ছবি: এআইএফএফ
জাপান ১১ ভারত ০
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ ২০২৬য়ের ম্যাচে শেষমুহূর্তের গোলে হেরেছিল ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দল। সেই হারে কষ্ট ছিল, আক্ষেপ ছিল, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল মনীষা, সঙ্গীতা, গ্রেসদের কাছে। আশা ছিল, পার্থের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রবল শক্তিশালী জাপানের বিরুদ্ধে তাঁরা একটা তুলষমূল্য লড়াই দেবেন। কিন্তু যেটা হল, সেটা ভারতীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। জাপানের কাছে ০-১১ গোলে হারলেন মনীষা, সঙ্গীতারা। এতে ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলের ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস এঞ্জেলস অলিম্পিক্সে খেলার স্বপ্নে ইতি পড়ে গেল বললে ভুল হবে না।
একটাই প্রশ্ন করার আছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাদের কাছে। সেটা হল এশিয়ান কাপের ঠিক আগে কোস্তা রিকার মহিলা কোচ আমেলিয়া ভালভার্দেকে নিয়োগ করে কী লাভ হল? ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রীর হাত ধরে ভারতীয় মহিলা দল প্রথমবার সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতার্জন করেছিল। তাহলে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর ৩ মাস আগে বিদেশি কোচ নিয়োগের কী প্রয়োজনীয়তা ছিল? আমেলিয়া ভালভার্দে যে কোনও ম্যাজিসিয়ান নন, সেটা তো হাড়ে হাড়ে প্রমাণ পাওয়া গেল। ক্রিসপিন ছেত্রী কোচ থাকলে, এত খারাপ ফল হত বলে মনে হয় না। তাঁকে তো নিজেকে প্রমাণের আর সুযোগই দেওয়া হল না। বিদেশি কোচ নিয়োগের পেছনে ফেডারেশনের কর্তাদের কোন বুদ্ধি ও অভিসন্ধি কাজ করেছে, তার তদন্ত হওয়া জরুরি।
শনিবার বিশ্বের ৮ নম্বর স্থানে থাকা জাপানের মহিলা ফুটবলারদের আক্রমণের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যান ফিফা ক্রমতালিকায় ৬৭ নম্বরে থাকা ভারতীয় ফুটবলাররা। দু’বারের এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন জাপান প্রথম মিনিট থেকেই ভারতীয় দলকে কোনঠাসা করে ফেলে একের পর এক গোল চাপিয়ে যায়। বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল জাপান। দ্বিতীয়ার্ধে করে আরও ৭ গোল। ভারতীয় দল একবারও জাপান বক্সে ঢুকতে পারেনি, তাদের গোলে শট নিতে পারেনি। মনীষা, সঙ্গীতাদের কাছে এই ম্যাচ দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে সারাজীবন।
ম্যাচের ৪ মিনিটে ইউজুকি ইমামোতোর গোলে জাপানের ধ্বংসলীলা শুরু। শেষ হিনাতা মিয়াজাওয়ার হ্যাটট্রিক গোলে। মাঝে আরও একটি হ্যাটট্রিক করেন রিকো উয়েকি। ২ গোল আসে কিকো শেইকির পা থেকে। একটি করে গোল করেন ইউ হাসেগাওয়া ও মায়া হিজিকাতা।
১০ মার্চ ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে চাইনিজ তাইপের। শনিবার অন্য ম্যাচে ভিয়েতনামকে ১-০ গোলে চাইনিজ তাইপে হারানোয় নকআউটে পর্বে ভারতীয় দলের যাওয়ার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা জেগে আছে। তিনটি গ্রুপ থেকে ২ টি করে দল নকআউটে যাবে। এর সঙ্গে তিনটি গ্রুপের মধ্যে সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ আছে। জাপান ইতিমধ্যেই নকআউটে চলে গেছে ভারতের গ্রুপ থেকে।
তবু এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হয়ে ভারতের নকআউটে অর্থাৎ কোয়ার্টারফাইনালে যাওয়ার সুযোগ আছে, যদি শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে জাপান হারায় আর ভারত ২ গোলের বেশি জয় পায় চাইনিজ তাইপের বিরুদ্ধে। তৃতীয় সেরা হয়েও কোয়ার্টারফাইনাল যেতে পারেন মনীষা, সঙ্গীতারা, যদি চাইনিজ তাইপেকে হারায় ভারত, আর জাপান পয়েন্ট নষ্ট করে ভিয়েতমানের বিপক্ষে। একইসঙ্গে ভারতকে তখন তাকিয়ে থাকতে হবে ৮ মার্চ ইরান-ফিলিপিন্স ও ৯ মার্চ বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান ম্যাচের ফলের জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
