Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
ভারতীয় ফুটবল দল

অলস্পোর্ট ডেস্ক: চলতি বছরে ভারতীয় ফুটবল দল যে ফর্মে রয়েছে এবং গত এক মাসে তাদের যে উন্নতি দেখা গিয়েছে, তা দেশের ফুটবল মহলকে রীতিমতো আশাবাদী করে তুলেছে। আগামী জানুয়ারিতে কাতারে এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ভারতকে লড়তে হবে এশিয়ার তাবড় ফুটবল শক্তির বিরুদ্ধে। সেখানে ভারত কতটা এগোতে পারবে, তা নিয়ে অনেকেরই মনে সন্দেহ ছিল। কিন্তু গত এক মাস ধরে যে দাপট নিয়ে ফুটবল খেলেছেন সুনীল ছেত্রী ও তাঁর সতীর্থরা, তার পরে অনেকেই এশিয়ান কাপে ভাল ফল করার ব্যাপারে ক্রমশ আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

ভারত এর আগে আটবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও কুয়েতের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। নবম সাফ জয়ের পর বাড়তি উল্লাস ও আনন্দ বোধহয় সেই কারণেই। এর আগে ২০১০-এ ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ৯-১-এ ভারতকে হারিয়েছিল এই পশ্চিম এশীয় দেশ। তার আগে ১৯৭৮-এর এশিয়ান গেমসে ৬-১-এ জেতে কুয়েত। সেই সব দিনের তুলনায় যে দেশের ফুটবল অনেক এগিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পেরেই এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ফুটবল মহলে। সম্প্রতি ফিফা ক্রমতালিকায় একেবারে কাছাকাছি থাকা দল লেবাননকেও ভারত তিনবারের মুখোমুখিতে যে ভাবে দু’দু-বার হারিয়েছে ও একবার ড্র করেছে, তার কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

ভারতীয় দলের এই মানসিকতা বদলে যে তাদের হেড কোচ ইগর স্টিমাচের যথেষ্ট অবদান রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দলকে সাফ চ্যাম্পিয়ন করার পরই নিজের দেশ ক্রোয়েশিয়ায় উড়ে যান স্টিমাচ। দেশের হয়ে ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তিনি এবং সেই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল কিংবদন্তি দাভর সুকেরের ক্রোয়েশিয়া। সেই আগ্রাসন এখন ভারতীয় দলে আনতে চাইছেন স্টিমাচ। দেশে ফেরার ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই ভারতীয় দলের এখন সমান তীব্রতার সঙ্গে ১২০ মিনিট খেলে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, “ছেলেদের মানসিকতা পুরো বদলে গিয়েছে। ওরা এখন টানা ১২০ মিনিট সমান তীব্রতার সঙ্গে খেলে যেতে পারে। এটা খুব ভাল ইঙ্গিত”। সর্বভারতীয় দৈনিক ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তবে এই সাফল্য নিয়েই থেমে থাকতে রাজি নন তিনি। বরং এই সাফল্যের কথা ভুলে দলকে আরও কঠিন ও পরিশ্রমী করে তুলতে চান। ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’-কে দেওয়া আর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, “আগামী কয়েকদিনে আমি দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করব। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কথা এখন আর মনে নেই আমার। ফুটবল দর্শক হিসেবে ব্যাপারটাকে দেখলে তো চলবে না। এর পরে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের, তা একেবারে ভিন্ন হতে চলেছে। সে জন্য নিজেদের কঠোর ভাবে প্রস্তুত করতে হবে।”

আগের মতো লম্বা পাসে খেলার বদলে ভারতীয় দল ইদানীং পিছন থেকে ছোট ছেট পাসে আক্রমণ তৈরিতে বেশি জোর দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের গোল এরিয়ায় গিয়ে সুযোগের অপেক্ষাতেও থাকে তারা এবং সুযোগ পেলে তা হাতছাড়া না করার প্রবণতা নিয়েই মাঠে নামেন ভারতীয় ফুটবলাররা। তবে রাতারাতি এই মানসিকতায় পরিবর্তন করা যায় না বলে মনে করেন স্টিমাচ। দলের ফুটবলারদের এই মানসিকতাকেই আগামী দিনে কাজে লাগাতে চান তিনি।

“খেলার স্টাইল যথাসম্ভব দ্রুত বদলানোর চেষ্টা করেছি আমরা। সেজন্য বিভিন্ন টেকনিকের ফুটবলারদের খোঁজে ছিলাম। প্রথম দু’বছর সেরা ফুটবলারদের একটা পুল তৈরি করেছি আমরা। এখন আমাদের পুলে ৩০-৩৫ জন এমন ফুটবলার রয়েছে, যাদের মানে খুব একটা তফাৎ নেই। তাদের চোট-আঘাত সামলানোর বিষয়টাতেও সমান ভাবে নজর দেওয়া হয়”।

চার বছর আগে যখন ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি, তখন থেকেই এই পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন বলে দাবি করেন স্টিমাচ। তবে অস্ট্রেলিয়া, সিরিয়া, উজবেকিস্তানের মতো দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার জন্য এখনও অনেক দূর যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি। জানুয়ারিতে এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে তাদের এই দলগুলির বিরুদ্ধেই লড়াই করে প্রথম রাউন্ডের গণ্ডী পেরোতে হবে। যা ভারত এর আগে কখনও করে দেখাতে পারেনি।

এই ব্যাপারে সুনীল ছেত্রীদের হেড কোচ বলেন, “গত চার বছরে আমরা যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা করে দেখিয়েছি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলা দলকে এবং উজবেকিস্তান, সিরিয়াকে হারাতে গেলে যে উচ্চতায় পৌঁছনো দরকার, সেখান থেকে এখনও অনেক দূরে আছি আমরা। কিন্তু এ বার সেই প্রস্তুতিও শুরু করার পরিকল্পনা শুরু করতে হবে”।

গত এক মাসে ভারতীয় দল ন’টি ম্যাচ খেলেছে, যা ভারতীয় ফুটবলের অতীতে কমই দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে ক্লান্তির ছাপ বা হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা দেখা যায়নি। দলের ছেলেদের ফিটনেসের প্রশংসা করে স্টিমাচ ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বলেন, “গত দু’মাসে আমাদের দলের ছেলেরা কখনও মাঠে শুয়ে পড়েনি বা বারবার বিশ্রামের জন্য অনুরোধও করেনি। ছেলেদের কোনও চোট হয়নি এবং কারও পেশীতে টানও ধরেনি। মাঠে যাই করি না কেন, সে জন্য খেলোয়াড়দের সেই স্তরের ফিটনেস জরুরি”।

তবে স্টিমাচকে বারবার একটা ব্যাপারে একমত হতে হয়েছে যে, সুনীল ছেত্রীই এই দলটার নিউক্লিয়াস। ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি আর কতদিন ভারতীয় জার্সি গায়ে খেলতে পারবেন, এটা যেমন একটা বড় প্রশ্ন, তেমনই তাঁর পর কে এই জায়গাটা নিতে পারবেন, তা আরও বড় প্রশ্ন। তবে স্টিমাচের ধারণা, সুনীল এখনও একাধিক বছর খেলতে পারবেন।

অবিশ্বাস্য হলেও স্টিমাচ নিজেই এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “সুনীলের মধ্যে খিদেটা জিইয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করার চেষ্টা করি। যাতে ও যথাসম্ভব বেশি দিন খেলতে পারে। গত দু’বছরে যখন ওর ফর্ম পড়তির দিকে ছিল, যখন ওকে সাইড লাইনের ধারে বসিয়ে রাখতে হত, তখনও চেষ্টা করে গিয়েছি, যাতে ও এখনই খেলা ছেড়ে না দেয়”।

দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে নিয়ে স্টিমাচ আরও বলেন, “আমি চাই, অন্তত আমি যতদিন ভারতীয় দলের সঙ্গে আছি, ততদিন যেন সুনীল খেলে যায়। যে দিন থেকে ভারতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছি, সে দিন থেকে ওর বয়স নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। কিন্তু ওর ফিটনেস, খিদে, আবেগ, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাই তো আসল। ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ও। ওর পরিসংখ্যানই সে কথা বলে দেয়। কেন ওর অবসর নিয়ে আমি চিন্তা করতে যাব। বরং আমি পারলে আমি ওকে আরও পাঁচ বছর খেলতে দেখতে চাই। সে জন্য যতটা সাহায্য করার, আমি অবশ্যই করব”। তবে সত্যিই ভারতীয় ফুটবল সুনীল ছেত্রীকে এতদিন পাবে কি না, সেটাই দেখার।

(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *