Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
এএফসি কাপ ২০২৩

অলস্পোর্ট ডেস্ক: গত সপ্তাহে নেপালের মাচিন্দ্রা এফসি-কে হারানোর পরে এ বার এএফসি কাপ ২০২৩-এর লড়াইয়ে বাংলাদেশের আবাহনী লিমিটেডের মুখোমুখি আইএসএল চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই ম্যাচের লড়াই জিতে গ্রুপ পর্বে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য কতটা তৈরি তারা?

গত বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মাচিন্দ্রা এফসি-কে ৩-১-এ হারিয়ে এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের দ্বিতীয় প্লে অফে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে সবুজ-মেরুন বাহিনী। আনোয়ার আলির জোড়া গোল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বিশ্বকাপার জেসন কামিংসের গোলে সে দিন রীতিমতো দাপুটে জয় পেলেও খুব একটা খুশি ছিলেন না তাদের স্প্যানিশ কোচ হুয়ান ফেরান্দো।

আসলে যতটা ভাল ও গোছানো ফুটবল তারা খেলবে বলে আশা করা হয়েছিল, ততটা না হওয়ায় কোচের মুখে তেমন হাসি দেখা যায়নি। নতুন একটা কম্বিনেশন তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে সবে। যে কম্বিনেশনের মধ্যে একাধিক বিদেশি ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা এই প্রথম ভারতে এসে খেলা শুরু করেছেন। এখানকার পরিবেশ, ফুটবলের ধরন, সতীর্থদের স্টাইল ইত্যাদির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁদের সময় লাগবে।এখন সেই শিক্ষারই সময় তাদের। তাই নিজেদের সেরাটা এখনই দেখাতে পারছেন না জেসন কামিংস, আরমান্দো সাদিকুরা।

মাচিন্দ্রার বিরুদ্ধে তাও অনবদ্য একটি গোল করেন কামিংস। তবে সে গোলের অর্ধেক কৃতিত্ব অনিরুদ্ধ থাপারই প্রাপ্য ছিল। মাঝমাঠ থেকে গোলটি তাঁকে প্রায় সাজিয়ে দেন ভারতীয় তারকা মিডফিল্ডার।অনেকটা দৌড়ে যখন বক্সে ঢুকে গোলে বল ঠেলে দেন কামিংস, তখন তাঁর সামনে প্রতিপক্ষের গোলকিপার ছাড়া কেউই ছিলেন না।

তবে কামিংসের ওই গোলের চেয়েও সে দিন আরও দামী হয়ে ওঠে আনোয়ার আলির জোড়া গোল। ম্যাচের ৩৮ ও ৮৬ মিনিটে দু’টি গোল করে সবার নজর কেড়ে নেন সবুজ-মেরুন শিবিরে নবাগত ডিফেন্ডার, যিনি এখন ভারতীয় দলেও নিয়মিত। সেটপিস থেকে তাঁর হেডেগোল যে প্রতিপক্ষের কাছে ত্রাস হয়ে উঠতে পারে, সেই ম্যাচেই তা বুঝিয়ে দেন আনোয়ার।

ভুল শুধরে ভাল ফুটবলের আশা

মঙ্গলবার যুবভারতীতে আবার একটা ম্যাচ। প্রতিপক্ষ অবশ্যই আগের ম্যাচের চেয়ে শক্তিশালী। গত ম্যাচের ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে না পারলে এই ম্যাচে সমস্যায় পড়তে হতে পারে তাদের। এই প্রসঙ্গে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে সবুজ-মেরুন কোচ বলেন, “আমরা কোনও সময়েই নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি খুশি হই না। সব সময়ই কিছু না কিছু জায়গায় উন্নতি করার সুযোগ থাকে। কখনও আবার সময়ের অভাবে সব সমস্যা সমাধানের সুযোগ পাওয়াও যায় না। এখন যেমন ঘন ঘন ম্যাচ থাকছে, অনুশীলনের বেশি সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। কম সময়ে আমরা কিছু খুঁটিনাটি ভুল বুঝে নিতে পারি, সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করতে পারি। সেগুলোই করার চেষ্টা করছি। এ ভাবেই কাজ করতে করতে এগোতে হবে আমাদের। আশা করি, আপাতত এএফসি কাপ ও ডুরান্ড কাপে সাফল্য আসবে”।

গতকালই তাদের ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত হয়েছে। একইসঙ্গে চলছে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগও, যেখানে শেষ ম্যাচে তারা দু’গোল খেয়ে হেরে গিয়েছে। মঙ্গলবারের ম্যাচের পরে ডুরান্ড কাপের প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে জানিয়ে দিলেন ফেরান্দো। আপাতত তাদের প্রধান লক্ষ্য আবাহনীকে হারিয়ে এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বের ছাড়পত্র পাওয়া।

গত বছর তৎকালীন এটিকে মোহনবাগান সে বারের এএফসি কাপের বাছাই পর্ব ও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি কলকাতায় খেলে। এপ্রিলে তারা শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার ও ঢাকার আবাহনী লিমিটেডকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। মে মাসে গ্রুপ পর্বে তারা গোকুলম কেরালা এফসি-র কাছে ২-৪-এ হারলেও বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসকে ৪-০ ও মলদ্বীপের মাজিয়া এসআরসি-কে ৫-২-এ হারিয়ে ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে ওঠে।
সেপ্টেম্বরে এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে কুয়ালালামপুর এফসি-র কাছে ১-৩-এ হেরেছিল এটিকে মোহনবাগান। ৯০ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থাকার পর ফারদিন আলি মোল্লার গোলে সমতা আনে তারা। কিন্তু স্টপেজ টাইমে পরপর দু’গোল খেয়ে ম্যাচ হেরে যায়।

লক্ষ্য এএফসি কাপ

এ বছর ফের এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়নরা। আইএসএল ছাড়াও যে এএফসি কাপেরকথা ভেবে দুর্দান্ত দল গড়েছে মোহনবাগান এসজি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কাতারে বিশ্বকাপে খেলে আসা সেন্টার ফরোয়ার্ড জেসন কামিংস ও আলবানিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ২০১৬-য় খেলা সেন্টার ফরোয়ার্ড আরমান্দো সাদিকু-কে সই করিয়েছে মোহনবাগান এসজি। ভারতের সেরা তারকাদেরও একে একে নিজেদের শিবিরে নিয়ে এসেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ভারতীয় দলের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে কলকাতার ক্লাব। গতবারই এসেছিলেন আশিক কুরুনিয়ান। এ বার এলেন সহাল আব্দুল সামাদও। আনোয়ার আলির কথা তো আগেই আলোচনা হয়েছে।

তাই এএফসি কাপের এই ম্যাচকেই এখন ফাইনাল বলে মনে করছেন ফেরান্দো। বলেন, “ম্যাচটা সোজা হবে না। আমাদের কাছে এটাই ফাইনালে। একটা ফাইনালে যে লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামি আমরা, এখানেই সেই লক্ষ্য নিয়েই নামব। টানা ৯০ মিনিট ধরে ফোকাস বজায় রাখাটা খুবই জরুরি”।

আইএসএলে যেমন চারজনের বেশি বিদেশি মাঠে নামানো যায় না, এএফসি কাপে কিন্তু তা নয়, ছয় বিদেশিকে মাঠে নামানো যায়। যার জন্য আবাহনী আটজন বিদেশিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মোহনবাগান কি ছয় বিদেশিকে একসঙ্গে মাঠে নামাবে? বোধহয় না, প্রয়োজন হলে বিদেশির সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
তবে এই প্রসঙ্গে কোচের গলায় ভিন্ন সুর শোনা গেল। তিনি বলছেন, “আমার মনে হয় দুই দলই তাদের সেরা এগারো নামানোর চেষ্টা করবে। আমার কাছে চার বিদেশি বা ছয় বিদেশি খেলানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, দলের যে এগারোজনকে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজন হবে, যে এগারোজন সবচেয়ে ভাল অবস্থায় থাকবে, সেই এগারোজনকেই শুরু থেকে মাঠে নামাব। তাতে চারজন বিদেশি থাকবে, না ছ’জন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়”।

গত ম্যাচেই গোলের খাতা খুলেছেন কামিংস। ফলে এই ম্যাচে তিনি আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবেন। কিন্তু গত ম্যাচে দিমিত্রি ও সাদিকুদের তাঁদের সেরা ফর্মে পাওয়া যায়নি। তবে এই দুই আক্রমণাত্মক জুটিকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ফোরান্দো। বলেন, “দু’জনেই ক্রমশ উন্নতি করছে। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনে ওরা নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। চোট আঘাতের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। সে সবও নজরে রাখা হচ্ছে”।

কিন্তু পেট্রটস ও আশিক যে পুরোপুরি ফিট নন, সে কথাও জানিয়ে দিলেন কোচ। মঙ্গলবার শুরু থেকে এই দু’জনকে মাঠে দেখা যাবে কি না, এই নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেই ইঙ্গিত তাঁদের কোচের কথাতেই রয়েছে। বলেন, “দিমিত্রি ও আশিককে নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। কালকের ম্যাচের আগে অনেকটা সময় আছে। তার মধ্যে একটা ট্রেনিং সেশনও আছে। ওদের পক্ষে এখনই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা বোধহয় সম্ভব না। সময় লাগবে। ওদের খেলানো যাবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের আগে”।

আশিক না খেলতে পারলে সম্ভবত লিস্টন কোলাসোকে নামানো হবে। তাই এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে কোলাসোকে সঙ্গে করেই নিয়ে আসেন ফেরান্দো। যিনি বলেন, “ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে ফর্ম ফিরে পেয়েছি। অনুশীলনেও চেষ্টা করছি যাতে ছন্দে ফিরতে পারি। আমি খুবই আশাবাদী, কালকের ম্যাচে সুযোগ পেলে নিজেকে ফের প্রমাণ করতে পারব”।

আট বিদেশি নিয়ে কলকাতা যাত্রা

যেহেতু ছয় বিদেশিকে খেলানো যাবে, তাই এই ম্যাচে আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের হারাতে আট বিদেশিকে নিয়ে কলকাতায় এসেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। গত বুধবার সিলেটে ক্লাব ইগলসের বিরুদ্ধেতারা মাঠে নামায় ঢাকা মহমেডান, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ফর্টিস এফসি থেকে লোনে নেওয়া তিন বিদেশি উজবেকিস্তানের মোজাফ্ফরভ, গ্রানাডার কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট ও ব্রাজিলের দানিলো অগাস্তোকে। খেলেন ইরানের মিলাদ শেখ ও নাইজেরিয়ার দুই ফুটবলার এমেকা ও ওজোকু ডেভিড। ইগলসকে তারা হারায় শেখ জামাল ও ফর্টিস থেকে নেওয়া দুই বিদেশি স্টুয়ার্ট ও দানিলোর গোলে।

এ ছাড়াও নবনিযুক্ত দুই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারব্রুনো মাতোস ও জোনাথন রেইসকে এএফসি কাপের জন্যই দলে নিয়েছে তারা। গত ম্যাচে অবশ্য ব্রুনো, জোনাথন কারোরই জায়গা হয়নি স্কোয়াডে। সে দেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ জানাচ্ছে, ব্রুনো খেলতে পারেননি আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে। জোনাথনকে খেলানো হয়নি সিলেটের বৃষ্টিভেজা কাদায় ভরা মাঠের কারণে।এই দু’জনই এই ম্যাচে খেলতে পারেন।

কিন্তু প্রতিপক্ষের বিদেশিদের কী ভাবে সামলাবেন, যেখানে দু’জন বিশ্বকাপ ফেরত ও একজন ইউরো ফেরত খেলোয়াড় রয়েছেন? আবাহনীর পর্তূগীজ কোচ মারিও লেমোস এ দিন কলকাতায় পৌঁছে বলেন, “বিশ্বকাপার, ইউরোকাপারদের আটকাতে হলে আমাদের দলগত ভাবে তাদের আটকাতে হবে। কোনও একজন বা দু’জনের পক্ষে ম্যানমার্কিং করে ওদের আটকানো কঠিন। আরও একটা উপায় আছে, ওরা যে জায়গায় খেলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, ওদের যদি সেই জায়গাগুলো থেকে সরিয়ে রাখা যায়, তা হলেও আমরা সফল হতে পারি। আমাদের অবশ্যই সেই চেষ্টা করতে হবে”।

ফেরান্দো যা শুনে হেসে বলেন, “প্রতি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের পজিশন বদলাতে পারে। কারণ, প্রতিপক্ষ, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি ম্যাচেই পরিকল্পনা বদলাতে হয়। ম্যাচের মধ্যেও কখনও কখনও খেলোয়াড়রা জায়গা বদল করে। আসল ফুটবল এটাই, যেখানে একজন ফুটবলার বিভিন্ন জায়গায় খেলতে পারে। কালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমাদের প্ল্যান বি, প্ল্যান সি তৈরি রাখতে হবে। প্রতিপক্ষের খেলা বুঝে নিয়ে যাতে আমরা আমাদের পরিকল্পনা প্রয়োজন মতো বদলে নিতে পারি”।

তবে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন তিনি। বলেন, “আবাহনী সেট পিসে শক্তিশালী। ওদের উইঙ্গার ও ফরোয়ার্ডরা বেশ গতিসম্পন্ন। ওঠানামার সময় খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। ওদের ভাল ভাল খেলোয়াড় আছে। গত ম্যাচে মাঠের অবস্থা ভাল ছিল না বলে ওদের একটু অসুবিধা হয়েছিল। তার মধ্যেও ভাল ওঠানামা করেছে। খেলা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল”।

‘শুরুতে আটকে রাখতে পারলে…’

একই রকম শ্রদ্ধাশীল আবাহনীর কোচও। তিনি বলেন, “ওরা যথেষ্ট ভাল দল। ওদের বিরুদ্ধে গত বছর যে ভুলগুলো করেছিলাম, সেগুলো শুধরে নিয়ে খেলতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। ওদের একটা নির্দিষ্ট দর্শন আছে। যে দর্শন নিয়ে খেলে ওরা সফল হয়েছে। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার প্রবণতা নিয়ে মাঠে নামে। ওদের প্রতি যথেষ্ট সমীহ আছে আমাদের। ওদের আগে আটকাতে হবে। প্রথম কুড়ি-পঁচিশ মিনিট যদি ওদের আটকে রাখতে পারি, তা হলে ম্যাচটা ওপেন হয়ে যেতে পারে”। সম্ভবত এটাই হতে চলেছে বাংলাদেশী দলের কৌশল, যা সচরাচর কোনও কোচকে ম্যাচের আগে বলতে শোনা যায় না।

গত পাঁচ বছরে তিনবার দেখা হয়েছে দুই দলের মধ্যে। দু’বার ৩-১-এ জিতেছে কলকাতার দল, একবার ১-১ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, এই পাঁচ বছরে সবুজ-মেরুন বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ের মুখ দেখেনি নীল-হলুদ শিবির। এ বার কী হয়, সেটাই তো মঙ্গলবার যুবভারতীর মূল আকর্ষণ।

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *