মুনাল চট্টোপাধ্যায়: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টায়ার টু-তে গতবার একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাজিকিস্তানের দল রাভসান কুলোভের সঙ্গে যুবভারতীর মাঠে ওই ম্যাচ গোলশূণ্য অবস্থায় শেষ করেছিল মোলিনার দল। তারপর নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের মাঠে ট্র্যাক্টর এফসির বিরুদ্ধে খেলতে যায়নি বাগান বাহিনী। তার জেরে এএফসি এই টুর্নামেন্টে বাকি কোনও ম্যাচ আর খেলার অনুমতি দেয়নি। ফলে টুর্নামেন্টে আর এগোনোর কোনও সুযোগ পায়নি মোহনবাগান। এবার সেই আক্ষেপ মেটাতে চান মোলিনা ও তাঁর ফুটবলাররা।
মোলিনা বলেইদিলেন, ‘ গতবার বিশেষ কারণে একটার বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। এবার আশা করছি, তেমন কিছু ঘটবে না। ঘরোয়া ফুটবলে আইএসএল শিল্ড ও কাপ জেতার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগটা ছাড়তে চাই না। ফুটবলাররাও মানসিকভাবে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। ম্যাচ ধরে ধরে লক্ষ্যপূরণের দিকে এগোব। আপাতত ফোকাস শুধু আহাল ম্যাচে।’
ঘরোয়া ফুটবল ঘিরে ডামাডোল নিয়ে নিজেদের মনঃসংযোগ নষ্ট করতে চান না মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা। বলেন, ‘ যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটা নিয়ে ভেবে মাথা খারাপ করে লাভ কী? বরং যেটা হাতের সামনে রয়েছে, সেটাতে মন দেওয়া ভাল। আমাদের ও ক্লাবের সম্মানের জন্য এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য পাওয়াটা জরুরি। সেদিক থেকে আহালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভাল শুরু করার লক্ষ্যে মাঠে নামব।’ থাপা কাফা নেশনস কাপে ভারতীয় দলের সাফল্যে গর্বিত। অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে গর্ববোধ করছি। ওদের অভিনন্দন। একইসঙ্গে অনুপ্রাণিত ভারতীয় ক্লাব দল হিসেবে নিজেরাও ভাল কিছু করে দেখাতে।’
ডুরান্ডের সময় মোলিনা বলেছিলেন, ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতায় ঘাটতি নজরে এসেছে। সেটা পূরণ করায় জোর দিতে হবে। আহাল ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কি পুরোপুরি সন্তুষ্ট? মোলিনার উত্তর, ‘ আমি খুশি ফুটবলারদের বর্তমান ফিটনেসে। আগের তুলনায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ফুটবলাররা মাঠে নেমে সেরা দিতে তৈরি। খেলাটা অন্য ব্যাপার। বোঝাপড়া,স্ট্র্যাটেজি রপ্ত করার বিষয়টা কতটা হয়েছে, সেটা ম্যাচেই বোঝা যাবে।’ মোলিনা জানালেন, ‘৬ সপ্তাহের প্রস্তুতি সেরেছে দল। কিন্তু এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা ছাড়া আর নিজেদের যাচাই করার সুযোগ হয়নি। তবে সেটা কোনও সমস্যা হবে বলে মনে করি না।’
প্রতিপক্ষ আহালের শক্তি সম্পর্কে কতটা ওয়াকিবহাল? আহালের দলে কোনও বিদেশি নেই। তাদের কোচ জানিয়েছেন, ঘরের ফুটবলারদের ওপর পুরো ভরসা আছে। সেখানে আপনার দলে ৬ জন বিদেশি। এটা কি বাড়তি সুবিধা দেবে আপনাদের মঙ্গলবারের ম্যাচে? মোলিনার স্বভাবসিদ্ধ উত্তর, ‘ প্রতিপক্ষকে সমীহ করি। তবে বেশি মাথা ঘামাই নিজের দল নিয়ে। ওরা কাদের নিয়ে খেলবে সেটা ওদের ব্যাপার। বিদেশি না খেলানোর সিদ্ধান্তটাও ওদের নিজস্ব। আমরা ম্যাচ জিততে যেভাবে খেলা দরকার, সেই কৌশলটাই নেব।’
কী সে কৌশল সেটা ভেঙে বলতে চাননি কোচ মোলিনা। তবে চোটের জন্য মনবীর এই ম্যাচে নেই, সেটা জানালেন তিনি। চোটের কারণে ডুরান্ড কাপে খেলেননি ডিফেন্ডার শুভাশিস বসু। এখন কতটা ফিট? আহাল ম্যাচে কি দলে থাকবেন? কিছু সময় খেলার সুযোগ পাবেন? শুভাশিসের নাম না করে মোলিনার জবাব, ‘ সবাই যে সমান জায়াগায় আছে খেলার মতো এমন নয়। যারা মরশুমে একবারে শুরু থেকে দলের সঙ্গে ট্রেণিং করছে, ডুরান্ডে ম্যাচ খেলেছে, বা পরবর্তী সময়ে চোট সমস্যায় পড়েনি, তারা যতটা রেডি, অন্যরা নয়। যারা সেসব সমস্যা ফেস করেছে, তারা একজায়গায় নেই। সেটা ভেবেই দল সাজাতে হবে।’
মোলিনার এই বক্তব্য ও অনুশীলনের ধরন দেখে প্রথম একাদশ সম্পর্কে একটা ধারনা মিলেছে। গোলে বিশাল কাইথ তো আছেনই। ৪ ডিফেন্ডারে আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো ও অভিষেক। মাঝমাঠে আপুইয়ার পাশে দীপক টাংরির সঙ্গে লিস্টন ও কিয়ানের খেলার সম্ভাবনা বেশি। অতি আক্রমণাত্মক কৌশলে সাহালকেও দেখা যেতে পারে উইংয়ে বিশেষ ভূমিকায়। আক্রমণে ম্যাকলারেনের সঙ্গে কামিংসকে জুটি বাঁধতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
