অলস্পোর্ট ডেস্ক: প্লেঅফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারায় এইনিয়ে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূল পর্বে নেই ইতালি। কিন্তু সেই ইতালির সামনে ঘুরপথে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এসে যেতে পারে। বলতে গেলে ইতালির কপালে শিকে ছিঁড়তে পারে, ইরান শেষপর্যন্ত ফিফার কথায় মেনে নিয়ে আমেরিকার মাঠে তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না গেলে। ইরান এখনও জেদ ধরে আছে, তাদের ম্যাচ আমেরিকার বাইরে অন্যত্র না সরালে, তা বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। ফিফারও সাফ কথা, ইরানের অনুরোধ কোনওমতে রাখা সম্ভব হবে না, তাদের ফুটবল দলকে আমেরিকার মাটিতেই খেলতে হবে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় বিপর্যন্ত ইরান। পাল্টা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারাও। এমন একটা পরিস্থিতিতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ ডোনিয়ামালি বলেছেন, ‘ যেখানে দেশের মানুষের জীবন বিপন্ন, শ’য়ে শ’য়ে নিরীহ শিশুর প্রাণ কাড়ছে আমেরিকা, সেই রক্তমাখা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার মতো মানসিক অবস্থা ইরানের ফুটবলারদের নেই। এরপর ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে ইরানের প্রশাসন আরও ক্ষেপেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ আমি ইরানকে আমেরিকায় খেলতে আসতে নিষেধ করছি না। তবে এসময় ওদের না আসাই ভাল। ওদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া ঝুঁকির হয়ে যাবে।’
ট্রাম্পের এই দ্বিচারিতার বক্তব্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী ডোনিয়ামালি। তাঁর বক্তব্য, ‘একদিকে ট্রাম্প বিশ্বকাপে অংশ নিতে বলছেন। আবার এইসঙ্গে বলছেন ফুটবল দলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন না। এটা কি মজার বিষয় নাকি? ফিফার কাছে এই কারণেই আর্জি জাননিয়েছি, আমাদের ম্যাচ মেক্সিকোতে দিতে।’
একটা সময় পর্যন্ত ইরানের আবেদন মতো মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবুম বলছিলেন, ফিফা চাইলে তাঁরা ইরানের ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু তিনিও এখন তাঁর মত বদলে ফেলেছেন ফিফার কড়া স্ট্যান্ডের পর। শিনবুমের এখনকার প্রতিক্রিয়া, ইরানকে তাদের ম্যাচ আমেরিকার মাঠেই খেলতে হবে। অন্তত ফিফা যেমনটি চায়।’
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দৃঢ় বিশ্বাস ইরান বিশ্বকাপের ম্যাচ আমেরিকার মাঠেই খেলবে। বলেছেন, ‘ আমি নিজে ইরানের ফুটবল দলের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। ওদের কোচ ও ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের মুখে আমেরিকায় খেলা নিয়ে কোনও ভীতির কথা শুনিনি, আপত্তি দেখিনি।’
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী ডোনিয়ামালি কিন্তু এখনও কোনও পাকা কথা দেননি আমেরিকায় গিয়ে খেলার ব্যাপারে। বরং ব্যাপারটা ঝুলিয়ে রেখে বলেছেন, ট্রাম্প সরকার ফুটবল দলের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস না দিলে, ওখানে খেলতে যাওয়ার প্রশ্ন নেই।’ ট্রাম্পের তরফে এখনও তেমন কোনও আশ্বাস মেলেনি। ইনফান্তিনো অবশ্য তাঁর ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের থেকে সেই আশ্বাস আদায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেষপর্যন একান্তই যদি ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বিকল্প পথে হাঁটতেই হবে ফিফা। ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা। সেক্ষেত্রে ইরানের বিকল্প পেতে ইওরোপের দুটি ও এশিয়ার দুটি দলের মধ্যে প্লেঅফ ম্যাচের ফাইনালের ব্যবস্থা করতে পারে তারা। সেই প্লেঅফ ফাইনাল জিতে ইতালির বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এসে যেতে পারে সেক্ষেত্রে। তবে সবটাই নির্ভর করছে, ইরান যদি আদৌ বয়কটের পথে হাঁটে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
