অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মধ্যে কে বড়, কে এগিয়ে, এনিয়ে সবসময় লড়াই চালাচ্ছে এই দুই মেগাতারকা ফুটবলারের ভক্তরা। শুধু তাই ফুটবল দুনিয়া বিভক্ত এনিয়ে। প্রাক্তন বা বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে কেউ কেউ যখন সরাসরি সেরা হিসেবে একজনকে বেছে নেন, তখন অনেকেই এই প্রশ্নটা সুকৌশলে এড়িয়ে যান দুই ফুটবলারের দক্ষতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। কিন্তু এনিয়ে সোজাসাপ্টা নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কোনওরকম রাখঢাক না করে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ জিতুক, আর নাই জিতুক, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে পর্তুগালের অন্যতম ভরসা হিসেবে ধরে নিয়ে এগোচ্ছেন জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ৪১ বছর বয়সী তারকা স্ট্রাইকারের এটা রেকর্ড ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের আসরে আবির্ভাব ঘটবে, শেষপর্যন্ত ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললে। মার্টিনেজ যেভাবে রোনাল্ডোকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন, তাতে ২৬ বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যদি না অন্য কোনও অঘটনের শিকার হন রোনাল্ডো।
গত ৫টি বিশ্বকাপে( ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২) ২২ ম্যাচ খেললেও , রোনাল্ডো কখনও নকআউট পর্যায়ে কোনও গোল করেননি। যদিও ৫টি বিশ্বকাপেই তাঁর গোল আছে। ৮ গোলই এসেছে গ্রুপ পর্যায়ে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২য়ে একটি করে গোল, আর ২০২৮য় ৪টি। এর মধ্যে অবশ্য ৩টি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে।
সেখানে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপ জেতা ছাড়াও লিওনেল মেসির পা থেকে এসেছে রেকর্ড সংখ্যক গোল। শুধু গ্রুপ পর্যায়ে নয়, নকআউট পর্বে মেসির গোলে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে আর্জন্টিনা অনেকবার। বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচে ১৩ গোল , ৮টি অ্যাসিস্ট রয়েছে মেসির। আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তী। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে ট্রফি জয়ে মেসির পা থেকে এসেছিল দু’গোল। মেসি যদি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলেন, তাহলে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
কিন্তু যখন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিশ্বকাপ জিততে মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করা প্রয়োজন কিনা, তখন মার্টিনেজ পর্তুগাল ফুটবল সামিটের পডকাস্টে বলেন, ‘ রোনাল্ডোর দরকার নেই কাউকে অনুকরণ বা অনুসরণ করার। বিশ্বকাপ জিতুক , আর নাই জিতুক, রোনাল্ডো সর্বকালের সেরাই থাকবে। আমি এমন কোনও ফুটবলারের সঙ্গে কাজ করিনি, যে রোনাল্ডোর মতো প্রতিদিন নতুন করে মনঃসংযোগ করে নিজের খেলায় ও উন্নতির জন্য সবরকম চেষ্টা চালায়। যদি রোনাল্ডোকে সারাজীবন দলে পাওয়া যেত, তাহলে আমার দলে রেখে দিতাম। ও নবীন ফুটবলারদের কাছে একটা দৃষ্টান্ত। অন্যদের অনুপ্রাণিত করে নিজের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে। ওর মধ্যে সবসময় ভাল কিছু করার খিদে আছে।’
সৌদি ক্লাব আল নাসরে ২০২২য়ে যোগদানের পর থেকে ৯৭ প্রোলিগের ম্যাচে রোনাল্ডো করেছেন ৯৪ গোল। যার মধ্যে চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত করেছেন ২০ ম্যাচে ২০ গোল।
কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর সময় ভাল যায়নি। পর্তুগালের তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোসের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না রোনাল্ডো। তাঁকে নিয়ে সতীর্থদের মধ্যে ঝামেলা প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। তারওপর ফার্নান্দো স্যান্টোস সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রিকোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচে রোনাল্ডোকে খেলাননি। তাঁর জায়গায় খেলতে নেমে গনজালো র্যামোস হ্যাটট্রিক করেন। সেই সুবাদে পর্তুগাল ম্যাচ জিতেছিল ৬-১ গোলে। কিন্তু পরের রাউন্ডে হেরে ছিটকে যায় পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে। সেম্যাচেও শুরুতে নামার সুযোগ হয়নি রোনান্ডোর। একবারের শেষ লগ্নে কোচ ফার্নান্দো তাঁকে নামালেও, কোনও লাভ হয়নি। রোলান্ডো বারবার অনুরোধ করলেও, সতীর্থরা তাঁকে বল পাস করেননি। এতে হারের পর শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রোনাল্ডো।
অনেকের মনে সংশয় ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত রোনাল্ডো নিজেকে ফিট রাখতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে। কিন্তু রোনাল্ডো হাল ছাড়ার পাত্র নন। পর্তুগালের বর্তমান কোচ রবার্তো মার্টিনেজের ভরসার ফুটবলার হয়ে ওঠেন অচিরেই। তিনি মনে করেন, যাঁর দখলে ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোল, তাঁকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপের লড়াই ভাবা সম্ভব নয়। বলেন, ‘ ২১ বছর আগে জাতীয় দলে যোগ দেওয়া রোনাল্ডো আর এখনকার রোনাল্ডো এক নয়। এখন রোনাল্ডো আরও বেশি পজিশনাল ফুটবলার, স্ট্রাইকার হিসেবে আরও ধারালো। আমাদের জন্য রোনাল্ডো একজন পারফেক্ট ফিনিশার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে শেষ ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল করা রোনাল্ডোকে উপেক্ষা করা মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।’
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, ও কঙ্গো, জামাইকা, নিউ ক্যালেডোনিয়ার প্লেঅফ বিজয়ী দল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
