Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ঘরের শত্রু বিভীষণ বলে একটা কথা চালু আছে। বাংলার কোচ সঞ্জয় সেনের ক্ষেত্রে সেটাই এখন হতে চলেছে। জাতীয় দলের চিফ কোচের পদের জন্য ফেডারেশনের কাছে আবেদন করেছেন বাংলার অন্যতম সফল কোচ সঞ্জয়। একটা সময় পর্যন্ত তিনি ভারতের কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়েও ছিলেন। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অ্যাডভাইসার হিসেবে থাকা দুই বর্ষীয়ান কোচ বিমল ঘোষ ও আর্মান্দো কোলাসো ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দলের কোচের পদে খালিদ জামিলকে নিয়োগের সুপারিশ করেছেন জোরালোভাবে। এতে সঞ্জয়ের কপাল আরও একবার পোড়ার সম্ভাবনা। গতবারও তিনজনের সর্বশেষ বাছাই তালিকায় থেকেও সঞ্জয়কে পেছনে ফেলে কোচ হয়ে যান মানোলো মারকোয়েজ।

এবার মানোলো মারকোয়েজের বিদায়ের পর ভারতীয় ফুটবল দলে নতুন কোচ নিয়োগের জন্য যখন বিজ্ঞাপন দেয় ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, তখন শুরুতে জামশেদপুর এফসির কোচ খালিদ জামিল ভারতের কোচ হওয়ার ব্যাপারে কোনও আগ্রহ দেখাননি। তার পেছনে বড় কারণ ছিল জামশেদপুরের কোচের নিশ্চিন্ত জীবন ও ভবিষ্যত। আইএসএলে জামশেদপুরের কোচ হিসেবে পরপর দু’‌বছর ফেডারেশনের বিচারের বর্ষসেরা কোচের স্বীকৃতি পেয়েছেন খালিদ। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ দলের বর্তমান যা হাল ও পারফরমেন্স, তাতে দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ, নিজের সুনাম ও সম্মান খোয়ানোর ঝুঁকি নেওয়া।

ইতিমধ্যেই সুনীলরা এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের প্রথম দুটি ম্যাচে খারাপ পারফরমেন্স করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ঘরের মাটিতে প্রথম ম্যাচে ড্র ও দ্বিতীয় ম্যাচের হংকংয়ের মাঠে হেরে রীতিমতো চাপে রয়েছেন। বাকি ৪ ম্যাচের আর একটিতেও পয়েন্ট খোয়ালে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে যাবে ভারত। এই পরিস্থিতিটা কোনও নতুন কোচের পক্ষেই অনুকূল নয়। খালিদের তাই শুরুতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন কোচের পদে আবেদন করা নিয়ে।

কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি খালিদকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে জাতীয় দলের কোচের পদে আবেদন করতে। ফেডারেশনের টেকনিকাল কমিটির চেয়ারম্যান আইএম বিজয়ন শুরু থেকেই বলে আসছেন, তাঁরা এবার আর কোনও বিদেশি কোচ নিয়োগের পক্ষপাতী নন, ঘরের কোচের ওপরই আস্থা রাখছেন। নতুন কোচ নিয়োগের সময় সেটাই মাথায় রাখবেন। তাই ১৭০ জনের মতো দেশি ও বিদেশি কোচের আবেদন পত্র জমা পড়লেও, বিজয়নদের প্রথম পছন্দ দেশি কোচ। খালিদ জামিল যেহেতু গোড়ায় আবেদন করতেই রাজি ছিলেন না, সেহেতু কোচ হওয়ার দৌড়ে সঞ্জয় অন্যদের থেকে সামান্য হলেও এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু তারপরই মোড় ঘুরেছে ফেডারেশনের একাংশ, দুই বর্ষীয়ান কোচ বিমল ও আর্মান্দোর অনুরোধ, আশ্বাস ও সুপারিশে। খালিদ তারপর আবেদন করেছেন।

আসলে আইএসএল ঠিক কবে শুরু হবে, সেটা কারও এখনও জানা নেই। যা অবস্থা, তাতে নভেম্বরের আগে তো শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না। আর সেকারণে জামশেদপুর কোচের ভূমিকায় আইএসএল শুরু না হওয়ার পর্যন্ত খালিদের সামনে বড় কোনও কাজ নেই। বরং সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। অক্টোবরে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের দুটি মরণবাঁচন ম্যাচ সিঙ্গাপুরের ম্যাচ ঘরে ও বাইরে। যার ওপর ভারতের এশিয়ান কাপে খেলার সম্ভাবনা নির্ভর করেছে। ওই দুটি ম্যাচে ভারত না জিতলে, বাকি বাংলাদেশ ও হংকং ম্যাচ দুটি শুধু নিয়মরক্ষার হয়ে যাবে।

তাই ফেডারেশনের বর্তমান কমিটি যাদের মেয়াদ, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি আসা পর্যন্ত, তারা চায় মানোলোর মতো খালিদও ‘‌পার্টটাইম কোচ’‌ হিসেবে আপাতত ভারতীয় কোচের দায়িত্ব সামলান। কারণ বর্তমান কমিটির মেয়াদ যেখানে অল্পদিনের, তারা নতুন কোনও কোচের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পথে যেমন হাঁটতে চায় না, তেমন যিনি কোচ হবেন, তাঁর পক্ষেও খানিকটা অস্বস্তির দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করার। সবচেয়ে বড় কথা, ফেডারেশনের তহবিল তো ফাঁকা, ভাঁড়ে মা ভবানী।

তাই যদি ভারতীয় দলের ফল আশানুরূপ না হয়, আইএসএল সম্ভবত নভেম্বরে শুরু হলে, না হয় খালিদ জামশেদপুর কোচের দায়িত্ব পুনরায় ফিরে যাবেন। এব্যাপারে একটা সমঝোতা জামশেদপুর টিম ম্যানেজেমেন্টের সঙ্গে সেরে রাখছেন খালিদ ও ফেডারেশন কর্তারাও। এতে ভারতীয় ফুটবল দল বা ভারতীয় ফুটবলের কতটা উন্নতি হবে, বলা কঠিন। বারবার পার্টটাইম কোচ নিয়োগ করে ক্ষতিই বই, লাভ তো কিছু হচ্ছে না। বরং সঞ্জয় সেনের মতো কাউকে স্থায়ী কোচ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে নিয়োগ করলে আখেরে লাভ হত। এখন দেখার ফেডারেশন কী করে?‌ ইতিমধ্যেই ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে ও তাঁর কমিটি একাধিক বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে, অদূরদর্শিতা দেখিয়ে ভারতীয় ফুটবলকে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছেন। ভারতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁরা আবার কোন হঠকারি সিদ্ধান্ত নেবেন, বলা মুশকিল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *