সুচরিতা সেন চৌধুরী: যখন মনে হচ্ছে এখানেই শেষ হয়ে গেল ম্যাচ তখনই ঘুরে দাঁড়িয়েছে মোহনবাগান। সে হায়দরাবাদ ম্যাচ হোক বা বুধবারের ওড়িশা ম্যাচ। এদিন জয় আসেনি ঠিকই তবে শেষ বেলায় এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহনবাগান। যে কারণে এদিন কোনও দলকেই উৎসবে মাততে দেখা গেল না। বরং সকলের মধ্যেই হতাশা সঙ্গে কিছুটা ক্ষোভও দেখা গেল। যেভাবে শেষ মুহূর্তে গিয়ে দুই পয়েন্ট হারানো মেনে নিতে পারছেন না ওড়িশা কোচ সার্জিও লোবেরা সেভাবেই তাঁদের বিরুদ্ধে পেনাল্টিটাও মানতে নারাজ মোহনবাগানের জোড়া গোলের মালিক আর্মান্দো সাদিকু ।
সাদিকু এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে স্পষ্ট দাবি করলেন পেনাল্টিটা ছিল না। তিনি বলেন, “কোনওভাবেই ওটা পেনাল্টি হয় না। ওদের লক্ষ্যই ছিল সময় নষ্ট করা। ওরা পুরো ম্যাচে সময় নষ্ট করছিল অনেক যাতে খেলাটাই নষ্ট হয়ে যায়।” এর সঙ্গে তিনি দাবি করেন আর একটু সময় পাওয়া গেল খেলার ফল অন্যরকম হতে পারত। তিনি বলেন, “ম্যাচে যদি আর পাঁচ মিনিট সময় পাওয়া যেত তাহলে আর একটা গোল হয়ে যেত আর আমরা জিততে পারতাম।”
তবে তিনি নিজের কোনও গোলকেই এগিয়ে রাখছেন না বরং তিনি এগিয়ে রাখছেন দলের এক পয়েন্টকে। এদিকে আগে থেকে দলে একাধিক চোট-আঘাত তো ছিলই তার মধ্যে এদিনের ম্যাচে তাতে আরও বেশ কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে আসা মোহনবাগানের সহকারি কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা বলছিলেন, “চোটের তালিকাটা দীর্ঘ। তবে সবার এখনই কী অবস্থা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে মনে হচ্ছে না অনিরুদ্ধ থাপা, কিয়ান নাসিরি বা সাহালের চোট খুব গুরুতর।” ম্যাচ শেষে যদিও সাহাল কে দেখা গেল রীতিমতো পা টেনে টেনে হেঁটে স্টেডিয়াম ছাড়তে।
এদিন প্রথমার্ধ ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করেছিল ওড়িশা এফসি। সেখান থেকে যখন ম্যাচ শেষ হল তখন খেলার ফল ২-২। যেটা মেনে নিতে স্বাভাবিক ভাবেই অসুবিধে হচ্ছে কোচ সার্জিও লোবেরার। তিনি মেনে নিলেন, শেষ মুহূর্তে যদি তাদের গোলমুখি শট পোস্টে না লাগত তাহলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। তখনও ১-২ গোলে পিছিয়ে মোহনবাগান। লোবেরা বলছেন আমরা খুব ভাল শুরু করেছিলাম কিন্তু তার পর অনেক কিছু ঘটল যেটা নিয়ে আমরা পরে কাটাছেড়া করব। তবে সব থেকে বেশি যেটা প্রভাব ফেলল সেটা হল গোলের সুযোগ নষ্ট করা। সেই গোলটা পেয়ে গেলে ৩-১ হয়ে যেত। ম্যাচটাই বদলে যেত।“
লোবেরা যে ম্যাচের ফল নিয়ে খুশি নয় সেটা মেনে নিলেন। তিনি বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমরা পজেশন হারাচ্ছিলাম, প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিচ্ছিলাম। আর অনেক কিছু ভুল হচ্ছিল।” এটাও মেনে নিলেন জোহুর চোট পেয়ে উঠে যাওয়াটা দলের খেলায় প্রভাব ফেলেছে। তবে দুই দলই এখন সামনের ম্যাচের দিকে তাকাতে চাইছে।
কোচ-প্লেয়ার বা কোচ-কোচ যে সমস্যাই মাঠের ভিতরে হোক না কেন মাঠের বাইরের দৃশ্যটা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। দুই দলের ফুটবলারদের দেখা গেল একে অপরের সঙ্গে গলা জরিয়ে মাঠ ছাড়তে। টিম বাসের সামনে আড্ডায় মাতলেন দুই দলের বিদেশিরা। স্বদেশিদের দেখা গেল হাসি-ঠাট্টাায় মেতে উঠতে। আসলে এটাই ফুটবল। বার বার এদিনও দুই কোচই একই কথা বলে গেলেন, “এটাই ফুটবল, যেখানে যে কোনও সময় যা কিছু হতে পারে।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
