ছবি: আইএসএল
জামশেদপুর এফসি ১(মাদি তালাল) মহমেডান ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায় : জয় দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করল জামশেদপুর এফসি। রবিবার জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামের মাঠে মহমেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে। শুধুমাত্র ঘরের ছেলেদের নিয়ে লড়ে সাদা কালো ব্রিগেডের আইএসএলে এবার অবনমন বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে।
শক্তির পার্থক্য থাকলে যা হয়, সেটাই দেখা গেছে মহমেডানের খেলায়। প্রস্তুতিও সেভাবে হয়নি সাদা কালো ব্রিগেডের। তাই মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশিহীন দল যে জামশেদপুরের মতো হেভিওয়েট দলকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারবে না, এটা জানাই ছিল। ফলে ওয়েন কোলের কোচিংয়ে শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠে ৯ মিনিটে গোল তুলে নিতে সমস্যা হয়নি জামশেদপুরের। মাঝমাঠে প্রণয় হালদারের বাড়ানো বল সামনে মাদি তালালের পায়ে গেলে তিনি মহমেডান গোল লক্ষ্য করে শট নেন বক্সের বাইরে থেকে। তালালের শট মহমেডানের গৌরব বোরার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলকিপার শুভজিতকে বোকা বানিয়ে তাঁর বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে জালের ভেতর জড়িয়ে যায়।
২০২১-২২ মরশুমে জামশেদপুর এফসির কোচের ভূমিকায় আইএসএল শিল্ড জিতেছিলেন ওয়েন কোল। তিনি আবার চলতি মরশুমে জামশেদপুর কোচের ভূমিকায়। জামশেদপুর ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবার এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা ৪জন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছেন মরশুমের জন্য। এঁরা হলেন স্টিফেন এজে, লাজার সিরকোভিচ, প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরি। মহমেডানের বিরুদ্ধে ভারসাম্যমূলক দল নামিয়েছিলেন ওয়েন কোল ৪-২-৩-১ ছকে মেসি বাউলিকে সামনে রেখে। মাদি তালালকে একটু পেছন থেকে খেলিয়ে। তাতেই মহমডান রক্ষণ সারাক্ষণ চাপে ছিল।
সীমিত সাধ্যের মধ্যে মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিনের কাছে বেশি কোনও বিকল্প ছিল না জামেশদপুরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক খেলার। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ঘর বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে ৪-১-৪-১ ছকে দল নামিয়েছিলেন। এতে জামশেদপুর ম্যাচের শুরু থেকেই ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পেয়ে যায়। তাতেই ৯ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে মহমেডান। মেসি বাউলি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে বিরতির আগেই গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারত জামশেদপুর। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি বাউলি ও মাদি তালাল একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ। উল্টে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি ঋত্বিক দাস বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লে, মহমেডানের গৌরব বোরা ট্যাকল করতে পা বাড়িয়েছিলেন। ঋত্বিক বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বক্সের ভেতর পড়ে গেলে জামশেদপুরের ফুটবলাররা পেনাল্টির জোরালো দাবি জানান। কিন্তু রেফারি হরিশ কুন্ডু পেনাল্টির দাবি মানেননি, ঋত্বিক ফলস ডাইভ দিয়েছেন এই যুক্তিতে। আর সেই অপরাধে ঋত্বিককেই হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে মহমেডানের মহীতোষ রায়ের দূরপাল্লার শট জামশেদুপর গোলকিপার আলবিনো গোমসকে খানিকটা অস্বস্তিতে ফেলে পোস্টের পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এছাড়া সাদা কালো ব্রিগেডের পক্ষে বলার মতো উল্লেখযোগ্য কিছু নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
