অলস্পোর্ট ডেস্ক: যদি প্রশ্ন করেন, এএফসি এশিয়ান কাপ-এর নক আউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা কি আছে ভারতের? উত্তর, ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে, কিন্তু সে জন্য মঙ্গলবার ভারতকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে।
প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল তো সরাসরি শেষ ষোলোয় যাবেই। কিন্তু ‘বি’ গ্রুপে সেই দুটো জায়গা ইতিমধ্যেই দখল করে বসে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও উজবেকিস্তান, যাদের কাছে ইতিমধ্যেই হেরে বসে রয়েছে। কিন্তু সিরিয়া ভারতের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে তারা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করায়।
কিন্তু মঙ্গলবার আল খোরের আল বায়েত স্টেডিয়ামে যদি সুনীল ছেত্রীরা ফিফা ক্রমতালিকায় তাদের চেয়ে এগারো ধাপ এগিয়ে থাকা সিরিয়াকে হারাতে পারেন, তা হলে গ্রুপের তৃতীয় দলের জায়গায় বসবে ভারতই এবং তখনই আটটি গ্রুপের তৃতীয় স্থানাধিকারীদের মধ্যে সেরা চারের মধ্যে থাকার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই দৌড়ে ভারতীয়রা এগিয়ে থাকতে পারবে কি না, সে তো পরের কথা। কিন্তু তার আগে এই ম্যাচে জেতা ছাড়া আর কোনও রাস্তা তাদের সামনে নেই।
ভারতের যে রকম পরিস্থিতি, ঠিক একই রকম পরিস্থিতি সিরিয়ারও। তাই মঙ্গলবারের এই ম্যাচে দুই দলেরই লক্ষ্য একটাই, জয়। তাই ম্যাচটাও সে রকমই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ক্রমতালিকায় দুই দেশের অবস্থানের ফারাক খুব বেশি নয়, অস্ট্রেলিয়া বা উজবেকিস্তানের সঙ্গে যতটা ফারাক, ততটা তো একেবারেই নয়। তাই লড়াইটা সমানে সমানে হতে পারে।
ভারতের মতো সিরিয়াও এই টুর্নামেন্টে একটিও জয় যেমন পায়নি, তেমনই একটিও গোলও পায়নি। অথচ দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে অনেক। তাই গোল করার খিদে বা চেষ্টা, কোনওটারই ত্রুটি নেই দুই দলের। এমন দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই যে বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত যে রকম রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে, সে রকম ফুটবল খেলা ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় ছিল না। তাও বিশ্বকাপে নিয়মিত খেলা (গতবার শেষ ষোলোয়) একটা দেশকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখাটা বিশ্বের ১০২ নন্বর দলের পক্ষে যথেষ্ট কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও ভারত তা করে দেখিয়েছে। ফিফা ক্রমতালিকায় ৩৪ ধাপ ওপরে থাকা, ইংল্যান্ডকে হারানো উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধেও ভারত যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মক হয়ে দেখিয়ে দেয় যে তারা ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতেই কাতারে এসেছে।
একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। নাওরেম মহেশ সিংয়ের বক্সের মাথায় থেকে গোলার মতো শট, কেপি রাহুলের দুরন্ত হেড আটকাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে। সুনীল ছেত্রীও সে দিন গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তা কাজে লাগানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সে দিক থেকে দেখতে গেলে প্রতি ম্যাচে ভারত উন্নতি করছে।
এমনিতেই দলের তিন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে ছাড়াই ভারতকে এই টুর্নামেন্টে মাঠে নামতে হচ্ছে। আনোয়ার আলি, আশিক কুরুনিয়ান ও জিকসন সিং। তার ওপর সহাল আব্দুল সামাদকেও প্রথম দুই ম্যাচে বসিয়ে রাখতে হয়েছে। গত ম্যাচে খেলতে পারেননি লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেও। ফলে ভারত তাদের সেরা ফুটবল দেখানোর সুযোগও পায়নি।
তবে মঙ্গলবার সহাল, ছাঙতেকেও পাবেন বলে জানিয়ে দেন ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাচ। ফলে তাঁর দল আরও ভাল খেলবে, এমনই আশা করছেন তিনি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “কাল দুই দলের কাছেই জয় খুবই জরুরি। তাই ভাল খেলা হওয়ার কথা। ভাল মানের ফুটবল ও লড়াই হবে আশা করি। অবশেষে আমি হাতে পুরো দল পেয়েছি। তাই কোচ হিসেবে খুশি”।
গত দুই ম্যাচে ভারত পাঁচ গোল খেলেও সিরিয়া কিন্তু তাদের রক্ষণকে আঁটোসাঁটো রেখে একটির বেশি গোল খায়নি। শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ০-১-এ হারে তারা। কিন্তু ভারতের মতো গোল করার সমস্যা তাদেরও রয়েছে। এ পর্যন্ত দুই ম্যাচে ২২টি শট নিয়েও একটিও গোল করতে পারেনি তারা।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের ধারণা, “ওদের আগের দুই ম্যাচে যে ফল ওরা পেয়েছে, তার জন্য ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা শারীরিক ফুটবল খেলে ও ৪-৪-২ সিস্টেমে নিজেদের দলকে সঙ্ঘবদ্ধ রাখে। কিন্তু আমাদের মতোই সমস্যা ওদের। গোল করার সমস্যা। আমাদের মতো ওরাও অনেক গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু গোল করতে পারেনি”।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের ধারণা, “ওদের আগের দুই ম্যাচে যে ফল ওরা পেয়েছে, তার জন্য ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা শারীরিক ফুটবল খেলে ও ৪-৪-২ সিস্টেমে নিজেদের দলকে সঙ্ঘবদ্ধ রাখে। কিন্তু আমাদের মতোই সমস্যা ওদের। গোল করার সমস্যা। আমাদের মতো ওরাও অনেক গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু গোল করতে পারেনি”।
আরও গেমপ্ল্যান রয়েছে স্টিমাচের। যা নিয়ে তিনি রাখঢাক করতে চাননি। বলে দেন, “সিরিয়ার একটা ব্যাপার বেশ অদ্ভূত। ওদের রিজার্ভ বেঞ্চে কিন্তু বেশি খেলোয়াড় থাকে না। দু-তিন জনের বেশি পরিবর্ত খেলোয়াড় নামায় না ওরা। আমরা ওদের ক্লান্ত করে তোলার চেষ্টা করব এবং শেষ ৩০ মিনিটে দেখব ওরা কতটা তরতাজা থাকতে পারে”। অর্থাৎ, প্রথম এক ঘণ্টা রক্ষণ ও প্রতি আক্রমণের দিকে হয়তো বেশি জোর দেবে ভারত এবং শেষ দিকে প্রতিপক্ষ গোল না পেয়ে যখন কিছুটা হতাশ ও ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন ঘন ঘন ও দ্রুত আক্রমণে ওঠাক পরিকল্পনা নিয়েই সম্ভবত নামবে ভারত।
এই পরিকল্পনায় ঝুঁকিও কম না। প্রথমত, তাদের শেষ আধ ঘণ্টায় আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে এবং সিরিয়ার মতো শারীরিক ভাবে এগিয়ে থাকা দলকে এক ঘণ্টা ঠেকিয়ে রাখাও খুব একটা সোজা কাজ নয়। কিন্তু এশিয়ান কাপের মতো মহাদেশের সেরা টুর্নামেন্টে ভাল কিছু করে দেখাতে গেলে নিজেদের কমফর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে ঝুঁকি নেওয়াও দরকার। স্টিমাচের দলের ফুটবলাররা হয়তো সেই নীল নকশাই তৈরি করেছে।
তবে কোচের আশা, তাঁর দল যদি স্বাভাবিক ফুটবল খেলে ও তাঁর ফুটবলাররা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন, তা হলে এই ম্যাচে জিততে পারে তারা। প্রথম দুই ম্যাচ যেখানে হয়েছিল, শেষ ম্যাচ সেই আল রায়ানের আহমদ বিন স্টেডিয়ামে নয়, খেলতে হবে আল বায়েত স্টেডিয়ামে। ছবির মতো সুন্দর সেই স্টেডিয়ামে ভারতের ফলও সে রকমই আশা করছেন স্টিমাচ। বলেন, “আশা করি স্টেডিয়াম বদলানোর সঙ্গে আমাদের ভাগ্যেও পরিবর্তন আসবে”।
ম্যাচ: সিরিয়া বনাম ভারত
টুর্নামেন্ট: এএফসি এশিয়ান কাপ, গ্রুপ পর্ব
ভেনু: আল বায়েত স্টেডিয়াম, আল খোর
কিক অফ: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪, বিকেল ৫.০০
টিভি সম্প্রচার: স্পোর্টস ১৮
অনলাইন স্ট্রিমিং: জিও সিনেমা
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
