অলস্পোর্ট ডেস্ক: আগামী বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ভারতের গ্রুপ বিন্যাস নিয়ে অখুশি নন দলের কোচ ইগর স্টিমাচ । তাঁর মতে, ভারতীয় দল যে গ্রুপে রয়েছে, তা বেশ কঠিন। তবে এও জানিয়ে দেন যে, ওই গ্রুপে অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকাই তাঁদের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় আগামী বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের যে গ্রুপ বিন্যাসের পর জানা যায়, বাছাই পর্বে ভারতের গ্রুপে রয়েছে কাতার, কুয়েত ও আফগানিস্তান অথবা মঙ্গোলিয়া। ভারত যেহেতু এখন ফিফার বিশ্ব ক্রমতালিকায় প্রথম একশোর মধ্যে রয়েছে, তাই তারা সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে খেলবে। চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে। বাছাই পর্বে ভারতের গ্রুপে তাদের চেয়ে ক্রমতালিকায় ওপরে থাকা একমাত্র দল কাতার। বাকি দু’টি দল ক্রমতালিকায় তাদের চেয়ে নীচে রয়েছে। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে।
এই প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় স্টিমাচ বলেন, “বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ড্র আমাদের পক্ষে খুব একটা ভাল হয়নি। কাতার এশিয়ার অন্যতম সেরা দল। ওদের বিরুদ্ধে ম্যাচটা বেশ কঠিন হবে। তবে সম্প্রতি আমরা প্রমাণ করেছি এই ধরনের শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে আমরা খারাপ খেলি না। তিন নম্বর পাত্রের সেরা দল কুয়েতও আমাদের গ্রুপে রয়েছে। আফগানিস্তান বা মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধেও খেলতে হবে আমাদের। ওদের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি আমরা খেলেছি। তবে আমাদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান পেতেই হবে। আমাদের এর জন্য ভাল রকম প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সব মহলের কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য চাই আমাদের। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উঠতেই হবে আমাদের”।
গত বিশ্বকাপের ও আসন্ন এশিয়ান কাপের আয়োজক কাতার এখন বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৫৯ নম্বরে রয়েছে। ভারত রয়েছে ৯৯ নম্বরে। কুয়েত ১৩৭, আফগানিস্তান ১৫৭ ও মঙ্গোলিয়া ১৮৩ নম্বরে রয়েছে। প্রথম রাউন্ডে আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে লড়াইয়ে জয়ী দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে কুয়েতের একাধিকবার দেখা হয়েছে ফুটবল মাঠে। তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে এক ম্যাচে ড্র করে (শেষ মুহূর্তে নিজেদের অসাবধানতায় হওয়া নিজ গোলে) এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও অবশেষে টাই ব্রেকারে জেতে ভারত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত এ পর্যন্ত ন’বারের মুখোমুখিতে চারবার হারিয়েছে। একবার জিতেছে আফগানরা। বাকি চারবারই ড্র হয়েছে। গত বছর জুনে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ভারত তাদের হারায় ২-১-এ। সুতরাং পরিসংখ্যানও এগিয়ে রাখছে ভারতকে।
এ ছাড়াও আসন্ন এশিয়ান গেমসে খেলার জন্য ভারতীয় ফুটবল দলকে অনুমতি দিয়েছে দেশের সরকার। এই সিদ্ধান্তে খুবই খুশি স্টিমাচ। সেপ্টেম্বরের ২৩ থেকে অক্টোবরের ৮ তারিখ পর্যন্ত চিনের হাংঝোউয়ে এশিয়ান গেমসের আসরে ভারতের অনূর্ধ্ব ২৪ দল অংশ নেবে। তবে দলে তিনজন সিনিয়র ফুটবলারকেও রাখতে পারবে প্রতি দল। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের দলকেও এই আসরে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ছেলেদের বিভাগে ভারতের গ্রুপে রয়েছে আয়োজক চিন, বাংলাদেশ ও মায়ানমার। মেয়েদের বিভাগে ভারতের গ্রুপে রয়েছে চিনা তাইপে ও থাইল্যান্ড।
ছেলেদের বিভাগে বিশ্ব ক্রমতালিকায় অবস্থানের দিক থেকে গ্রুপে চিনের (৮০) পরেই ভারতের (৯৯) স্থান। মায়ানমার (১৬০) ও বাংলাদেশ (১৮৯) অনেকটাই পিছনে। তাই ভারত ঠিকমতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এশিয়ান গেমসেরও দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছতে পারে। ১৯৫০ ও ১৯৬২-তে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী, ১৯৭০-এ ব্রোঞ্জজয়ী ও ১৯৫৮-র সেমিফাইনালিস্ট ভারতীয় ফুটবল দল ২০১৪-য় শেষ এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। তার পরে ভারতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স ভাল না থাকায় দেশের সরকার তাদের এশিয়ান গেমসে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি ভারতীয় দল ভাল ফর্মে থাকায় কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত বদল করতে রাজি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে খুবই খুশি স্টিমাচ বলেন, “আয়োজক চিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটাই আমাদের তরুণ ফুটবলারদের কাছে সবচেয়ে কঠিন হবে। আশা করি এই ম্যাচে আমাদের ছেলেরা খুবই ভাল খেলবে এবং আমাদের দুই দলের ম্যাচটাই গ্রুপ সেরা নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ ও মায়ানমারও আমাদের মতো তরুণ ফুটবলারদের তাদের সিনিয়র দলের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ দেয়। ওদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি ওদের বিরুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে। আমার মনে হয়, গ্রুপে আমরা চিনকে হারিয়ে এক নম্বর জায়গাটা পেতে পারি। দলের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে আমি যথেষ্ট আশাবাদী”।
গত এক মাস ধরে যে দাপট নিয়ে ফুটবল খেলেছে ভারতীয় দল তার পরে অনেকেই এশিয়ান কাপে তাদের ভাল ফল করার ব্যাপারে ক্রমশ আশাবাদী হয়ে উঠছেন। এ বার আসন্ন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব এবং এশিয়ান গেমসের গ্রুপ তৈরি হওয়ার পরে এই প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী হওয়া যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
চলতি বছরে ভারত এ পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে ন’টিতে জিতেছে এবং দু’টিতে ড্র করেছে। অর্থাৎ এই বছরে এখন পর্যন্ত হারের মুখে দেখেনি ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচের প্রশিক্ষণাধীন ভারত। টানা আটটি ম্যাচে গোল না খাওয়ার পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে কুয়েতের বিরুদ্ধে গোল খান সুনীলরা, তাও আত্মঘাতী গোল। এমন ধারাবাহিকতা অনেকদিন দেখেনি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা। সে দেশের মাটিতেই হোক বা বিদেশে। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলে ফিফার বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৯৯ নম্বরে উঠে এসেছে ভারত। এই উন্নতিই আসন্ন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব ও এশিয়ান গেমসে ভারতকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাতে পারে।
(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
