সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: একদল ভারতীয়, অচেনা, অনামী নাম যে এভাবে বিদেশি তারকাখচিত দলকে নাস্তানাবুদ করতে পারে তা কলিঙ্গ সুপার কাপে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তা আরও একবার প্রমান হল। হায়দরাবাদ এফসির গতির কাছে বার বার পরাস্ত হল মোহনবাগানের ট্যাকটিক্স। যার ফল ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বসল কোচহীন মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে এই কোচবিহীন সবুজ-মেরুনই শ্রীনিধি ডেকানকে হারিয়ে দিয়েছিল। সেই ম্যাচেও প্রথমে গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ক্লিফোর্ড মিরান্ডার দল।এদিন তারই অ্যাকশন রিপ্লে দেখা গেল। জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এল হায়দরাবাদ এফসি। ম্যাচ শেষে ঝামেলায় জড়ালেন দুই দলের ফুটবলাররা তবে তা বেশি দূর গড়ায়নি।
এই হায়দরাবাদ ইস্টবেঙ্গলকে দুই গোল দিয়ে ৩-২-এ হারে প্রথম ম্যাচে। যে কারণে যতই দুর্বল দল হোক না কেন তাদের আর হালকাভাবে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো দলের জন্য। রবিবার কলিঙ্গ সুপার কাপের প্রথম দ্বিতীয় ম্যাচে আরও একবার বুঝিয়ে দিল থাংবোই সিংতোর ছেলেরা। এক ভারতীয় কোচের একঝাঁক ভারতীয় ছেলের লড়াই দেখল ভুবনেশ্বরে খেলা দেখতে আসা গুটিকয় মোহনবাগান সমর্থক।
ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মধ্যে যেভাবে মোহনবাগান রক্ষণের বুলকে কাজে লাগিয়ে গোল করে গেল হায়দরাবাদের ফুটবলার তা প্রশংসার যোগ্য। ব্রেন্ডন হামিল বক্সের মধ্যে থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তা জমা দিয়ে দেন প্রতিপক্ষের রামলুনচুঙ্গার পায়ে। সেই চলতি বলেই তাঁর শট সরাসরি চলে যায় গোলে। বাগান গোলকিপারের কিছু করার ছিল না। এর পর থেকে পুরো প্রথমার্ধ জু়ড়ে মোহনবাগানকে রীতিমতো বেগ দিল হায়দরাবাদের পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির দল।
ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের পর হায়দরাবাদ কোচ বলেছিলেন, “ওদের প্লেয়াররা সব প্রায় ছয় ফুটের উপর আর আমার পাঁচ ফুট ছয়। উপরের বলে লড়াই করা কঠিন।” তবে এই উচ্চতা নিয়ে যে ফুটবলটা তারা খেলছেন তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আশার হতের পারে। এদিন মোহনবাগানের হয়ে প্রথম একাদশে খেললেন পাঁচজন বিদেশি। তাঁদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়লেন একদল ভারতীয়। এর পরও একাধিক নিশ্চিত গোলেরর সুযোগ তৈরি করল হায়দরাবাদ। সব ঠিক থাকলে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ফেলার কথা ছিল তাদের।
বাঁ দিক থেকে একাই মোহনবাগান রক্ষণকে চাপে রাখলেন রামলুনচুঙ্গা। যেভাবে বার বার প্রতিপক্ষ বক্সে আক্রমণ শানালেন তাতে ভাগ্য ভাল গোলগুলো হয়নি। বাগান রক্ষণের আশিস রাইকে রীতিমতো অকেজ দেখাল। একইভাবে মোহনবাগানের ডানদিক অকেজ হয়ে থাকল, মাঝ মাঠই সব খেই হারিয়ে গেল। দিমিত্রি পেত্রাতোসকে দেখা গেল মাঝমাঠ থেকে রক্ষণে নেমে দলকে সামলাতে, কখনও আক্রমণে কামিন্স, বুমৌসদের শক্তিশালী করলেন। তবে ভাল জায়গায় বেশ কয়েকটি ফ্রিকিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কামিন্স যেভাবে গোলের সুযোগ অল্পের জন্য মিস করলেন তাতে বলতেই হচ্ছে ভাগ্য সহায় নেই কলকাতার দলের। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করল মোহনবাগান সঙ্গে মিসও করল। অন্যদিকে, একগোলে এগিয়ে থাকা ধরে রাখার জন্য একবারও হায়দরাবাদকে রক্ষণাত্মক হতে দেখা যায়নি। বরং পর পর আক্রমণে মোহনবাগান রক্ষণকে শেষ পর্যন্ত চাপে রাখল হায়দরাবাদ।
এর মধ্যেই প্রথমে বল ছুড়ে ফেলে হলুদ কার্ড দেখার পর, তা নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন হায়দরাবাদ এফসির নিম দর্জি তামাং। ম্যাচের বয়স তখন ৮৩ মিনিট। কিন্তু ৮৮ মিনিট পর্যন্ত জয় ধরে রেখে নিজেদের ভুলেই ম্যাচ হাতছাড়া করে বসল হায়দরাবাদ। নিজেদের জালেই বল জরিয়ে মোহনবাগানের হয়ে ১-১ করলেন জেরেমি। আর তার পরক্ষণেই পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ মুহূর্তে খেলা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে ২-১ গোলে জয় তুলে নিল মোহনবাগান।
মোহনবাগান: অর্শ আনোয়ার শেখ, আশিস রাই, রাজ বাসফোর (রবি বাহাদুর রানা), ব্রেন্ডন হামিল, হেক্টর ইউয়েস্টে, দিমিত্রি পেত্রোতোস, গ্লেন মার্টিন্স, সুহেল আহমেদ ভাট (টাইসন সিং), কিয়ান নাসিরি, জেসন কামিন্স, হুগো বুমৌস।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.co
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
