অলস্পোর্ট ডেস্ক: মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ডুরান্ড কাপ ২০২৩-এ তাদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল। সোমবার কিশোর ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে পঞ্জাব এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে মরসুমের প্রথম ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। মোহনবাগানের পরের ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১২ অগস্ট। মোহনবাগানের প্রথম গোলটি অবশ্য আসে সেমসাইড গোলের মাধ্যমেই। মেলরয় অ্যাসিসির নিজের গোলে বল ঢুকিয়ে মোহনবাগানকে লিড এনে দেন এবং হোম টিমের হয়ে লিড দ্বিগুণ করেন হুগো বুমৌস। এই জয়ের ফলে গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছে গেল মোহনবাগান।
এ দিন হাফ ডজন পরিবর্তন করে প্রথম এগারো নামায় মোহনবাগান এসজি। যদিও তাতে জেসন কামিংস, আর্মান্দো সাদিকুরা ছিলেন না। ছিলেন হুগো বুমৌস, ব্রেন্ডান হ্যামিল, আনোয়ার আলি, গ্ল্যান মার্টিন্স। গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মনবীর সিং ও লিস্টন কোলাসোকে রাখা হয় প্রথম দলে। গত ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সুমিত রাঠিকে এ দিন রিজার্ভ বেঞ্চে দেখা যায় এবং শুভাশিস বোস ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। পরিবর্তদের তালিকায় ছিলেন দিমিত্রিয়স পেট্রাটসও।
সদ্য আইএসএলে যোগ দেওয়া পঞ্জাব এফসি দলের বিদেশি স্ট্রাইকার লুকা মাজেন, নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মেলরয় আসিসি, নিখিল প্রভূ, অমরজিৎ সিং কিয়ামও শুরু থেকে খেলেন।
জোর বৃষ্টিতে কিশোরভারতী স্টেডিয়ামের ঘাস পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় শুরু থেকে সে রকম আক্রমণাত্মক মেজাজে দুই দলকে দেখা যায়নি এ দিন। মাঠের সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে নিয়ে ক্রমশ তারা আক্রমণের ধার বাড়াতে শুরু করে।
মোহনবাগান প্রথম ইতিবাচক সুযোগটি পায় ১৯ মিনিটের মাথায়,যখন ডান উইং থেকে মনবীরের ক্রস গোলের সামনে গিয়ে পড়ে। মার্টিন্স সেখানে থাকলেও তাঁকে আটকে দিয়ে ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করে দেন। এর চার মিনিট পরেই, ২৩ মিনিটের মাথায়, মনবীর ফের ডানদিক দিয়ে যে দৌড়টি শুরু করেন, সেটি ছিল আরও মারাত্মক এবং সেই দৌড়ই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে দেয় সবুজ-মেরুন বাহিনীকে।
ডিফেন্ডারদের বাধা কাটিয়ে মনবীর প্রায় বাইলাইন পর্যন্ত উঠে গিয়ে সেখান থেকে গোলের সামনে ক্রস দেন সুহেল আহমেদ বাটের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাঁর কাছে বল পৌঁছনোর আগেই তা আটকাতে যান আসিসি। কিন্তু তার পায়ে লেগে বল সোজা গোলে ঢুকে যায় (১-০)।
গোল খেলেও পঞ্জাবের রক্ষণকে এ দিন নিশ্ছিদ্রই মনে হয়। নিজেদের গোল এরিয়ায় প্রতিপক্ষকে জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না পাঞ্জাবি ডিফেন্ডাররা। ২৩ মিনিটের মাথায় ওই একটি ভুল ছাড়া বাকি সবই ঠিকমতো এগোচ্ছিল তাদের।
বিদেশিহীন মোহনবাগান আক্রমণ বিভাগকে প্রথমার্ধে কিছুটা আগোছালো লাগে। সুহেল, মনবীর, কোলাসো, বুমৌসদের মধ্যে প্রত্যাশিত বোঝাপড়া সে রকম দেখা যায়নি। পঞ্জাবের আক্রমণ বিভাগকে অবশ্য আরও দুর্বল লাগে। কোনও দলকেই প্রথমার্ধে কোনও গোলমুখী শট নিতে দেখা যায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যেমন পঞ্জাবের বিদেশি স্ট্রাইকার হুয়ান মেরা নামেন, তেমনই মোহনবাগান ডাগ আউট থেকে নামেন দিমিত্রিয়স পেট্রাটস। গত মরশুমে দলের সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক নামার পরেই মোহনবাগানের আক্রমণ বিভাগ জ্বলে ওঠে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় তিন মিনিটের মধ্যেই,৪৮ মিনিটের মাথায় যখন দ্বিতীয় গোলটি করেন হুগো বুমৌস।
মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে বুমৌস কিছুটা উঠে বাঁ দিকে লিস্টনকে পাস দিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান। বাঁদিক দিয়ে উঠে আসা পেট্রাটসকে পাস দিয়ে লিস্টনও বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। পেট্রাটসের ছোট্ট টোকায় পাওয়া বল নিয়ে লিস্টন বাইলাইন পর্যন্ত উঠে ক্রস দেন গোলের সামনে। পঞ্জাবের গোলকিপার কিরণ লাফিয়ে উঠে বল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা তাঁর হাতে লেগে বুমৌসের পায়ে এসে পড়ে এবং গোলের সামনে থেকে জালে বড় জড়াতে তিনি সাধারণত ভুল করেন না, এ দিনও করেননি (২-০)।
দু’টি গোলই শোধ করে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন পঞ্জাবের দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড। বুমৌসের গোলের পরেই হুয়ান মেরা প্রতিপক্ষের বক্সের মাথা থেকে গোলে শট নেন, যা গোলকিপার বিশাল কয়েথের হাতে লেগে ক্রসবারে ধাক্কা খায়। ৫৬ মিনিটের মাথায় সবুজ-মেরুন বক্সের মধ্যে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে তা পায়ে নামিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে যখন গোলে শট নেন লুকা মাজেন, তখন তাঁকে ঘিরে ছিলেন চার ডিফেন্ডার। তাঁরা ব্যর্থ হলেও ব্যর্থ হননি গত আইএসএলে গোল্ডেন গ্লাভজয়ী বিশাল। তিনিই এ যাত্রা দলকে সেভ করেন অসাধারণ ভাবে। প্রথমার্ধে যেখানে একটিও শট গোলে রাখতে পারেনি পাঞ্জাব, সেখানে দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোলমুখী শট নেয় তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কোনওটিতেই সফল হয়নি পঞ্জাব এফসি।
শেষ আধ ঘণ্টার জন্য বুমৌসের বদলে কিয়ান নাসিরিকে নামান মোহনবাগান কোচ ফেরান্দো। গত ম্যাচে শেষ গোলটি তিনিই করেছিলেন। এ দিনও গোলের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁকে নামানো হয়। ততক্ষণে অবশ্য আক্রমণের ধার অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলে পঞ্জাব। লুকা ও মেরার জুটি ঘন ঘন অ্যাটাকিং থার্ডে জায়গা তৈরি করা শুরু করেন। মোহনবাগান রক্ষণও আগের চেয়ে আরও তৎপর হয়ে ওঠে। এক দিন আগেই ইস্টবেঙ্গল এফসি-র পরিণতির কথা নিশ্চয়ই মাথায় ছিল তাদের। ৬৮ মিনিটের মাথায় মার্টিন্সের জায়গায় নামেন লালরিয়ানা হ্নামতে। ৭০ মিনিটের মাথায় তুলে নেওয়া হয় লুকাকেও।
ম্যাচের শেষ দিকে, ৮৪ মিনিটের মাথায়, মোহনবাগান গোলের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারত। কিন্তু রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে তা সম্ভব হয়নি। পঞ্জাবের বক্সের মধ্যে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় কিয়ানকে। কিন্তু রেফারির নজর এড়িয়ে যাওয়ায় পেনাল্টি আদায় করতে পারেনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
