বায়ার্ন মিউনিখ ১(কেন) পিএসজি ১(ডেমবেলে)
দু’দফা মিলিয়ে ফল পিএসজির পক্ষে ৬-৫
অলস্পোর্ট ডেস্ক: পার্ক দ্য প্রঁসেতে ঘরের মাঠে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে প্রথম দফার শেষে বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ৫-৪ গোলে এগিয়ে ছিল। মাত্র এক গোলের এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে আলিয়াঁজ এরিনায় বায়ার্নের মাঠে ফিরতি দফার ম্যাচ খেলতে নেমেছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের সামনে খেলার চাপ সামলে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দফা ১-১ গোলে শেষ করার সুবাদে সার্বিকভাবে দু’দফা মিলিয়ে ৬-৫ এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গেল পিএসজি। ৩ মিনিটে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ওসমানে ডেমবেলে। ৯৪ মিনিটে হ্যারি কেনের সান্ত্বনা গোলে ম্যাচ ১-১ শেষ হলেও বায়ার্নের পক্ষে তা ফাইনালে ওঠার জন্য যথেষ্ট হয়নি। ৩০ মে বুদাপেস্টে ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি খেতাব ধরে রাখতে।
প্রথম দফায় পিএসজি ও বায়ার্নের মধ্যে টানটান উত্তেজনার ম্যাচের পুনরাবৃত্তি দ্বিতীয় দফায় না হলেও উপভোগ্য লড়াই দেখ গেছে দু’দলের মধ্যে। ভিনসেন্ট কোম্পানির দল বায়ার্ন নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই প্রথম আঘাত দেয় লুই এনরিকের পিএসজি ম্যাচের ৩ মিনিটে। জর্জিয়ান জিনিয়াস কুভিশা কোয়ারাতখেলিয়া বল নিয়ে তীব্র গতিতে দৌড়ে বায়ার্ন বক্সে পৌছে ক্রশ করলে, সেই বল জোরালো শটে গোলে পাঠান ওসমানে ডেমবেলে।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে ঘরের মাঠের সমর্থকদের চিৎকারের মাঝে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় বায়ার্ন। কিন্তু হ্যারি কেন সামনে থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হলে হতাশ হন বায়ার্ন সমর্থকরা। প্রথমার্ধে বায়ার্ন পেনাল্টির একটা জোরালো দাবি জানিয়েছিল। ভিতিনহার ক্লিয়ারেন্স সতীর্থ জোয়াও নাভাসের হাতে লাগায়। কিন্তু রেফারি ফুটবলের আইন ব্যাখ্যা করে বায়ার্নের দাবি নাকচ করে দেন। আইন বলছে, এক্ষেত্রে পেনাল্টি প্রযোজ্য নয়, কারণ বলটা নিজের দলের খেলোয়াড়ের ক্লিয়ারেন্সের সময় হাতে লাগে।
দ্বিতীয়ার্ধে লিগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছিল পিএসজি। তাদের ডিজায়ার দু’য়ে গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন একাধিকবার, কিন্তু বায়ার্নকে ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াইয়ে রেখে দেন জার্মানির কিংবদন্তী গোলকিপার বিশ্বকাপার ম্যানুয়েল নয়ার সেই প্রচেষ্টাগুলি রুখে। বায়ার্ন শেষপর্যন্ত গোল পেল ঠিকই, তবে সেটা অনেক দেরিতে। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে। ডেভিসের বাড়ানো বলে হ্যারি কেন গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। কিন্তু কেনের করা মরশুমের ৫৫ তম গোলে ম্যাচ ১-১ শেষ হওয়ায় সার্বিকভাবে দু’দফা মিলিয়ে ৬-৫ এগিয়ে থেকে লুই এনরিকের কোচিংয়ে পিএসজি পরপর দু’বছর ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করল।
গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা ও আর্সেনালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল পিএসজি। ফাইনালে তারা একতরফা প্রাধান্য দেখিয়ে ৫-০ গোলে চুর্ণ করেছিল ইন্টার মিলানকে। এবারের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দফায় ডিজায়ার দু’য়ে, কোয়ারাতখেলিয়া ও ডেমবলের মধ্যে বোঝাপড়ার কারণে আক্রমণের ঝাঁজ যখন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল পিএসজি। একইসঙ্গে মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটা দারুনভাবে চালিয়ে যান ভিতিনহা। প্রশংসনীয় ভূমিকা নেন অভিজ্ঞ মারকুইনোস পিএসজি রক্ষণ জমাট রেখে। আর্সেনালের বিরুদ্ধে ফাইনালে এটাই পিএসজিকে কিছুটা হলেও ভরসা জোগাতে পারে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
