Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আইএসএল

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (‌এআইএফএফ)‌ ও ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মধ্যে (‌এফএসডিএল)‌ মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (‌এমআরএ)‌ নিয়ে কোনও সন্তোষজনক সমাধান না মেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে গেছে আইএসএল। এই পরিস্থিতিতে আইএসএলে অংশগ্রহণকারী একাধিক ক্লাব সমস্যায় পড়েছে। তাদের অন্যতম হল, ওড়িশা এফসি । আইএসএল কবে শুরু হবে, সেই ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়ে ওড়িশা এফসি টিম ম্যানেজমেন্ট আপাতত ক্লাবের সমস্ত কাজকর্ম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওড়িশা এফসির অভিভাবক সংস্থা হল দিল্লি সকার প্রাইভেট লিমিটেড। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা ওড়িশা এফসির সঙ্গে জড়িত পরিচালক মন্ডলী, কর্মী, কোচ ও ফুটবলারদের ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। জানিয়েছে, ‘‌ফোর্স মেজর’‌ ইস্যুতে, অর্থাৎ অনিবার্য কারণবশত, বর্তমান অবস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকায়, ৫ আগস্ট থেকে ক্লাবের সঙ্গে জড়িত কর্মী ও ফুটবলারদের যাবতীয় চুক্তি আপাতত বাতিল বলে গন্য করা হচ্ছে।

এই বিজ্ঞপ্তিতে সাক্ষর করেছেন ক্লাবের কর্তা অজিত পান্ডা। তাঁর বক্তব্য, ‘‌ এআইএফএফ ও এফএসডিএলের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার জন্য ২০২৫-‌২৬ মরশুমে আইএসএল অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট নিয়ে টালবাহানার জন্য। যেটা একটু সচেতন হলে এই সমস্যা এড়ানো যেত। ফলে এমন একটা অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে, যাতে ওড়িশা এফসি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সবদিক বিবেচনা করে, সব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে ক্লাব। ৫ আগস্ট থেকে ওড়িশা এফসি ক্লাবের দৈনন্দিন কাজকর্ম স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছি। কবে এই জট খুলবে, তা অজানা। অন্যদের মতো আমরাও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছি, ফেডারেশনের নতুন সংশোধিত সংবিধান আসা, নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির গঠন, এআইএফএফ ও এফএসডিএলের মধ্যে চুক্তি বিতর্ক মিটিয়ে আইএসএল চালুর। তবে যতদিন সেটা না হচ্ছে, ততদিন চাই না ওড়িশা এফসির সঙ্গে জড়িত কর্মী, কোচ, ফুটবলাররা সমস্যায় পড়ুক। তাই এদের সবাইকে বর্তমান চুক্তি থেকে অব্যহতি দেওয়া হচ্ছে। যারা চাইবে, তারা বর্তমান চুক্তি বাতিল করে অন্যত্র চলে যেতে পারে, কোনওরকম শর্ত ছাড়া।’‌

অনেকের ধারনা, এটা ফেডারেশনের, বিশেষ করে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবের ওপর চাপ বাড়াতেই এই পথে হাঁটছে ওড়িশা এফসি। পাশাপাশি ওড়িশা এফসি নিজেই আর্থিক সংকটের মুখে ভুগছে। তারা ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ার একটা অছিলা খুঁজছে। ওড়িশা রাজ্য সরকার ও ক্রীড়াদপ্তর যখন অন্যান্য খেলাধুলোর পেছনে বিপুল পরিমান অনুদান দেয়, তখন ওড়িশা এফসি দলের জন্য কেন সেটা দেবে না? তাদের যুক্তি, ওড়িশায় এর আগেও‌ ফুটবলের চল থাকলেও, ওড়িশা এফসির কারণে একটা নতুন ফুটবল কালচারের পরিবেশ তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। ওড়িশা রাজ্য সরকার ভারতীয় হকির সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক, এমনকি অন্যান্য খেলাধুলো ও অ্যাথলিটদেরও। তাহলে ফুটবল কেন বঞ্চিত হবে?‌ কিন্তু ওড়িশা সরকার সাফ জানিয়েছে, কোনও ফুটবল ক্লাবের জন্য তারা আলাদা কোনও বিনিয়োগ করবে না। তাদের যুক্তি, ইতিমধ্যেই ওড়িশা এফসিকে রাজ্যের মূলত ভুবনেশ্বরের ফুটবল পরিকাঠামো ব্যবহারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেয়। ম্যাচ আয়োজনে সবরকম সহযোগিতা। তাই নতুন করে আর কোনও আর্থিক অনুদান দেওয়া সম্ভব নয়।

এখন এটাই দেখার, দল তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ওড়িশা এফসি কর্তৃপক্ষ ওড়িশা রাজ্য সরকারের সহানুভূতি ও অনুদান আদায় করে নিতে পারে কিনা?‌ এও একধরনের চাপের খেলা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *