদেশি কোচ আনলেই আবার সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে এমন নয়। রাতারাতি বিদেশি কোচেরা আমাদের বিরাট উন্নতির জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না। সেখানে আমার ঘরের কোচেদের দায়িত্ব দিতে ক্ষতি কী? এর আগে আমরা সুখী স্যার(সুখবিন্দার সিং), নঈম স্যারের( সৈয়দ নঈমুদ্দিন) কোচিংয়ে সন্তোষজনক ফল করেছিলাম। এখনকার মতো এত হতাশাজনক নয়। এইমুহূর্তে দেশে প্রোলাইসেন্স করা অনেক ভাল কোচ রয়েছে। তাদের যদি আমরা এখন কাজে না লাগাই, তাহলে কবে লাগাব? আর তাদের বসিয়ে রেখে লাভ কী? দেশি কোচেরা সুযোগ না পেলে নিজেদের প্রমাণ করবে কীভাবে? তাই আমার পছন্দ দেশি কোচ। এবার দেখতে হবে টেকনিকাল কমিটির বাকি সদস্যরা কী চায়? তার ভিত্তিতে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত’।’
আইএসএলে বিদেশি কোচদের ভিড়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন খালিদ জামিল জামশেদপুরের কোচ হিসেবে। টানা দু’বছর ফেডারেশনের বিচারে ভারতের সেরা কোচের তকমা জুটেছে খালিদের। এছাড়া ভারতীয় মহিলা সিনিয়র দলকে ২০২৬ অস্ট্রেলিয়া এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে পৌঁছে দিয়েছেন ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী। খালিদের মতোই ক্রিসপিনের ভূয়সী প্রশংসায় বিজয়ন। বলেই দিলেন, ‘ সুযোগ পেয়েছে বলেই ক্রিসপিন নিজের কোচিং দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারল। পুরুষ দলে এমন কেউ সুযোগ পেলে নিজের দক্ষতার জোরে ভারতীয় ফুটবল দলকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যেতেও পারে। সুনাম ও সম্মানের জায়গায়। সেই ভরসায় থাকতে ক্ষতি কী? ভারতীয় পুরুষ সিনিয়র দলের এখনও সুযোগ আছে ২০২৭ সৌদি আরব এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যোগ্যতার্জনের বাকি ৪ ম্যাচ জিতে। সেই চেষ্টা করে দেখতেই পারি, ভারতীয় কোচের হাতে দায়িত্ব দিয়ে। আশাবাদী আমি। ভাল কিছু নিশ্চয়ই হবে।’
ফেডারেশনের পছন্দের তালিকায় খালিদের নাম থাকলেও, তিনি এখনও পর্যন্ত ভেবে উঠতে পারেননি জামসেদপুর এফসির কোচের চেনা পরিবেশ, ফুটবলার ও নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে ভারতীয় দলের কোচিং করার চ্যালেঞ্জটা নেবেন কিনা। কারণ ভারতীয় পুরুষ সিনিয়র দল এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে যিনি কোচ হয়ে আসুন না কেন, ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে সাফল্যের আলোয় ফেরাতে না পারলে, তাঁকে মানোলোর মতোই তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে কোচিং জীবনপঞ্জীতে একটা কালো দাগ হয়ে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে খালিদ যদি দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, বলা ভাল আইএসএলের গ্ল্যামার ছেড়ে ভারতীয় কোচের কাঁটা বেছানো পথে হাঁটার ঝুঁকি না নিতে চান, তাহলে ভারতীয় অন্য কোনও কোচকে দেখা যেতেই পারে সুনীলদের অভিভাবক হিসেবে। সেই অপেক্ষাতেই থাকতে হবে আরও কিছুদিন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
