Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ আইএসএল কবে শুরু হবে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনটা দেশের এক নম্বর লিগ হিসেবে গণ্য হবে, সেটা ঘিরে যেমন ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তেমন একটা বড় প্রশ্নচিহ্নর মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কলকাতার মহমেডান স্পোর্টং ক্লাবকে। চলতি মরশুমে মহমেডান কি আইএসএল খেলার মতো জায়গায় আছে?‌ আদৌ কি তারা আইএসএল খেলবে?‌

সাদা কালো ব্রিগেডের কর্তাদের কাছেই এর কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। তাঁদের বক্তব্য বেশ ধোঁয়াশা ভরা। আসলে আইএসএলে অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে গেলে যে আর্থিক সংস্থান দরকার, তা এখনও পর্যন্ত জোগাড় করে উঠতে পারেননি ক্লাব কর্তারা। গত মরশুমে আইএসএল অভিষেক ঘটেছিল মহমেডানের, আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে প্রোমোশন পেয়ে। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে শুরু করলেও, ১৩ দলের লড়াইয়ে আইএসএলে সর্বশেষ স্থান পেয়েছিল মহমেডান।

তার অন্যতম কারণ কোচ-‌ফুটবলারদের সময়মতো বেতন দিতে না পারা। এমনও দিন গেছে, যখন আইএসএল চলাকালীন বেতন না পেলে ফুটবলাররা ম্যাচে দূরে থাক, অনুশীলনেও নামতে চাননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তৎকালীন কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ বাড়ি চলে যান। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে মহমেডান কর্তারা শুরুতে বলেছিলেন, কোচ নাকি ছুটিতে গেছেন। পরে আসল সমস্যাগুলো সামনে আসে। মেহরাজউদ্দিনকে তড়িঘড়ি কোচের পদে ফেরানো হয়। বেতন সমস্যা সহ অন্যদিকগুলো সামাল দেওয়ার অবস্থা মেহরাজের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তার অবস্থা ছিল হালে পানি না পাওয়ার মতো। কোনওরকমে আইএসএল শেষ করাই ছিল লক্ষ্য মহমেডানের।

এখানেই সমস্যার শেষ নয়। ইনভেস্টার বাঙ্কারহিলের সঙ্গে শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে একটা ঝামেলা অনেকদিন ধরেই চলে আসছিল। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, মহমেডানের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখবে না। তাতে ব্যাকআপ হিসেবে শ্রাচী স্পোর্টস গোষ্ঠীর ওপর খুব বেশি নির্ভর করেছিল আর্থিক দৈন্যতা কাটাতে। কিন্তু শ্রাচী প্রতিশ্রুতিমতো অর্থ মহমেডানকে দেয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হল।

মহমেডান সচিব ইস্তিয়াক (‌রাজু)‌ আহমেদ বলেই দিলেন, ‘‌ এখন যা পরিস্থিতি, তাতে নতুন মরশুমে আমাদের আইএসএল খেলা নিয়ে চিন্তায়। বাঙ্কারহিল যেমন হঠাৎ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, শেয়ার ভাগের প্রসেসটা শেষ করতে না দিয়ে, তেমন শ্রাচী নিজেদের কমিটমেন্ট ফেল করল। শ্রাচীর সঙ্গে শুধুমাত্র মউ হয়েছিল। কোনও চুক্তি হয়নি। সেই ফাঁকটা কাজে লাগিয়ে আমাদের সমস্যা বাড়িয়ে দিল। নতুন কোনও ইনভেস্টার, স্পনসর না পেলে, গত মরশুমে দেশি ও বিদেশি ফুটবলার নিয়ে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার মতো বকেয়াই মেটানো সম্ভব হবে না। সেটা মেটালে, তবে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ট্রান্সফার ব্যান উঠবে। আগের কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ ও অ্যালেক্সিস গোমেজের অভিযোগে ফিফা আমাদের আবার নতুন করে ব্যান চাপিয়েছে। এই ব্যান না উঠলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না।

বেশ অসহায়ের মতোই মহমেডান সচিবের আক্ষেপ,‘‌তারপর তো আরও দেনা আছে বাজারে। সেগুলো মেটানোর পর নতুন মরশুমের জন্য দল গড়ার কথা ভাবা সম্ভব হবে। ধরে নিন মিনিমাম আরও ১০ কোটি টাকা লাগবে। এই অর্থের সংস্থান না হলে, এবার আইএসএল খেলা খুব কঠিন। নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে। আমরা তো চেষ্টা করছি ইনভেস্টার বা স্পনসর পেতে। বিশ্ব জুড়ে একটা যুদ্ধের পরিস্থিতির জেরে যারা শুরুতে মহমডানে অর্থ লগ্ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল, তারাও পিছিয়ে গেছে। এতে সমস্যা বেড়েছে। তবে আশা করছি, একটা সমাধান সূত্র শীঘ্রই মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নজরে এনেছি সমস্যাটা। উনি চেষ্টা করছেন ইনভেস্টার জোগাড় করে দিতে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে একটা সুখবর মিলবে। সেটা যদি হয় তাহলে নতুন ইনভেস্টারের নাম ঘোষণা করতে পারব।’ শোনা যাচ্ছে, শেয়ারের ভাগ দেওয়া নিয়ে টালবাহানা ছেড়ে মহমেডান ক্লাব ৫০ ভাগ শেয়ার ছেড়ে দিতে রাজি আছে। ’

এদিকে, এফএসডিএলের সঙ্গে ফেডারেশনের মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্টের পরিণতি কী হবে, সংশোধনের পর নতুন সংবিধানের রূপরেখা কী দাঁড়াবে, সেটা জানার জন্য ১৪ জুলাইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভারতীয় ফুটবলের রোড ম্যাপ যাই হোক, তাতে আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর রাখার মতো মহমেডানের সমস্যা মেটার কোনও সমাধানসূত্র সেখানে মিলবে না। বরং দেশি-‌বিদেশি ফুটবলারদের বেতন মেটাতে না পারায় আইএসএল পরিচালনসমিতি এফএসডিএলের চোখে মহমেডান এখন দুয়োরাণি। আইএসএলের বানিজ্যিক দিকগুলোর কথা মাথায় রেখে টুর্নামেন্টের আয়োজকরা মহমেডানকে আর ঘাড়ে বইতে চান না।

কিন্তু বললেই তো আর সাদা কালো ব্রিগেডকে ঝেড়ে ফেলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাংলা থেকে মোহনবাগান এসজি, ইস্টবেঙ্গল যেখানে রয়েছে। কলকাতা থেকে তৃতীয় দল হিসেবে মহমেডানকে আইএসএলে খেলানোর দাবি বিভিন্ন মহল থেকে বারবার উঠেছিল। সেই অবস্থায় টাকার জোরে দরপত্র দিয়ে শর্তপূরণ করে নয়,প্রোমোশন পেয়ে সাদা কালো ব্রিগেড আইএসএলে জায়গা করে নেওয়ার পর তাদের বাদ দিলে মহমেডান সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হবে। সঙ্গে রাজনৈতিক চাপ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। তাও যদি আইএসএলে অবনমন পদ্ধতি চালু হত। এখন যেদিকে হাওয়া বইছে, তাতে নতুন মরশুমে প্রোমোশন বজায় থাকলেও, অবনমন চালু হবে না। সুতরাং সমস্যায় জর্জরিত হলেও মহমেডানকে না রেখে আইএসএল করার আগে একশবার ভাবতে হবে আয়োজকদের। তাছাড়া নতুন ইনভেস্টার পেয়ে গেলে মহমেডান বুক বাজিয়ে আইএসএলে খেলবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *