Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ দু’‌বারের রনজি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলাকে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়ে ফাইনালে গেছে জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট দল। অভিষেকের পর থেকে ৬৭ বছরে প্রথমবার। জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ হিসেবে ক্রিকেট দলের কৃতিত্বে গর্বিত মহমেডান স্পোর্টিং চিফ কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। কিন্তু তাই বলে শুক্রবার ঘরের মাঠে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এফসি গোয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে মহমেডান স্পোর্টিং ফুটবল দল নিয়ে অবাস্তব কোনও স্বপ্ন দেখছেন না। আসলে মেহরাজ হলেন সেই দর্জি, যিনি জানেন তাঁর হাতে কত হাত কাপড় আছে, আর তাই দিয়ে কেমন কোট বানানো সম্ভব। এএফসি গোয়ার শক্তি মাথায় রেখে মহমেডান ফুটবলারদের লড়তে উজ্জীবিত করা ছাড়া আর কোনও জাদুমন্ত্র জানা নেই মেহরাজের চলতি আইএসএলে অবনমন বাঁচাতে।

এফসি গোয়া তাদের প্রথম ম্যাচে ইন্টার কাশির সঙ্গে ১-‌১ ড্র করেছে। এতে মহমেডানের বাড়তি উল্লসিত হওয়ার মতো কোনও কারণ আছে বলে মনে করেন না কোচ মেহরাজ। তাঁর মতে, ‘‌ কাগজে কলমে গোয়া শক্তিশালী। ঘরের মাঠে খেলা হলেও গোয়ার মোকাবিলা করা বেশ কঠিন। তাই বুদ্ধি করে খেলতে হবে গোয়ার বিরুদ্ধে পয়েন্ট পেতে। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে ফুটবলাররা সাধ্যমত লড়েছে। তবে ওই ম্যাচে যারা খেলছিল, তাদের অনেকেই প্রথমবার আইএসএলের মতো বড় মঞ্চে পা রাখা। স্বাভাবিকভাবে সেই অনভিজ্ঞতার দিকটা খেলায় নজরে এসেছে। আশা করা যায়, দ্বিতীয় ম্যাচে অর্থাৎ গোয়ার বিরুদ্ধে সেই জড়তা কাটিয়ে আরও ভাল খেলবে তারা। অনেক সমস্যা সামলে দল খেলছে। চাইব মহমেডান সমর্থকরা বেশি করে মাঠে এসে ফুটবলারদের প্রেরণা জোগান।’‌

জামশেদপুর ম্যাচে ম্যাচের বেশি সময় নিজেদের খোলসেই গুটিয়ে ছিল মহমেডান। সেভাবে আক্রমণে উঠতে দেখাই যায়নি সাদা কালো ব্রিগেডের ফুটবলারদের। গোল লক্ষ্য করে শটের দেখাও মেলেনি। মহমেডান কোচ মেহরাজের বক্তব্য, ‘‌ মাত্র ১৫দিনের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় কোনও দলের পক্ষে পুরোপুরি তৈরি হওয়ার জন্য। তাই জামশেদপুর ম্যাচে সাহসী মনোভাবের অভাব ছিল ফুটবলারদের মধ্যে। ওই ম্যাচের ১ গোলে হার ভুলে ফুটবলারদের বলেছি, হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে গোয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে। গোলের চেষ্টা করতে। তার মানে এই নয়, কাছাখোলা আক্রমণে গিয়ে রক্ষণের জমাট ভাব আলগা করে গোল হজম করবে। ভারসাম্য বজায় রেখেই খেলতে হবে গোয়ার বিরুদ্ধে। মানছি গত ম্যাচে গোলের সুযোগ কম তৈরি হয়েছে। সেটা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে একটা বড় ঘাটতি রয়েছে স্ট্রাইকিং পজিশনে। গোল করার লোকের অভাব। যদিও ফিফার শাস্তির কারণে নতুন ফুটবলার নেওয়ার সুযোগ নেই আগস্টের আগে, তাই হাতে যারা আছে, তাদের তৈরি করে নিতে হবে দ্রুত।’‌

এফসি গোয়া যখন পুরো কোটার বিদেশি নিয়ে খেলতে এসেছে, তখন মহমেডানে একজনও বিদেশি নেই। দলটা পুরোটাই ভারতীয় ফুটবলার নির্ভর। এটা কি একজন ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে মহমেডান জার্সি গায়ে নিজেদের প্রমাণের চ্যালেঞ্জ?‌ ২০১৭ অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া অমরজিত সিং কিয়ামের জবাব, ‘‌ এটাই ভারতীয় ফুটবলারদের নিজেদের প্রমাণের সেরা সুযোগ। সবসময় আমরাই বলে থাকি, বিদেশি ফুটবলাররা দলের প্রধান জায়গাগুলো দখল করে রাখে বলে ভারতীয়রা খেলার সুযোগ পায় না। মহমেডান টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ, তাঁরা ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়েই আইএসএলের লড়াইয়ে নেমেছেন। এখন আমাদের মাঠে নেমে সেরা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, কোনও অংশে আমরা বিদেশিদের থেকে কম যাই না। জামশেদপুর ম্যাচে নতুন ফুটবলারদের মধ্যে একটা জড়তা ছিল অনভিজ্ঞতার কারণে। গোয়া ম্যাচে সেটা ওরা নিশ্চয়ই ঝেড়ে ফেলবে। আমরা যারা সিনিয়র এই দলে, তারা নতুনদের গাইড করছি ভাল খেলতে।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *