Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

 

 বেঙ্গালুরু ২ (‌ উইলিয়ামস, আশিক)‌                মহমেডান ১(‌মহীতোষ)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ আইএসএলের চতুর্থ ম্যাচেও হারের মুখ দেখল মহমেডান স্পোর্টিং। শনিবার ঘরের মাঠে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেঙ্গালুরু এফসির কাছে ১-‌২ গোলে হারের ফলে তাদের পকেটে শূণ্য পয়েন্ট। লিগ টেবিলের একবারে নীচে তারা। সেখানে বেঙ্গালুরু এফসি ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ৬ নম্বরে।

মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু ভালই জানেন, তাঁর দলের হারানোর কিছুই নেই। বিদেশিহীন ব্রিগেড নিয়ে অসম লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি বাকি দলগুলোর বিরুদ্ধে আইএসএলে। ঘরের ছেলেদের নিয়ে সম্মান রক্ষা ছাড়া কোচ মেহরাজের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য অবনমন বাঁচানো, শেষপর্যন্ত যদি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের কথায় অবনমনের নিয়ম বলবত রাখে চলতি আইএসএলে। অবশ্য অংশগ্রহনকারী ১২ দল ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে অবনমন বন্ধ রাখার জন্য বলেছে এআইএফএফকে। যদি সেটা হয়, তাহলে বেঁচে যাবে সাদা কালো ব্রিগেড।

অবশ্য সেকথা না ভেবে লিগ টেবিলের নীচের দিকে থাকা দলগুলোর থেকে পয়েন্ট পাওয়ার চেষ্টা মহমেডানকে করতে হবে আইএসএলে টিঁকে থাকতে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ২ গোল খাওয়ার পর যে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা মহমেডান করেছে, তাতে ম্যাচে হার বাঁচাতে না পারলেও, সেটা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। বিশেষ করে চলতি আইএসএলে সাদা কালো জার্সিতে দারুন খেলে নজর কাড়ছেন লালথানকিমা। পরের মরশুমে আইএসএলের অন্য কোনও দলে তাঁকে খেলতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দলে ও কৌশলে সামান্য বদল এনেছিলেন মহমেডানের কোচ মেহরাজ। অন্যদিনের মতো শুরু থেকে হীরাকে ব্যবহার করেননি। বরং তাঁর বদলে নামান জোসেফকে স্টপারে রক্ষণে জমাট ভাব আনতে। চার ব্যাকের সামনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলান অমরজিতকে। ৪-‌১-‌৪-‌১ ছকে একবারে সামনে শুধু ইসরাফিলকে রেখে প্রতিআক্রমণনির্ভর ফুটবলে বেঙ্গালুরুকে রোখার চেষ্টা করেছিলেন মেহরাজ।

কিন্তু ওই কৌশলে কোনও লাভ হয়নি। বরং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তুলে, ১৮ মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু। সুনীলের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে মহমেডানের সাময়িক পতন রোখেন সাজাদ। তবে ২২ মিনিটে বেঙ্গালুরু রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়েই যায়। সিরোজিদ্দিন কুজিয়েভের কর্নার বক্সের মাঝে সুনীলের মাথা ছুঁয়ে রায়ানের পায়ে পড়লে, তিনি মহমেডানের গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি রায়ান।

নিজেদের গোছাতে পারেনি বলেই দ্বিতীয় গোল হজম করে মহমেডান। ৪১ মিনিটে পদমের সেভ বক্সের বাইরে ফানাইয়ের পায়ে পড়লে, তিনি তা পাশে ঠেলে দেন আশিক কুরুনিয়ানকে। আশিক মহমেডান রক্ষণের জটলার ফাঁক দিয়ে ডানপায়ের জোরালো শটে বল জালের ভেতর পাঠান।

দ্বিতীয়ার্ধে মহমেডান কোচ মেহরাজ তাঁর রণকৌশল বদলান। তিনি বুঝেই যান রক্ষণে গুটিয়ে থেকে বেঙ্গালুরুকে বাগে আনা যাবে না। তাই আক্রমণাত্মক খেলার নির্দেশ দেন তাঁর ফুটবলারদের। তাতে ফল মেলে। এডিসন, লালথানকিমারা আক্রণের চাপ বাড়াতেই বেঙ্গালুরু রক্ষণে একটা ত্রাসের সঞ্চার হয়। তার ফলে গোল পেয়ে যায় মহমেডান। ৫১ মিনিটে এডিসনের তোলা বল বেঙ্গালুরু বক্সে রাহুল বেকে হেডে আংশিক ভাবে বের করলে, আলগা বল চলে যায় মহীতোষের পায়ে। মহীতোষ হাঁটু সমান শট নিয়ে গোলকিপার গুরুপ্রীতকে হার মানান। মহীতোষের মধ্যে প্রতি ম্যাচেই কিছু একটা করে দেখানোর চেষ্টা থাকে।

এক গোলের ব্যবধান কমিয়ে দ্বিতীয় গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল মহমেডান। তাদের দুর্ভাগ্য সমতা ফেরানোর গোলটা পায়নি বলে। ৬৫ মিনিটে এডিসনের তোলা বল বাঁদিকে লালথানকিমার কাছে গেলে , তিনি ভেতরে কাট করে এসে জানপায়ে জোরালো উঁচু শট মেরেছিলেন। বল গোলকিপার গুরপ্রীতককে হার মানিয়ে ক্রশপিসে লেগে ফেরে।
৭৫ মিনিটে পেনাল্টি পেতে পারত মহমেডান। লালথানকিমা বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ার মুখে সিরোজিদ্দিন তাঁকে ফেলে দেন ধাক্কা মেরে। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির আবেদন কানে তোলেননি। আসলে মহমেডান এখন আর বড় দল নয়। তাই রেফারির দাক্ষিণ্য বড় দল বেঙ্গালুরু যে পাবে, সেটা বলাই বাহুল্য। ৮৫ মিনিটে লালথানকিমার শট রুখে গোলকিপার গুরপ্রীত বেঙ্গালুরুর ৩ পয়েন্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন। ৯৬ মিনিটে ফারদিন আলি গোলে বল ঠেললেও তা ফাউলের জন্য বাতিল হয়।

মহমেডান:‌ পদম, দীনেশ, গৌরব, জোসেফ(‌মাকান)‌, সাজ্জাদ(‌হীরা)‌, মহীতোষ, লালথানকিমা, অমরজিত, রাগুই(‌লালংগাইশাকা)‌, এডিসন, ইসরাফিল(‌ফারদিন)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *