Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মোহনবাগান ০           বেঙ্গালুরু

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ টানা ৪ ম্যাচ জিতেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ঘরের মাঠে। কিন্তু ঘরে ছেড়ে বাইরে বেরোতেই মোহনবাগানের বিজয়রথের চাকা আটকে গেল বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামের বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুর সঙ্গে গোলশূ্ণ্য ড্র করে চলতি আইএসএলে প্রথমবার পয়েন্ট খোয়ালো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ৫ ম্যাচে বাগান ব্রিগেডের পকেটে এখন ১৩ পয়েন্ট। তাদের ঠিক পিছনেই রয়েছে জামশেদপুর এফসি ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে।

চোট না সারায় দলের সঙ্গে বেঙ্গালুরু যেতে পারেননি রবসন রবিনহো। তাতে অবশ্য মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চিফ কোচ সের্জিও লোবেরার বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দল সাজাতে কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ তাঁর হাতে সমমানের বিকল্প ফুটবলারের অভাব নেই। স্বাভাবিকভাবে লোবেরা প্রতিপক্ষর ওপর আক্রমণের ঝাঁজ বজায় রাখতে উইংয়ে শুরু থেকে ভারতীয় জুটি লিস্টন ও মনবীরকে রাখতে দ্বিধা করেননি। এর পাশাপাশি জেমি ম্যাকলারেনকে একবারে সামনে রেখে পিছন থেকে দিমিত্রিয়সকে ব্যবহার করেন বেঙ্গালুরু রক্ষণে চাপ বাড়াতে। কলকাতায় থাকতে সাংবাদিক সম্মেলনে লোবেরা প্রচারমাধ্যমকে বলেই গিয়েছিলেন, আইএসএলের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার সতর্কতা থাকবে, একইসঙ্গে ম্যাচ জেতার জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবলের ভাবনা থেকে সরবে না দল। সেটাই দেখা গেছে খেলায় শুরু থেকে।

আক্রমণে ধার বাড়াতে যখন লোবেরা তাঁর ৪-‌‌৪-‌১-‌১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন, তেমন প্রতিপক্ষ দলে ভারতীয় নাগরিকত্ব রায়ান উইলিয়ামস, ভারতীয় ফুটবলের আইকন সুনীল ছেত্রী, বাগান ছেড়ে যাওয়া আশিক কুরুনিয়ানকে ঘাড়ে চেপে বসতে না দিতে নিজের দলের রক্ষণ জমাট করতে কোনও কসুর করেননি। মেহতাবের চোট সমস্যা থাকায় তাঁকে বেঙ্গালুরুর তারকা খচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলানোর ঝুঁকি নেননি লোবেরা। তাঁর জায়গায় স্টপারে জোড়া বিদেশি ডিফেন্ডার আলবার্তো ও টমকে নামান তিনি। সঠিক সিদ্ধান্ত।

ভারতীয় কোচ রেনেডির কোচিংয়ে বেঙ্গালুরু যেভাবে প্রথম থেকে তেড়েফুঁড়ে শুরু করেছিল, তাতে রক্ষণে আলবার্তো ও টম না থাকলে মোহনবাগানের পক্ষে গোল হজম বাঁচানো কষ্টসাধ্য হত। শুরুতেই রায়ান উইলিয়ামস দ্রুত বল নিয়ে ঢুকে পড়ে গোলে শট নিয়েছিলেন। মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কায়েথের তৎপরতায় রক্ষা পায় বাগান। এরপর মাঝেই বাগান বক্সে হানা দিয়েছিল বেঙ্গালুরু, তবে লক্ষ্যহীনতার কারণে বেঙ্গালুরু গোল পায়নি। সুনীল অন্যদিনের তুলনায় ছিলেন নিষ্প্রভ। এটা বললে ভুল হবে না, সুনীলকে নিজের ছন্দে খেলতে দেননি মোহনবাগান মাঝমাঠ ও রক্ষণের ফুটবলাররা। তবে সুনীলের প্রচেষ্টা রোখেন অনিরুদ্ধ থাপা ব্লক করে। ৭৫ মিনিটে সুনীলকে তুলে নেন কোচ রেনেডি।

সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগানও। গোল করার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন একাধিকবার ম্যাকলারেন, দিমিত্ররা। কিন্তু লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন তাঁরা। লিস্টন একবার উইং দিয়ে বল নিয়ে উঠে গোলের মুখে পৌঁছে গিয়ে সামনে গোলকিপার গুরপ্রীতকে পেয়েও কেন যে গোলে মারলেন না সেটা দুর্বোধ্য?‌ বক্সের মাঠে ৬ গজ দূর থেকে জটলার মধ্যে মাইনাস করে সুযোগটা নষ্ট করেন লিস্টন। দ্বিতীয়ার্ধের জলপানের বিরতির ঠিক আগে ম্যাকলারেনের শট গোলকিপার গুরপ্রীতকে হার মানিয়েও গোলে ঢোকার মুখে বেঙ্গালুরুর এক ফুটবলারের পায়ে লেগে পোস্টের ধার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে বাঁচে বেঙ্গালুরু। তবে ক্ষমার অযোগ্য মিস করেন দিমিত্রি। ৮৪ মিনিটে বেঙ্গালুরু বক্সে যখন বল পান তিনি, তখন তাঁর সামনে শুধু অসহায় গোলকিপার গুরপ্রীত। সবাইকে অবাক করে সেই বল বাইরে মেরে ৩ পয়েন্ট ঘর তোলার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন দিমিত্রি।

মোহনবাগানের পয়েন্ট কাড়ার আগে ম্যাচ খেলতে নামার আগে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সকল ফুটবলপ্রেমীর মন কেড়েছেন সুনীলরা। আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের কথা স্মরণে রেখে সুনীলরা মাঠে নামেন পিংক রঙের জার্সিতে তাঁদের ফুটবল জীবনের প্রেরণা মা, বোন, স্ত্রী, বান্ধবী, মেয়েকে পাশে নিয়ে। মোহনবাগান ফুটবলাররা মাঠে নামেন ক্ষমতা ইনোভেশনের প্যারাঅ্যাথলিটদের হাত ধরে।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক(‌অময়)‌, আলবার্তো, টম(‌কামিংস)‌, শুভাশিস, মনবীর(‌মেহতাব)‌, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, লিস্টন(‌কিয়ান)‌, দিমিত্রিয়স, ম্যাকলারেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *