Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ক্লাবজোটের পক্ষে ১৩ টি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি এআইএফএফ কমিটির কাছে ৫ দফা শর্ত রাখায় আইএসএল ঘিরে অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব হয়নি শুক্রবার পর্যন্ত। জামশেদপুর এফসি ছাড়া সব শেয়ালের এক ডাকের মতো বাকি ক্লাবগুলো জানিয়েছে, ৫ দফা শর্ত মানলে , তারা আইএসএলে অংশগ্রহণ করতে রাজি। তার মধ্যে অন্যতম হল আইএসএলের বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করে আর্থিক নির্ভরতা নিশ্চিত করা। বাড়তি ব্যয়ের বোঝা এড়াতে ক্লাবগুলো ২০২৫-‌২৬ মরশুমে কোনও অংশগ্রহণের ফি দেবে না। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত করা আইএসএলের পরবর্তী মরশুমগুলোতে স্থায়িত্ব আনতে।

এআইএফএফ কমিটিকে পাল্টা প্যাঁচে ফেলতে এটা যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ ক্লাবগুলো নিজেরা আইএসএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল এআইএফএফের কাছে। সেটা মানেনি ফেডারেশন। খুব স্বাভাবিকভাবেই। কারণ সেই প্রস্তাব মানলে এআইএফএফের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিত। ক্লাবের দেওয়া প্রস্তাব খারিজ হতেই সেটা ইগোয় নিয়েছে ক্লাবজোট। তারা এবার এআইএফএফ কমিটির দেওয়া প্রস্তাবে সায় দেওয়ার বদলে নতুন শর্ত আরোপ করেছে। বুঝতে অসুবিধা এর পেছনে এতকালের আইএসএল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এফএসডিএলের খেলা আছে। তারাই নাকি ক্লাবগুলোকে ইন্ধন জোগাচ্ছে এআইএফএফকে নাজেহাল করে লিগ পরিচালনার দায়িত্বটা আবার নিজেদের দখলে নিতে। এতে জট ছাড়ার লক্ষন নেই। বরং মাঠে বল গড়ানোটা ক্রমশ পিছিয়েই চলেছে।

এই ইগোর লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ফুটবলাররা ও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত থাকা মানুষরা। তাদের রুটি রোজগার থমকে গেছে। ভারতীয় ফুটবল বাঁচাতে তাই দেশি ও বিদেশি ফুটবলাররা শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন। ফিফার উদ্দেশ্যে দেওয়া এই পোস্টে মূলত বক্তব্য রেখেছেন ভারতীয় ফুটবল দলের আইকন সুনীল ছেত্রী, অধিনায়ক সন্দেশ ঝিঙ্গান, গোলকিপার গুরপ্রীত সিং, অমরিন্দার সিং, সুরেশ, রাহুল বেকে, প্রীতম কোটাল, ছাংতে, হুগো বুমোস প্রমুখ। তাঁরা দ্রুত এই অবলাবস্থা কাটাতে ফিফার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

পোস্টে তাঁদের মূল বক্তব্য হল,‌ এটা ২০২৬ সালের জানুয়ারি। এইসময় আমাদের ভিডিও স্ক্রীণে নয়, ফুটবল মাঠে আইএসএলের প্রতিযোগিতামূলক খেলার মধ্যে দেখার কথা ছিল। তার বদলে এখন আমরা এমন একটা অবস্থার মাঝে রয়েছি, যাতে ভয় ও হতাশা গ্রাস করছে। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না কারও সকলের মনের অবস্থা কী। তাই আমরা একটা আবেদন নিয়ে হাজির হয়েছি এই পোস্টে। ভারতীয় ফুটবল এখন আর তাদের দায়িত্ব পালনে অক্ষম। একটা ঘোর অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছি সকলে। এটাই আমাদের শেষ চেষ্টা ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচাতে। আমরা ফিফার কাছে আবেদন রাখছি, ভারতীয় ফুটবল বাঁচাতে এগিয়ে আসতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। এটাই এখন আমাদের বড় ভরসা। আশা করি আমাদের এই বার্তা জুরিখের কর্তাদের কানে পৌঁছবে। এই পোস্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। কোনওরমক সংঘাতে রাস্তায় হাঁটার নয়। এটা অত্যন্ত জরুরি একটা বার্তা ভারতীয় ফুটবল ও ফুটবলের সঙ্গে মানুষদের বাঁচাতে। এটা হয়ত শুনতে একটু বেশি মনে হবে, কিন্তু এটাই সত্য আমরা মানবিক ও আর্থিক সমস্যায় ভুগছি প্রবলভাবে। আর এর হাত থেকে দ্রুত নিস্তার পাওয়া প্রয়োজন। ফুটবলার, স্টাফ, ক্লাব মালিকদের জন্য ভারতীয় ফুটবল ঘিরে স্বচ্ছ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি। আমরা ফুটবলটা মাঠে নেমে খেলতে চাই। সেটা যাতে পারি, তার জন্য ফিফা যেন সর্বোতভাবে সাহায্য করে।

ফুটবলারদের এই বার্তায় ফিফা কতটা নড়েচড়ে বসে সেটা সময়ই বলবে। তবে ইতিমধ্যেই এআইএফএফ কমিটি ক্লাবজোটের দেওয়া শর্তগুলো খতিয়ে দেখার পর নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছিল। একটি খসড়াও রিপোর্টও তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে পেশ করতে। সেটা শুক্রবার রাতেই চুড়ান্ত করে এআইএফএফের সভাপতির হাতে তুলে দিয়েছে। যাতে সেটা ৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ও ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টেও জমা করা যায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে। এআইএফএফ কমিটি জোর চেষ্টা করছে, ক্লাবজোটের শর্ত মেনে এমন একটি সমাধানের রাস্তা বের করতে যাতে আইএসএলটা শুরু করা যায়। এআইএফএফ লিগ পরিচালনা ও রেফারিং সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ বহন করতে বানিজ্যিক সহযোগী চুড়ান্ত করার পথে হাঁটার কথা ভেবেছে। যদিও ইতিমধ্যেই ৮ ডিসেম্বর এফএসডিএলের সঙ্গে এমআরএ চুক্তি ছিন্ন হয়ে যাওয়ার নতুন আর্থিক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ঘাটতির মুখে পড়েছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *