অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভাবতে পারেন, ইওরো ২০২০র পর বর্ণবৈষম্যের কটূক্তি শিকার হয়ে কিলিয়ান এমবাপে এতটাই মুষড়ে পড়েছিলেন, একটা সময় মনে করেছিলেন ফ্রান্সের জাতীয় দলের খেলা থেকে সরে দাঁড়াবেন। সত্যি সত্যি তা যদি করতেন, তাহলে এমবাপেকে আর ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে আর খেলতে দেখা যেত না।
বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ বা কটূক্তি করাটা ফুটবল মাঠে একটা রোগে পরিণত হয়েছে। এর আগে যেমন এর শিকার হয়েছেন বিভিন্ন খেলোর জগতের অ্যাথলিটরা, যার মধ্যে অন্যতম ফুটবলাররা। আর তা রুখতে ফিফা কড়া মনোভাব শুধু নিয়েছে তাই নয়, পদক্ষেপও নিয়েছে এসব বন্ধ করতে। ফিফার অন্যতম শ্লোগান হল, সে নো টু রেসিসম। তবু মাঝেমাঝেই এনিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যায় ফুটবলমহলে।
এই বর্ণবৈষম্যমূলক কটুক্তির শিকার হল ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অন্যতম সদস্য কিলিয়ান এমবাপে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে রিয়েল মাদ্রিদ তারকা এমবাপে তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ইওরো ২০২০তে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল নির্ণায়ক পেনাল্টি মিস করার দরুন তাঁকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়ে, তাতে প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলেন, দেশের জার্সিতে আর খেলবেন না।
এমবাপের নিজের ভাষায়, ‘ ওরা আমাকে বাঁদর বলে ডাকতে শুরু করেছিল। আমি ভেবে কূল কিনারা করতে পারছিলাম না। দেশের জার্সিতে খেলা যেটা আমার কাছে গর্বের, সেখানে আমাকে এভাবে অপমানিত হতে হবে? আমি গোল করতে না পারলেই ওদের চোখে বাঁদর হয়ে যাব? এর থেকে দুঃখের বা যন্ত্রণার কিছু হয় না। আমার কাছে ওই সময়টা ছিল খুব কঠিন। আমি বিশ্রামে চলে গিয়েছিলাম কিছুদিনের জন্য ওই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে। নিজেকে ভূত মনে হত। মনে হত হঠাৎ করে যেন আকাশ থেকে মাটিতে এসে পড়েছি ধপ করে। ফ্রান্সের জার্সিতে অভিষেকের অল্পদিনের মধ্যে বিশ্বকাপ জিতে জাতীয় নায়ক হয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে মনে হচ্ছিল, কেউ আমাকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।’
এমবাপে বলেন, ভেবেই নিয়েছিলাম এত অপমানের পর আর ফ্রান্স জাতীয় দলে ফিরব না। তৎকালীন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট লা গ্রায়েতকে জানিয়েছিলাম সেকথা। বলেছিলাম, দেশের জার্সিতে আমার খেলার ইচ্ছা শেষ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, আমি মাঠে খেলতে নামি এমন কিছু মানুষের জন্য যারা আমাকে বাঁদর ভাবে, বলে, গোল করতে না পারলে। এটা কি আমার প্রাপ্য। আমি এদের জন্য মাঠে নেমে খেলতে চাই না। এটা শুনে গ্রায়েতেরও খুব খারাপ লেগেছিল। উনি আমাকে বলেন, আমি যেন দেশের হয়ে না খেলার ভাবনা থেকে সরে আসি। কে কী বলল, ভাবল, কিছু আসে যায় না। ফ্রান্সের ফুটবল দলে আমাকে দরকার। তাতেই মনটা হাল্কা হয়, মত বদলাই। দেশের হয়ে খেলায় ফিরি।’
ভাগ্যিস মত বদলে ফ্রান্সের জার্সিতে মাঠে ফিরেছিলেন এমবাপে। তাই তো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনার ফাইনালে এমবাপে ও মেসির উপভোগ্য রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার সুযোগ পেয়েছিল সারা বিশ্ব। শেষ হাসিটা যদিও হাসেন মেসি টাইব্রেকার বিশ্বকাপ জিতে, তার আগে পর্যন্ত এমবাপের গোল আর দাপটে মেসি ব্রিগেডের স্বপ্নভঙ্গ হতে বসেছিল। এবারও ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেঁশর তুরুপের তাস এমবাপে। আশা জোগাচ্ছেন বড় সাফল্য ছোঁয়ার।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
