জেমি ম্যাকলারেন। ছবি—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এক্স
সুচরিতা সেন চৌধুরী: ভারতের ফুটবল মরসুম যেমন প্রতিবার ডুরান্ড কাপ দিয়ে শুরু হয় এবারও তার অন্যথা হয়নি। কিন্তু বাধ সাধল ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। বাকি সবই হচ্ছিল কিন্তু আইএসএল থমকে যাওয়ার প্রভাব পড়ছিল সব কিছুর উপর। সুপার কাপেও যে কারণে সব দল খেলেনি। অনেকেই দল তৈরি করেনি, ছেড়ে দিয়েছিল ফুটবলারদের। এই ডামাডোলের মধ্যেই কেটে গিয়েছে পাঁচ মাস। শেষ পর্যন্ত আইএসএল-এর বল গড়াল ভারতীয় ফুটবলে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে গেল এবারের আইএসএল। এক লেগের এই আইএসএল-এ অর্ধেকের থেকেও বেশি কমে গিয়েছে ম্যাচ। তবে ফুটবলার, কোচ থেকে সমর্থক, সবার একটাই কথা, ফুটবলটা তো হোক। শেষ পর্যন্ত সেই ফুটবল শুরু হয়ে গেল মোহনবাগানের জয় দিয়ে।
গত দু’মাস ধরে অনুশীলন করা একটা দল যখন ১৪ দিনের অনুশীলন করা একটা দলের বিরুদ্ধে নামে তখন সেই ব্যবধান স্পষ্টই দেখা যায়। যেটা দেখা গেল মোহনবাগান ও কেরালার খেলায়। যদিও শুরুতে বার কয়েক আক্রমণে উঠে বাগানরক্ষণকে পরীক্ষার মুখে ফেলল কেরালা। তবে প্রথমে গোল করে এগিয়ে গেল মোহনবাগানই। শেষটাও করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ৩৬ মিনিটে অভিষেক সিংয়ের একটা লম্বা শট বক্সের মধ্যে পেয়ে গিয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ততক্ষণে পিছন থেকে উঠে এসেছেন জেমি ম্যাকলারেন। প্রতিপক্ষ রক্ষণ দিমিকে ঘিরে ধরায় ছোট্ট টোকায় সেই বল পিছনে ঠেলে দেন তিনি, সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান ম্যাকলারেন। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। প্রথমার্ধে এক গোলের পরে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ২-০ করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা টম আলড্রেড।
প্রথম থেকেই বেশ কয়েকবার সুযোগ চলে এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। ম্যাচ শুরুর ছয় মিনিটের মধ্যেই দিমিত্রির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ১৬ মিনিটে রবসনের জোড়াল শট কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন কেরালা গোলকিপার। ২২ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার শট অল্পের জন্য বেরিয়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ২৭ মিনিটে গোলের লক্ষ্যে সুযোগ তৈরি করে কেরালা। অভিষেক সিংয়ের একটা পাস ধরে এবিনদাসের বল নিয়ে দৌঁড় শেষ হয় বক্সের মধ্যে বার্তোমৌকে লক্ষ্য করে পাস বাড়িয়ে। কিন্তু বার্তোমৌয়ের গোলমুখি শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ।
এর পর আপুঁইয়াকে বক্সের বাইরে ফাউল করে মোহনবাগানকে সুযোগ পাইয়ে দিয়েছিলেন কেরালার দানিশ। সেখান থেকেই লিস্টন কোলাসোর ফ্রিকিক বাঁচিয়ে দেন কেরালার গোলকিপার সচিন সুরেশ। ৩৮ ও ৩৯ মিনিটে পর পর ম্যাকলারেন ও দিমিত্রিকে দক্ষতার সঙ্গে রুখে দিয়ে ঘর বাঁচান কেরালার গোলকিপার। মোহনবাগান প্রথমার্ধ শেষ করে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে শুভাশিস বোসকে তুলে নিয়ে অময় রানাওয়াডেকে নামিয়ে দেন মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। যার ফলে অভিষেক সিং রাইট ব্যাক থেকে চলে যান বাঁ দিকে। ডানদিকের দখল নেন অময়। তার মধ্যেই রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন রডরিগেজ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা অনেকটাই ম্যারম্যারে। তার মধ্যেই ৬৮ মিনিটে লিস্টনের জোড়াল শট অল্পের জন্য বেরিয়ে গেল ক্রসবারের উপর দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করলেন লোবেরা। মেহতাব, দিমিত্রি ও লিস্টনকে তুলে নামিয়ে দিলেন সাহাল, আলড্রেড ও মনবীরকে। কাজে লাগল পরিবর্তন। না হলে এক গোলের ব্যবধান সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ।
চার মিনিটের অতিরিক্ত সময় ততক্ষণে ঘড়ির কাটায় ছয় মিনিটে পৌঁছে গিয়েছে। আর তখনই অনিরুদ্ধ থাপার ফ্রি কিক থেকে বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা টম আলড্রেডের হেড চলে যায় সরাসরি গোলে। সঙ্গেই সঙ্গেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি। ঘরের মাঠে ২-০ গোলে জিতেই আইএসএল ২০২৫-২৬ শুরু করে দিল মোহনবাগান।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, অভিষেক সিং, মেহতাব সিং (সাহাল আব্দুল সামাদ), অ্যালবার্তো রডরিগেজ, শুভাশিস বোস (অময় রানাওয়াডে), লিস্টন কোলাসো (মনবীর সিং), দিমিত্রি পেত্রাতোস (টম আলড্রেড), আপুঁ ইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, রবসন ডি সিলভা, জেমি ম্যাকলারেন (জেসন কামিন্স)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
