Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ কল্যানীর মাঠে সিএফএল ডার্বি জিতে লাল হলুদ কোচ বিনো জর্জ ও তাঁর ফুটবলাররা যে আনন্দ মাতবেন, এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনরকম রাখঢাক না করেই ম্যাচের শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ বিনো জর্জ বলেই দিলেন, এই ম্যাচটা না জিতলে সুপার সিক্সে ওঠা কঠিন হয়ে যেত। সেখানে মর্যাদার ডার্বি হেরেও ‘‌খুশি’‌ মোহনবাগান এসজির কোচ ডেগি কার্ডোজো। হারলেও ফুটবলারদের লড়াই তাঁকে ছুঁয়ে গেছে।

যুব ফুটবলারদের সঙ্গে ৭জন সিনিয়রকে প্রথম একাদশে রাখাতেই জয় এসেছে ডার্বিতে এটা মানছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ বিনো জর্জ। তাঁর সাফ কথা, ‘‌ যাঁদের আপনারা সিনিয়র বলছেন, তাঁরা অনেকেই নিয়মিত খেলার সুযোগ পায় না। কেউ কেউ আইলিগে খেললেও এই ধরনের বড় মঞ্চে প্রথমবার খেলল। আসল হল ফুটবলারদের মিলিত জোস ও জেতার অদম্য ইচ্ছা। ফুটবলারদের বলেছিলাম, এইদিনে ইস্টবেঙ্গল আসিয়ান কাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল। তাই ডার্বি কিছুতেই হারা চলবে না। ফুটবলাররা কথা রেখেছে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমার রেকর্ড সবসময়ই ভাল। ডার্বির এই জয়টা কলকাতা ফুটব লিগে সুপার সিক্সে ওঠার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিল।’‌

ম্যাচের সেরা সায়ন ব্যানার্জি ডার্বি জয়টা উপভোগ করলেন তারিয়ে তারিয়ে ইলিশ হাতে নিয়ে। ম্যাচ শেষে বলেন,‘‌ প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ট্রোল করাটা আমাকে চাগিয়েছিল। তবে একটা খারাপ সময় যাচ্ছিল। তাই এতদিন মোক্ষম জবাব দিতে পারিনি। কল্যানীর মাঠে সেটা দিলাম। আরএফডিএল ডার্বিতে গোল করেছিলাম। তারপর সিএফএল ডার্বিতে গোল করতে পেরে ভাল লাগছে। তবে নিজের গোলের থেকেও গোল করিয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি। এই জয় আমার একার কৃতিত্বে আসেনি। দলের সবাই দুরন্ত লড়েছে। বিশেষ করে কল্যানীর ছেলে প্রভাত লাকরার হার না মানা মনোভাবের কথা বলতেই হবে। সুহেলকে ম্যাচে নড়তে দেয়নি।’‌

প্রভাত লাকরা দলের জয়ে একইরকম আবেগাক্রান্ত। বললেন, ‘‌ ছেলেবেলায় কল্যানীর মাঠে বল বয় হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে স্বপ্ন দেখতাম লাল হলুদ জার্সি গায়ে খেলার। সেই মাঠে খেলে ও দলকে জিতিয়ে দারুন ভাল লাগছে। এবার লক্ষ্য থাকবে কলকাতা ফুটবল লিগ জেতাটা।’‌

অন্যদিকে, হেরেও হতাশ নন মোহনবাগান এসজির কোচ ডেগি কার্ডোজো। তাঁর বক্তব্য,‘‌ টিম ম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই ফুটবলার ডেভেলপ করাতে জোর দিতে বলেছেন। আমরা সেটাই করছি। তাই যুব দলের ফুটবলারদের বেশি করে খেলার সুযোগ দিয়েছি, মাত্র তিনজন সিনিয়রকে রেখে। ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে ২ গোল করে খেলায় ফিরেছিল ফুটবলাররা, তা প্রশংসনীয়।’‌ কল্যানী স্টেডিয়ামের মাঠের সমালোচনায় মুখর ছিলেন এদিন কার্ডোজো। বলেন, মাঠের অবস্থা ভাল নয়। দু’‌দলের একাধিক ফুটবলারের চোট লাগার কারণ এই মাঠ। তাছাড়া খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে স্টেডিয়ামের একটি বাতিস্তম্ভের আলো নিভে যায়। ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই ধরনের ঘটনা অভিপ্রেত নয়। তবে ডেগি যখন মাঠ নিয়ে অখুশি, তখন ম্যাচ শেষে বাগানের কিয়ান নাসিরির মুখে তেমন কিছুই শোনা যায়নি। তিনি মেনেই নেন, মুহূর্তের গোলের জন্য তৃতীয় গোল না খেলে অন্তত সম্মানজনক ড্র করে মাঠ ছাড়া সম্ভব হত।

এদিকে, কল্যানী স্টেডিয়াম চত্বর বা আশেপাশে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, কল্যানী স্টেশনে দু’‌দল সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মোহনবাগান এসজির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হাতে তাদের সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন মহিলা সমর্থকও। পুলিশি নিষ্কিয়তায় ক্ষুব্ধ বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *