অলস্পোর্ট ডেস্ক: মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয় পেলেও একেবারেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। উল্টে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বাড়তি সতর্কতা ফেরান্দো ব্রিগেডের ড্রেসিংরুমে। ডিফেন্ডার ব্রেন্ডন হ্যামিল ছাড়া পুরো দলই হাতে পাচ্ছেন সবুজ মেরুনের স্প্যানিশ কোচ। গোয়ার শেষ ম্যাচগুলির কাঁটাছেড়া করে তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা বের করেছেন ভিডিও অ্যানালিস্টরা। সেগুলো মাথায় রেখেই প্রস্তুতি চলছে কামিংস-বুমোসদের। পাশাপাশি মুম্বই ম্যাচের যে ভুলগুলো হয়েছে তা মেরামতির কাজ চলছে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দু’টি কঠিন ম্যাচ খেলতে হচ্ছে মেরিনার্সদের। তাই দলে দু’একটি পরিবর্তন হতে পারে। রণনীতিও বদল হতে পারে।
জুয়ান ফেরান্দো বলেন, ‘‘মুম্বইয়ের মতো গোয়াও যথেষ্ট ব্যালান্সড এবং ভাল দল। গতবারের গোয়ার সঙ্গে এবারের গোয়ার অনেকটা পার্থক্য আছে। ওদের কোচ নতুন। নোয়া, বরিস, উদান্ত, সন্দেশ, কার্ল ম্যাকহিউজের মতো ফুটবলার আছে। ফলে ওদের বাড়তি গুরুত্ব দিতেই হবে। আমাদের সামনে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হবে। নানা কারণে আমাদের প্রাক মরসুম প্রস্তুতি ভাল করে হয়নি। সেরা ফর্মে পৌঁছতে তাই আরও কয়েকটা ম্যাচ খেলতে হবে। মুম্বইকে হারালেও আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে পরের ম্যাচগুলিতে। ফাইনালে যেতে চাই। তবে চোট আঘাত বাঁচিয়ে। সেজন্যই দলের এবং ফর্মেশনের কিছু পরিবর্তন হয়তো করতে হতে পারে।’’
জুয়ান আরও বলেন, ‘‘মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছি বলে গোয়াকেও হারাব, এরকম আত্মতুষ্টিতে আমি অবং আমার দল ভুগতে রাজি নয়। বলতে পারেন আমরা আত্মবিশ্বাসী, তবে আত্মতুষ্ট নই। কারণ প্রত্যেকটা ম্যাচ আলাদা দিনে হয়, আলাদা পরিস্থিতিতে হয়। গোয়ার প্রায় সব ম্যাচগুলোই দেখেছি। প্রাক-মরসুম প্রতিযোগিতা হলেও ওদের খেলা সম্পর্কে একটা ধারণা আছে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী খেলতে পারলে এবং গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে আমরাই জিতব। গোয়াও ফাইনালে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপাবে। ফলে ম্যাচটা হাড্ডাহাড্ডি হবে। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়তে হবে জেতার জন্য। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের প্রতিটি মিনিটও গুরুত্বপূর্ণ।’’
দলের অন্যতম কগুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার জেসন কামিংস বলেন, ‘‘আমরা ভারতের সেরা দল। যে কোনও দলকে আমরা হারানোর ক্ষমতা রাখি। ভারতের জাতীয় দলের সাত-আটজন সেরা ফুটবলার আমাদের দলে রয়েছে। বিদেশি ফুটবলাররাও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার জন্য নিজেদের তৈরি করছে। মুম্বইকে হারিয়ে আমরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। গোয়াকে হারানোর ব্যাপারেও তাই আমি আশাবাদী। ডুরান্ড ফাইনালে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ওদিকেই এখন আমাদের যাবতীয় ফোকাস। আইএসএল বা এএফসি কাপের আগে প্রস্তুতি টুর্নামেন্টে একটা ট্রফি যদি ঘরে আসে তাহলে দলের মনোবল বাড়ে। সেই চেষ্টাটা আমরা জারি রাখব।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গোয়ার এবারের কোনও খেলা আমি দেখিনি। ফলে বলতে পারব না ওরা কোথায় কতটা শক্তিশালা বা দুর্বল। আমি নিজের এহং নিজের দলের উপর বেশি আস্থা রাখি। গোল করাটা আমার কাজ। গোল করলে যে কোনও স্ট্রাইকারের আত্মবিশ্বাস ঐরও বেড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়াকে প্রচুর গোল করেছি। এখানে এসেও আমি গোল পেতে শুরু করেছি। তবে নিজের সেরা খেলাটা এখনও দিকে পারিনি। আমি সেপাটা দেওয়ার জন্য নিজেকে যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আরও কয়েকটা ম্যাচ লাগবে নিজের একশো শতাংশ দিতে। সবুজ মেরুন সমর্থকরা যেভাবে আমার উপর আস্থা রাখছেন বা যেভাবে আমাকে বা আমাদের সবাইকে মাঠে বা অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ করছেন তাতে গোল করে ওদের আনন্দ দেওয়াটাকে আমি লক্ষ্য হিসাবে নিয়েছি। ভারতের সেরা ক্লাবে খেলতে এসেছি। সবুজ-মেরুনের নতুন তারকা হতে চাই। মেরিনার্সদের আরও ভালবাসা পেতে চাই। আর সেটা পেতে গেলে গোল করতে হবে। জিততে হবে। ট্রফি পেতে হবে।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
