Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আনোয়ার আলি

সুচরিতা সেন চৌধুরী: শনিবারই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ৯০ মিনিট শুধু ছিল শব্দব্রহ্ম। কখনও ইস্টবেঙ্গল তো কখনও মোহনবাগান। দর্শকাসন পুরো না ভরলেও দুই দলের সমর্থকরা পুরো সময়টা গ্যালারি মাতিয়ে রেখেছিলেন। সেটা ছিল ডুরান্ড কাপের ডার্বি। সেই ম্যাচ এখন অতীত। সেদিন ৫০ হাজারের কাছাকাছি দর্শক ছিল গ্যালারিতে। তার অর্ধেকের বেশিই মোহনবাগান সমর্থক ছিলেন সেদিন কিন্তু এদিন দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন করতে তাঁর অর্ধেকও গ্যালারিতে এলেন না। এদিন সরকারিভাবে হিসেব বলছে ছ’হাজার দর্শকও এল না এএফসি কাপের ম্যাচে। তার মধ্যেও ছিল গুটিকয় মাচিন্দ্রা সমর্থক। মোহনবাগানের সঙ্গে গ্যালারি থেকে তাদের পতাকাও দেখা গেল।

 ইস্টবেঙ্গলের কাছে ০-১ গোলে হেরে মাত্র চারদিনের মধ্যেই এএফসি কাপের প্রিলিমিনারি পর্বের ম্যাচে মাচি‌ন্দ্রা এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শুরুটা কিছুটা ছন্নছাড়া, যার ফল ৩০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও গোল হল না। প্রায় সেই সব মুভ দেখেই মনে হল গোল হয়ে গেল বলে। কিন্তু আটকে গেল একজনের কাছেই।

যখন রীতিমতো বিশ্রামে থাকলেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কায়েথ তখন মাচিন্দ্রা গোলের নিচে মোহনবাগানের জন্য বার বার দেওয়াল তৈরি করলেন আর এক বিশাল, তবে তিনি বিশাল শ্রেষ্ঠা। শুরু থেকে পর পর মোহনবাগানের নিশ্চিত গোলের সুযোগকে আটকে দিলেন একা হাতে। তাঁর প্রথম সেভ ম্যাচের ১১ মিনিটে। অনিরুদ্ধ থাপার থেকে পাস পেয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু দুরন্ত দক্ষতায় সেই গোল হতে দেননি বিশাল। ২৫ মিনিটে প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখা গেল মাচিন্দ্রার বক্সে। এবার শুধু অনিরুদ্ধের জায়গায় ছিলেন হুগো বুমৌস। আবারও সাহালের শট বাঁচিয়ে দিলেন সেই মাচিন্দ্রা গোলকিপার।

বিশাল শ্রেষ্ঠাই দলের অধিনায়ক। গোলের নিচেও তিনি দলকে পরিচালনা করলেন দারুণ দক্ষতায়। পর পর নিজের ক্ষমতা দেখালেন। ৩০ মিনিটের মাথায় প্রায় গোল করেই ফেলেছিল মোহনবাগান। আনোয়ার আ‌লির থেকে পাওয়া বল প্রথমে শুভাশিস গোলে শট নেন বাঁচিয়ে দেন বিশাল। কিন্তু সেই বল দখলে রাখতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বলে ব্রেন্ডন হামিলের শট আবারও বাঁচিয়ে দেন সেই বিশালই। বিশাল যেন মাচিন্দ্রা গোলের সামনে বিশাল পাহাড় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না নেপালের দলের। ৩৮ মিনিটে দুরন্ত হেডে গোল করে গেলেন আনোয়ার আলি। এদিনের নায়ক তিনিই।

কর্নার থেকে বক্সের মধ্যে বল রেখেছিলেন হুগো বুমৌস। জটলার মধ্যে থেকেই অনেকটা লাফিয়ে হেড করেছিলেন আনোয়ার আলি। সেই হেড যখন গোলে যায় তখন তাঁর নাগাল পাননি এতক্ষণ ধরে গোল আগলে রাখা মাচি‌ন্দ্রা। ৩৮ মিনিটের পর আবার ৮৫ মিনিট। সেই আনোয়ার, সেই হেড, আর সেই সেটপিস। এবার ফ্রি কিক থেকে বক্সের মধ্যে বল রেখেছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। উড়ে আসা বলে আবারও জটলার মধ্যে থেকে অনেকটা হাওয়ায় লাফিয়েই আনোয়ারের হেড। এবারও নাগাল পাননি বিশাল।

তার মাঝে অবশ্য মোহনবাগানের হয়ে ২-০ করেছিলেন জেসন কামিংস। ৫৯ মিনিটে পেত্রাতোস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জেসনের সোলো রান যখন বক্সের ভিতরে শেষ হল তখন সামনে শুধু গোলকিপার বিশাল শ্রেষ্ঠা। আগেই কেটে গিয়েছে মাচিন্দ্রার রক্ষণ। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি মোহনবাগানের বিশ্বকাপার ফুটবলার। তবে মাঝে একগোল শোধও করে দিয়েছিল মাচিন্দ্রা এফসি। ৭৭ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্রি কিক থেকে গোল করে যান পিয়ের জিন ওলোমৌ। এই গোলের পরে মোহনবাগানের রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে তবে এদিন দলের রক্ষণ সামলেই জোড়া গোলের নায়ক আনোয়ার আলি। এএফসি-তে মোহনবাগানের পরের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের আবাহনী।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, ব্রেন্ডন হামিল, শুভাশিস রায়, আশিস রাই (মনবীর সিং), অনিরুদ্ধ থাপা, হুগো বুমৌস (দিমিত্রি পেত্রাতোস), সহাল আব্দুল সামাদ (কিয়ান নাসিরি), আশিক কুরিয়ান (লিস্টন কোলাসো), গ্ল্যান মার্টিন্স, জেসন কামিংস (আর্মান্দো সাদিকু)।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *