ছবি— মোহনবাগান এসজি এক্স
সুচরিতা সেন চৌধুরী: জামশেদপুরের স্মৃতি এখনও তাজা মোহনবাগান শিবিরে। যেভাবে জেতা ম্যাচ শেষ মুহূর্তে ড্র করে ফিরেছিল লোবেরার দল, সেই ক্ষত কাটতে সময় লাগবে। আর তার মধ্যেই পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে রীতিমতো বেগ পেতে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। প্রথমার্ধে পঞ্জাব এফসি গতিতেই পিছনে ফেলল মোহনবাগানকে। যার ফল শুরুতেই এগিয়ে গেল পঞ্জাব। যদিও প্রথমার্ধেই সমতায় ফিরল মোহনবাগান। গোলের ব্যবধান দুই পক্ষই বাড়াতে পারত কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হল ১-১ গোলেই। দ্বিতীয়ার্ধে আবার এগিয়ে গিয়েছিল পঞ্জাব, সমতায় ফেরে মোহনবাগান। ২-২ গোল নিয়ে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত পৌঁছে যায় ম্যাচ। আর তখনই জেসন কামিন্সের অসাধারণ ফ্রি কিকে ৩-২ গোলে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে আট ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। তবে মোহনবাগানে উধাও দলগত পারফর্মেন্স, সব গোলই হল ব্যক্তিগত দক্ষতায়। স্বাভাবিকভাবেই শেষ কথা বলবে ফলাফল, যা আবারও উজ্জ্বল করে তুলল মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়নশিপ স্বপ্ন।
বঙ্গে ভোটের দামামা বেজে যাওয়ায় এদিন গ্যালারির অনেকটাই ফাঁকা রেখে ম্যাচ আয়োজন করা হল। এর মধ্যেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়ালেন সমর্থকরা। তবে তা বেশিদূর গড়াতে দেয়নি পুলিশ। রবিবারের সন্ধ্যায় অর্ধেকের বেশি ফাঁকা গ্যালারির সামনে জ্বলে উঠতে পারল না মোহনবাগান। বরং পুরো ম্যাচেই চাপে থাকল তারা। চাপে রাখল পঞ্জাব। প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও মোহনবাগান রক্ষণের উপর চাপ বজায় রাখল পঞ্জাব। ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেই জেমি ম্যাকলারেনের গোলের সুযোগ কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করে পঞ্জাব। আট মিনিটে বেদে ওসুজির দূরপাল্লার শট কোনওরকমে আটকে দেন বিশাল কাইথ। আর তার ঠিক চার মিনিটের মধ্যেই পঞ্জাব গোল করে এগিয়ে যায়। যখন বাঁদিক থেকে বেদের ক্রস বাগান রক্ষণকে পুরোপুরি পরাস্ত করে পৌঁছে যায় ড্যানিয়েল রামিরেজের পায়ে। তাঁর কাছে পরাস্ত হন বিশাল কাইথ।
১৭ মিনিটেই বাধ্য হয়ে জোড়া পরিবর্তন করতে বাধ্য হলেন সার্জিও লোবেরা যখন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন রডরিগেজ। তাঁর জায়গায় দিমিত্রি পেত্রাতোসকে নামিয়ে মাঝমাঠ থেকে মনবীর সিংকে তুলে মেহতাব সিংকে নামিয়ে নতুন করে দল সাজালেন কোচ। তার পরই অবশ্য গোল পেয়ে সমতায় ফিরল মোহনবাগান। ২৭ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর শট পোস্টে লেগে বাইরে যাওয়ার দু’মিনিটের মধ্যেই বাঁদিক থেকে শুভাশিস বোসের পাস ধরে রবসনের ছোট্ট টোকায় বক্সের মদ্যে বল পেয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকলারেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ঘাঁড়ে নিয়েই একটা হাফ টার্নে গোলকিপার অর্শদীপ সিংয়ের মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়ান জেমি ম্যাকলারেন। ৪৩ মিনিটে ড্যানিয়েলের শট অল্পের জন্য বাইরে না গেলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত পঞ্জাব এফসি। এর পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লিস্টন কোলাসোর কর্নার থেকে দিমিত্রির গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। প্রথমার্ধের ইতি হয় এখানেই।
মনে করা হয়েছিল, প্রথমার্ধের ব্যর্থতা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াবে লোবেরার ছেলেরা। কিন্তু হল উল্টোটাই। বরং আবারও গোল করে এগিয়ে গেল পঞ্জাব। ৫৯ মিনিটে পঞ্জাবের দলগত বোঝাপড়ার এক নজির তৈরি হল মোহনবাগান বক্সে। বাঁ দিক থেকে রিকি জনের পাস বেদে হয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল। সেই বল ধরেই ডানদিক থেকে উঠে আসা এপিয়ংকে বল বাড়িয়েছিলেন ড্যানিয়েল। নিজের নামের পাশে ছয় নম্বর গোল লিখে নিতে ভুল করেননি এপিয়ং। দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে লোক বাড়ান লোবেরা। রবসন আর দীপক টাংরিকে তুলে কামিন্স আর সাহালকে নামিয়ে দেন তিনি। আর সেটাই কাজে লাগে সবুজ-মেরুনের। ৬৯ মিনিটে নেমে ৭৩ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সাহাল।
প্রায় মাঝ মাঠ থেকে লম্বা বল রেখেছিলেন দিমিত্রি। সেই বলই সাহালের শটে পোস্টের ভিতরদিকে লেগে ঢুকে যায় গোলে। অর্শদীপের কিছুই করার ছিল না। গোল হজম করে কোনওভাবেই আক্রমণ ছেড়ে দেয়নি পঞ্জাবও। গোলের নিচে বিশালল কাইথের হাত সেই চেনা ছন্দে না ফিরলে আবারও এগিয়ে যেতে পারত পঞ্জাব এফসি। শেষবেলায় নিশ্চিত সুযোগ এসে গিয়েছিল মোহনবাগানের সামনে কিন্তু প্রতিপক্ষ বক্সের মধ্যে দলের সব স্কোরার মিলেই এই গোল মিস করলেন বলা যেতেই পারে। ম্যাচের বয়স তখন ৮৫ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ে জেসন কামিন্সের দুরন্ত ফ্রি কিক থেকে সরাসরি বল জালে না জড়ালে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হত মোহনবাগানকে।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বসু (অময় রানাওয়াদে), টম আলড্রেড আরবার্তো রডরিগেজ (দিমিত্রি পেত্রাতোস), অভিষেক সিং, দীপক টাংরি (সাহাল আব্দুল সামাদ), অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং (মেহতাব সিং) , লিস্টন কোলাসো, রবসন ডি সিলভা (জেসন কামিন্স), জেমি রডরিগেজ
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
