Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
জেসন কামিংস

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এর আগে উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আসর থেকে খেলোয়াড় তুলে এনেছে তারা। এ বার সরাসরি বিশ্বকাপের আসরে নামা খেলোয়াড়কে নিয়ে এসে রীতিমতো চমকে দিয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গত বছর কাতারে বিশ্বকাপে খেলা সেন্টার ফরোয়ার্ড জেসন কামিংস এ বার খেলবেন ভারতে, সবুজ-মেরুন বাহিনীর হয়ে। মোহনবাগান এসজি তাঁর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্লাবে খেললেও তাঁর জন্ম স্কটল্যান্ডে ও পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু করেন স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপ ক্লাব হিবারনিয়ান এফসি-র হয়ে খেলে। ওখানেই পেশাদার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটান তিনি। এর পরে ইংল্যান্ডের নটিংহাম ফরেস্ট, স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স, ইংল্যান্ডের পিটারবোরো ইউনাইটেড, লুটন টাউন, শ্রুসবেরি টাউন এবং স্কটল্যান্ডের ডানডি এফসি-র হয়ে খেলার পরে চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ায় ও সেন্ট্রাল কোস্টে যোগ দেন।

২০২১-২২-এ অস্ট্রেলিয়ার ক্লাবে আসার পরই তিনি সে দেশের জাতীয় দলে ডাক পান ও বিশ্বকাপের দলেও ডাক পান। কাতারে বিশ্বকাপে যদিও শুধু ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে ৩৪ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, নিজের জাত চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ২৭ বছর বয়সী কামিংস।

আসন্ন মরশুমে তিনিই হয়তো হতে চলেছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের গোলমেশিন। গতবার তাদের গোল করার জন্য কোনও প্রকৃত স্ট্রাইকার ছিল না বলে যে প্রচুর অভিযোগ উঠেছিল, এ বার কামিংস মাঠে নামার পরে সম্ভবত সে রকম কোনও অভিযোগ থাকবে না সমর্থকদের। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে উঠতে পারেন কি না এই অস্ট্রেলিয়ান, তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু ভারতে তাঁর আগমনের আগে তাঁর সম্পর্কে একটু বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে রাখলে তো ভালই হয়। জেসন কামিংস সম্পর্কে সে রকমই কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

যেখানে পা, সেখানেই সাফল্য

যে দেশে পা রেখেছেন, সেখানেই সাফল্য পেয়েছেন কামিংস। সে নিজের জন্মভূমি স্কটল্যান্ড হোক, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া, খেতাব জিতেছেন সব দেশেই। স্কটল্যান্ডে যখন হিবারনিয়ান এফসি-র হয়ে খেলতেন, তখন তাদের হয়ে মাঠে নেমে স্কটিশ কাপ স্কটিশ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন এই অস্ট্রেলীয় ফুটবলার। ২০১৮-১৯-এ লোনে লুটন টাউনে যান তিনি। সেই ক্লাবের জার্সি গায়ে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জেতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার পর দ্বিতীয় বছরেই  সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্স দলের হয়ে এ লিগ খেতাবও জেতেন কামিংস। গত জুনে লিগ ফাইনালে মেলবোর্ন সিটি-র বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-১-এ জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্যও করেন। এ বার ভারতে পা রাখার পরেও কি দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারবেন?

সেন্ট্রাল কোস্টের হয়ে গোলের নজির

২০২২-এর জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান কামিংস। ডানডি ইউনাইটেড এফসি-কে স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপে তোলার পরে সেখান থেকে সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্সে যোগ দেন। নটিংহাম ফরেস্টের প্রাক্তন তারকা অস্ট্রেলিয়ায় এসেই তাক লাগিয়ে দেন লিগের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে। সেই মরশুমে ২১ ম্যাচে দশ গোল করেছিলেন তিনি। পরের মরশুমে তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও উঁচুতে ওঠা এবং সেই লক্ষ্য তিনি পূরণ করেন ২১ গোল করে। সেই ক্লাবের আর কোনও ফুটবলার একই মরশুমে এত গোল এর আগে কখনও করেননি।  অর্থাৎ, ক্লাবে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেন তিনি। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়ে এএফসি কাপে জায়গা করে নিতেও সাহায্য করেন তিনি। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে জো মার্সটন মেডেলও দেওয়া হয় তাঁকে। সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্স ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে। ৫০ ম্যাচে ৩১ গোল করে।   

ক্লাব ফুটবলে ১৯০-এর বেশি গোলে অবদান!

ক্লাব স্তরে অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে ভারতে আসছেন জেসন কামিংস। ক্লাব ফুটবলে এ পর্যন্ত সাড়ে তিনশোরও বেশি ম্যাচ খেলে ১৪৫টি গোল ও ৪৮টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর। সবচেয়ে বেশি গোল তিনি করেছেন তাঁর প্রথম ক্লাব স্কটল্যান্ডের হিবারনিয়ান এফসি-র হয়ে খেলে। চার বছরে তিনি এই ক্লাবকে ৭১টি গোল এনে দেন।

দুই জাতীয় দলের সদস্য

অনেক ফুটবলারের একটি দেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় না। কামিংস খেলেছেন দু-দু’টি দেশের জাতীয় দলের হয়ে। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্ম তাঁর। সেখানকার অনূর্ধ্ব ১৯ ও অনূর্ধ্ব ২১ দলের হয়ে খেলেছেন তো বটেই। এই দুই দলে ভাল পারফরম্যান্স দেখানোর পরে তিনি ২০১৭-য় সে দেশের সিনিয়র দলেও ডাক পান। নেদারল্যান্ডস্, কোস্টারিকা ও হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে তিনটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেন স্কটিশদের হয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় এসে মেরিনার্সদের হয়ে কামিংসের পারফরম্যান্স দেখে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ২০২২-এ তাঁকে ডেকে নেন। তাঁর না যেহেতু ছিলেন এক অস্ট্রেলিয়ান, তাই সে দেশের হয়ে খেলতে কোনও আইনি সমস্যা হয়নি তাঁর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি  তিনি খেলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এবং প্রথম ম্যাচেই গোল করেন। সেই ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল পান কামিংস।

কাতারে বিশ্বকাপ দলের সদস্য

গত বছর কাতারে অংশগ্রহনকারী অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলেও ডাক পান জেসন কামিংস, যা তাঁর কাছে বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। তার আগে সে দেশের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে পরিবর্ত হিসেবে নামান কোচ আর্নল্ড। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ক্রেগ গুডউইনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্স ৪-১-এ জেতে। অলিভিয়ে গিরু জোড়া গোল করেন এবং আদ্রিয়েঁ রাবিয় ও কিলিয়ান এমবাপে একটি করে গোল করেন। পরে ব্রিটিশ মিডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে কামিংস বলেছিলেন, বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের পরে ফরাসি তারকা এমবাপের সঙ্গে জার্সি অদলবদল করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এমবাপে তাঁকে এড়িয়ে চলে যান। অথচ আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার আব্দার করতেই তিনি রাজি হয়ে যান।

(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *