Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মোহনবাগান ১(‌রবসন)‌                  নর্থ ইস্ট ০

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ররিবার গুয়াহাটির মাঠে প্রবল বর্ষণের জল জমে যাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে রবসনের গোলে ১-‌০ এগিয়ে থাকার সময় প্রথমার্ধের খেলা শেষে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা সময়মতো শুরু করা সম্ভব হয়নি। গোড়ালির ওপর জল জমে যাওয়ায় সেই জল সরাতে অনেকটা সময় লেগেছিল। শেষপর্যন্ত বৃষ্টি ধরলে, ১ ঘন্টা ১৩ মিনিট চেষ্টার পর মাঠের জল সরিয়ে খেলা শুরু করেন রেফারি ক্রিস্টাল জন। দ্বিতীয়ার্ধেও আবার জোর বৃষ্টি হয়। তবে বল গড়ানোর সমস্যা বেশি না থাকায় রেফারি খেলা চালিয়ে যান। ম্যাচ শেষ করে রেফারির যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন, তেমন রবসনের গোলে ১-‌০ ফলে ম্যাচ জিতে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে খুশির হাওয়া মোহনবাগান শিবিরে। বিশেষ করে এবারের আইএসএলে এটাই মোহনবাগানের প্রথম জয় প্রাপ্তি অ্যাওয়ে ম্যাচে। এমনটাই তো চেয়েছিলেন মোহনবাগান এসজি কোচ সের্জিও লোবেরা।

শনিবার এফসি গোয়ার কাছে মুম্বই সিটির হারে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সামনে আইএসএল টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ এসে যায়। মুম্বই ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্টে আটকে যাওয়ায় মোহনবাগানের (‌ ৮ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট)‌‌ লক্ষ্য ছিল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড ম্যাচ জিতে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে লিগ টেবিলের একনম্বর জায়গাটা দখল করা। নর্থ ইস্ট ম্যাচ জেতায় ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট পেয়ে সেই লক্ষ্যপূরণ হল।

তার থেকেও বড় কথা, সবুজ মেরুনের ওপর চাপটা কমে গিয়েছিল রবিবার গুয়াহাটির বিরুদ্ধে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের মুখোমুখি হওয়ার আগে। আইএসএলে প্রথম ৪ ম্যাচ জেতার পর তিন ম্যাচ জয়হীন ছিল বাগান ব্রিগেড, বেঙ্গালুরু ও জামশেদপুর ম্যাচ ড্র করে, মুম্বই সিটির কাছে হেরে। শেষ ম্যাচে আবার জয়ে ফেরে মোহনবাগান ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফসর বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩-‌২ গোলে জিতে।

পাঞ্জাব ম্যাচ জিতলেও দলের পারফরমেন্সে খুশি ছিলেন না সবুজ মেরুনের হেডস্যার সের্জিও লোবেরা। বিশেষ করে গোল হজম করায়। তাই নর্থ ইস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে লোবেরা বলেই দেন, প্রতিপক্ষ লিগ টেবিলের যতই নীচে থাকুক না কেন, তাদের কোনওমতেই হাল্কাভাবে নেওয়া যাবে না। বরং নিজেদের খেলায় অনেক উন্নতি ঘটাতে হবে, রক্ষণে ও আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রাখতে।

চোট ঠিক হলেও পুরোপুরি ফিট হননি মিডফিল্ডার আপুইয়া। তাই নর্থ ইস্ট ম্যাচের দলে তাঁকে রাখেনইনি বাগান কোচ লোবেরা। বলেই দেন, সামনে লম্বা ব্রেক আছে, সঙ্গে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, তাই তিনি আপুইয়াকে নর্থ ইস্ট ম্যাচে খেলানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন না। পাঞ্জাব ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার আলবার্তো রডড্রিগেজ। লোবেরা আশা করেছিলেন, আলবার্তো নর্থ ইস্ট ম্যাচের আগে ঠিক হয়ে যাবেন। কিন্তু ফিট না হওয়ায় আলবার্তোকে নিয়ে গুয়াহাটি যাননি তিনি।

আলবার্তো না থাকায় লোবেরার কোনও সমস্যা ছিল না। কারণ তাঁর হাতে একাধিক বিকল্প। নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে লোবেরা তাঁর পছন্দের ৪-‌৪-‌১-‌১ ছকে দুই স্টপারে টম আলড্রেডের সঙ্গে মেহতাবকে জুড়ে দেন রক্ষণের জমাট ভাব অটুট রাখতে। পাঞ্জাব ম্যাচে খেলা প্রথম একাদশের জায়গায় কয়েকটা বদল আনেন লোবেরা। মনবীরের বদলে শুরু থেকেই নর্থ ইস্ট ম্যাচে নামান সাহালকে। তবে সাহাল ভেতরের দিকে এসে খেলায় রবসন মূলত উইংয়ে সরে যান বাঁপ্রান্তে। লিস্টনকে তাতে প্রান্ত বদল করে বাঁদিকে চলে আসতে হয়। আলবার্তো না থাকায় লোবেরা আক্রমণে তিন বিদেশি ম্যাকলারেন, রবসন ও কামিংসকে একসঙ্গে খেলানোর সুযোগ পেয়ে যান। এতে লাভই হয় মোহনবাগানের।

প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্ট ডুরান্ড জয়ের পর চেনা ছন্দে নেই। তার বড় একটা কারণ তাদের গোলমেশিন আলাদীন আলাদিনের না থাকা। নর্থ ইস্ট কোচ পেড্রো বেনালি তাঁর অভাব পূরণ করতে পারেননি, দলটাও ঠিকমতো গোছাতে পারেননি। একইসঙ্গে মোহনবাগান ম্যাচে তাদের খেলতে হয়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার জিতিন এমএস ছাড়া। তার ফলে যে লড়াইটা এর আগে নর্থ ইস্টের খেলায় ধরা পড়ত, সেটা আর নজরেই আসেনি। রবিবারও মোহনবাগান ম্যাচে ছন্নছাড়া ভাবটা কাটাতে পারেনি।

বরং শুরু থেকেই ঝড় তুলে ৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মোহনবাগান এসজি রবসন রবিনহোর দর্শনীয় গোলে। লিস্টনের থ্রো জেসন কামিংসের কাছে গেলে তিনি পাস বাড়ান সাহালকে। সেই বল ধরে সাহাল কাট ব্যাক করে নর্থ ইস্ট বক্সের মাঝে রাখলে, রবসন ডান পায়ের জোরালো উঁচু শটে দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে বল জালের ভেতর পাঠান। রবসনের বাঁক খাওয়া শট রোখার কোনও সুযোগ পাননি নর্থ ইস্ট গোলকিপার গুরমিত।

আরও গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। সাহালের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে যায়। লিস্টন , কামিংস ও রবসনের তিনটি গোলের প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। গুয়াহাটির আকাশে বিদ্যুতের ঘনঘটার সঙ্গে মাঠে গোড়ালির ওপর জল জমা হয়ে যাওয়ায় বিরতির পর আর খেলাই শুরু করতে পারেননি রেফারি ক্রিস্টাল জন। ম্যাচ কমিশনার বিনোদ সিং নিজেও সব ফুটবলারদের মাঠে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন। প্রাথমিকভাবে ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সময়টা মাঠের জল সরানোর কাজেই ব্যস্ত ছিলেন মাঠকর্মীরা। কিন্তু বৃষ্টি থামা, মাঠের জমা জল সরানোর গোটা প্রক্রিয়া সারতে ১ ঘন্টারও বেশি সময় লেগে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে যে সময় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল, তার থেকে ১ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর খেলা শুরু হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও বর্ষণ জারি ছিল। নর্থ ইস্ট শিবির বারবার ম্যাচ বন্ধের আবেদন জানালেও রেফারি খেলা থামাননি। ম্যাচ শেষ করেন। এই অর্ধে মোহনবাগানের আধিপত্য বজায় ছিল। তবে নর্থ ইস্ট চেষ্টা করেছিল সমতা ফেরাতে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্টের কারণে তারা সেই গোলটা পায়নি। ম্যাচ শেষে রেফারির দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় নর্থ ইস্ট কোচ পেড্রো বেনালিকে। তাঁর ক্ষোভ মাঠে ঘাসের নীচে জমা জল থাকা সত্ত্বেও জোর করে ম্যাচ শেষ করেছেন রেফারি। ফলস্বরূপ লাল কার্ড দেখেন বেনালি, নর্থ ইস্ট দলের বাকিরা পরিস্থিতি সামাল দেন উত্তেজনা থামিয়ে।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক সিং, মেবতাব, টম, শুভাশিস, লিস্টন(‌কিয়ান)‌, সাহাল(অভিষেক সূর্যবংশী)‌‌, অনিরুদ্ধ, রবসন(‌মনবীর)‌, কামিংস(‌টাংরি)‌, ম্যাকলারেন(‌অময়)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *