মুনাল চট্টোপাধ্যায়: মঙ্গলবার দোলের দিন সকালের ছবিটা ছিল অন্যরকম। বলতে সবুজ মেরুন সমর্থকদের জন্য হতাশাজনক। কারণ ফেডারেশন শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি শাস্তিস্বরূপ ৬ মার্চ অনুষ্ঠেয় ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচটা দর্শকশূণ্য যুবভারতীতে খেলার নির্দেশ জারি করেছিল। সেটা যদি হত, তাহলে নিজেদের সমর্থকদের সামনে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগটা হারাত মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেটা যে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা ও তাঁর ফুটবলারদের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জিং হত, বলাই বাহুল্য।
কিন্তু রাতেই সে ছবিটা বদলে যায়। মোহনবাগানের যুক্তিসঙ্গত আবেদনে সাড়া দিয়ে সম্পূর্ণ দর্শকশূণ্য মাঠে খেলার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি। পরিবর্তে তারা জানায়, ওড়িশা ম্যাচে মোহনবাগান যুবভারতীতে ৭০ শতাংশ দর্শকের সামনে ম্যাচ খেলতে পারবে। এতে হাজার হলেও সবুজ মেরুন ব্রিগেডের ওপর চাপ অনেকটাই কমল। সমর্থকদের উপস্থিতি সবসময়ই ভাল খেলার বাড়তি টনিক মোহনবাগান ফুটবলারদের কাছে। বিশেষ করে ওড়িশা এফসির মতো সাদামাটা দলের বিরুদ্ধে।
মোহনবাগানের হেডস্যার লোবেরার দর্শনে প্রতিপক্ষকে হাল্কাভাবে নেওয়ার কোনও বদ অভ্যাস নেই। তাই ওড়িশার শক্তি যাই হোক না কেন, তিনি গত তিন প্রতিপক্ষের মতোই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। আইএসএলের প্রথম ৩ ম্যাচে জয়ের পরও আত্মতুষ্টির কোনও মনোভাব প্রকাশ পায়নি তাঁর গলায়। ওড়িশা দলে একমাত্র বিদেশি ফুটবলার কার্লেস দেলগাডো। তবু প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবতে নারাজ লোবেরা। বললেন, ‘ এটা ঠিক ভারতীয় ফুটবলারের সঙ্গে একাধিক ভাল বিদেশি থাকলে, সেই দলের স্ট্রংথ বাড়ে। কিন্তু তার মানে বিদেশি কম বলে কোন দলকে দুর্বল ভাবা যাবে না। ওড়িশা দলে ভাল মানের ভারতীয় ফুটবলার আছে। আমি যখন কোচ ছিলাম, তখন বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা নিয়মিত খেলেছে। সেই তালিকায় সেভিও গামা, ইসাক, রাহুল কেপি, রহিম আলির মতো ফুটবলার আছে। তাই লড়াইটা সহজ হবে না।’ ওড়িশা এখনও পর্যন্ত ২ ম্যাচ খেলে অপরাজিত রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাদের হাল্কাভাবে নিয়ে পয়েন্ট খোয়ানো মানে পচা শামুকে পা কাটা। সেটা কখনওই চাইবেন না লোবেরা ও তাঁর ফুটবলাররা।
ওড়িশার প্রাক্তন কোচ হিসেবে বাড়তি কোনও অনুভূতি ওই ম্যাচে থাকবে কিনা জানতে চাওয়ায় লোবেরা বলেন, ‘ যেহেতু দু’মরশুম ওড়িশার কোচ হিসেবে অনেক ভাল সময় কাটিয়েছি, মধুর মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি, তাই এই ম্যাচটা আমার কাছে স্পেশাল। তবে আমি এখন তো আর ওদের কোচ নই, মোহনবাগানের দায়িত্বে, তাই একজন পেশাদার কোচ হিসেবে বাড়তি আবেগ সরিয়ে রেখে ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য। ম্যাচ জিততে যে কৌশল নেওয়া জরুরি, সেটাই নেব।’
ইতিমধ্যেই আইএসএলের প্রথম ৩ ম্যাচ জিতে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মোহনবাগান। গোল পার্থক্যেও ভাল জায়গায়। সেক্ষেত্রে ওড়িশা ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিতে গোল পার্থক্য আরও বাড়িয়ে নিতে চান কিনা, এই প্রশ্নে লোবেরার জবাব, ‘ গোল বাড়ানোর কথা ভাবছি না। আগে জয় নিশ্চিত করে পকেটে ৩ পয়েন্ট পুরতে চাই। আমরা যদি পরপর সবল ম্যাচ জিতি, ৩ পয়েন্ট পাই, তাহলে গোল পার্থক্য নিয়ে ভাবতে হবে না। সেটাই প্রাথমিক লক্ষ্য।’
মহমেডান ম্যাচে ২ গোল করার পরই চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছেড়েছিলেন বাগানের ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহো। তবে ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রবসন জানিয়েছিলেন, পায়ের পেশিতে একটা ব্যথা রয়েছে। তবে আশা করছেন, পরের ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন। অবশ্য কোচ চাইলে। বুধবার যুবভারতীতে সাংবাদিক সম্মেলনে রবসনের চোটের অবস্থা কেমন, তিনি ওড়িশা ম্যাচে খেলতে পারবেন কিনা, এই প্রশ্নে লোবেরার জবাব, ‘ এখনও হাতে ২ দিন সময় আছে। আমার মেডিকেল টিম, ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে জানব রবসন কতটা ফিট। তারপর ম্যাচের আগে রবসনের ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ রবসনের খেলার ব্যাপারে একটা ধোঁয়াশা রেখেই দিলেন তিনি। তবে এটুকু বুঝতে অসুবিধা নেই, যে কোচের হাতে সমদক্ষতাসম্পন্ন ২২ জন দেশি ও বিদেশি ফুটবলার, তিনি সামান্য চোট থাকা কোনও ফুটবলারকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেবেন না। ম্যাকলারেন, দিমিত্রি, কামিংস তো আছেনই হাতে ভরসা জোগাতে। সঙ্গে বিকল্প ভারতীয় ফরোয়ার্ড। আর বুধবার যুবভারতীর ট্রেণিং গ্রাউন্ডের অনুশীলনে দুই থেকে তিন মিনিট মাঠে থেকে, কোচের সঙ্গে কথা বলে ফিজিওর সঙ্গে সাজঘরে ঢুকে পড়েন রবসন। অতএব বুঝতে অসুবিধা নেই, রবসনের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
যে কোচের হাতে বিকল্প ভাল ফুটবলার থাকে না, অর্থাৎ রিজার্ভ বেঞ্চে শক্তিশালী হয় না, তাঁকে অনেক ভেবে চিন্তে দল সাজাতে হয়। চোট সমস্যা সেই কোচকে ভাবনায় ফেলে। কিন্তু মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরার ‘সমস্যা’ একবারে অন্যরকম। ২২ জনই প্রথম একাদশে খেলার যোগ্য। তাই কাকে ছেড়ে কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে রীতিমতো ভাবতে হয় লোবেরাকে। এমন সমস্যার কারণে গত মরশুমে নিয়মিত স্টপারে আলবার্তোর পাশে খেলা টম আলড্রেডের এবার প্রথম একাদশে জায়গা হচ্ছে না। বদলি হিসেবে নামতে হচ্ছে শুরু থেকে আলবার্তোর পাশে মেহতাব সিং খেলার জন্য।
আলড্রেডের কাছে প্রশ্ন ছিল, এতে কি কোনও হতাশা জাগছে মনে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ না মেলায়? আলড্রেডের গলায় দলগত সংগতির সুর। বলেন, ‘ প্রথম একাদশে সকলেই খেলতে চায়। কিন্তু সব কোচেরই কিছু না ভাবনা থাকে। কোচ লোবেরাও আছে। প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচ দল বাছাই করছেন। আমার কাজ ভাল খেলা। আসল লক্ষ্য হল প্রতিটি ম্যাচ জেতা ও ট্রফি ঘরে আনা। তাই যখনই মাঠে নামি কেন, সেরা দিতে তৈরি থাকব। সমর্থকদের জয় উপহার দিয়ে খুশি করতে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
