অলস্পোর্ট ডেস্ক: মেক্সিকোর মিলিটারির হাতে কুখ্যাত ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জালিসকো নিউ জেনারেশন কারটেল লিডার ‘এল মেনচো’র গুয়াদালজারার কাছাকাছি অঞ্চলে প্রাণ যাওয়ার পর গুয়াদালজারা ও তার আশেপাশের অঞ্চল রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। এল মেনচোর দলের লোকেরা রাস্তায় নেমে বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্র হাতে তান্ডব শুরু করায়। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ প্রায় ২০০ মত জায়গায়। বাসে,গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় শহরের আকাশ ভরেছে ধোঁয়ায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিমানবন্দর চত্বরেও। সাধারন মানুষ থেকে বিদেশি পর্যটকরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন। শোনা যাচ্ছে, নিরাপত্তারক্ষী ও এল মেনচোর অনুরাগীদের মধ্যে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। দু’পক্ষে আহতের তালিকাও বেশ লম্বা।
স্বাভাবিকভাবে গুয়াদালজারার এই উত্তপ্ত ও লাগামছাড়া অবস্থা ফিফাকে উদ্বিগ্ন করেছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচের আয়োজন কেন্দ্র করে। গুয়াদালজারাতে বিশ্বকাপের লিগ পর্যায়ের ৪টি ম্যাচ রয়েছে। যার মধ্যে মেক্সিকোর ম্যাচ রয়েছে ১৮ জুন। এছাড়া গুয়াদালজারা ও মন্টেরে মিলিয়ে মার্চে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার যোগ্যতার্জনের প্লেঅফ ম্যাচ রয়েছে শেষ দু’টি জায়গা নিশ্চিত করতে। যাতে অংশ নেবে বলিভিয়া, জামাইকা, নিউ ক্যালেডোনিয়া, সুরিনাম, কঙ্গো ও ইরাক।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে প্লেঅফ ম্যাচ এই দুই শহরে আয়োজন করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ফিফা বিকল্প কেন্দ্রের কথা ভাববে। এমনকি ফুটবলার, কর্তা, সমর্থকদের কথা ভেবে মূল বিশ্বকাপের ম্যাচও সরাতে পারে। ফিফার আইনে স্পষ্টভাবেই একথা বলা আছে। তবে এখনও পর্যন্ত ফিফার তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি এব্যাপারে। তার এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ পলিসি নিয়ে চলছে।
আসলে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রয়ের সময় আমেরিকা ও কানাডার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবুম পারদো উপস্থিত ছিলেন। একই মঞ্চে হাজির ছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেসময় এমন কোনও পরিস্থিতি ছিল না, যাতে মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ করা যাবে না। বর্তমান অবস্থাটা হঠাৎই সৃষ্টি হয়েছে মিলিটারি অপারেশনের পর। এতে দেশের আভ্যন্তরীন পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বুঝেই মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট শিনবুম দেশবাসীর কাছে শান্ত থাকার আবেদন করেছেন।
দাঙ্গা থেকে দুরে সরে থাকার কড়া নির্দেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট শিনবুম। এমনকি অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ড্রোন দাঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে দ্রুত পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে। শিনবুম চান, আগের দু’বারের মতো এবারও মেক্সিকো সফলভাবে বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের অংশীদার হোক। গুয়াদালজারা দাঙ্গার কারণে দেশের মানুষ ও ভিনদেশি সমর্থক, পর্যটকরা যেন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা, উন্মাদনা উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত না হোন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
