Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এত সবুজ মেরুন সমর্থককে প্রিয় দলের অনুশীলন দেখতে মোহনবাগান গ্যালারিতে হাজির থাকতে শেষ কবে দেখেছি মনে পড়ছে না। আসলে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসে খেলে আসা ব্রাজিলিয় তারকা ফুটবলার রবসন রবিনহোকে প্রথমবার অনুশীলনে দেখার জন্য উপচে পড়েছিল ভিড়। সমর্থকদের মুখে ‘‌রবসন, রবসন’‌ চিৎকার। আর মঙ্গলবার সমর্থকদের জন্য অনুশীলন দেখার দরজা হাট করে খুলে দেওয়ায় রীতিমতো উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন মেরিনার্স ফ্যান্স ক্লাবের সদস্যরা।

সমর্থকদের এই উন্মাদনাই নতুন ক্লাব মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের জার্সিতে সেরা দেওয়ার প্রেরণা, বললেন রবসন রবিনহো প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথেনে। বেশ শক্তপোক্ত চেহারা। উচ্চতাও ভাল। মুখে চোখে একটা ঝকঝকে আত্মবিশ্বাসী ভাব আছে। সবচেয়ে বড় কথা বেশ হাসিখুশি। হাতে আঁকা উল্কিতে লেখা ‘‌নাগাতো’‌। জাপানের এক কার্টুনের খলনায়ক চরিত্র। মোহনবাগান সমর্থকদের প্রিয় ফুটবলার রবসন কাদের চোখে ভিলেন হয়ে উঠবেন, সেটা সময়ই বলবে। বসুন্ধরা কিংসে খেলার সময় অস্কার ব্রুজোঁর কোচিংয়ে ছিলেন। এবার সবুজ মেরুন জার্সিতে তাঁর পুরোন কোচের বিরুদ্ধে সেরা দিতে হবে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হলে। তা নিয়ে কোনও টেনশনে নেই রবসন।

ব্রাজিলিয় ফুটবলার হলেও ভাষা সমস্যা নেই। বরং ইংরেজিতে প্রশ্ন-‌উত্তরে বেশ সাবলীল। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে খেলা ও থাকার সুবাদে বাংলা ভাষাটাও বেশ রপ্ত করে ফেলেছেন। রবসন জানালেনও, তিনি কাজ চালানোর মতো বাংলা বুঝতে ও বলতে পারেন। কেমন সেটা বোঝাতে গিয়ে হাসি মুখে বললেন, ‘‌ চলো, চলো। আস্তে আস্তে, ধীরে ধীরে। কেমন আছেন?‌’‌ এমনকি বাংলাদেশের খাবারের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি আছে। তবে মশলাদার খাবার পছন্দ নয়। তাই বিরিয়ানি খেয়েছেন কম মশলার। বেশি ভাল লেগেছে হরেকরকম মিস্টি। কলকাতায় সব এসেছেন। এখানে চেখে দেখবেন সময়মতো।

মোহনবাগানকে কেন বাছলেন?‌ রবসনের স্পষ্ট জবাব, ‘‌ আমি বাছিনি, মোহনবাগানই আমাকে বেছেছে। বসুন্ধরা কিংসে খেলার সময় থেকেই মোহনবাগান অফিসিয়ালরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আমারও আগ্রহ ছিল সবুজ মেরুন জার্সিতে খেলা। ভারতের সেরা ও সফলতম ক্লাব। তাই ওদের প্রস্তাবে সাড়া দিতে দ্বিধা করিনি। এখন মাঠে নেমে সেরা দিতে চাই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে সাফল্য এনে দিতে, সমর্থকদের প্রত্যাশা মেটাতে।’‌

এখানে আসার আগে মোহনবাগান সম্পর্কে কতটা খোঁজ নিয়েছেন?‌ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বি ম্যাচের গুরুত্ব কতটা জানা?‌ রবসনের উত্তর, ‘‌ বসুন্ধরার হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মাটিতে খেলেছি। তাই মোহনবাগান আমার কাছে অপরিচিত নয়। বসুন্ধরার হয়ে এএফসি কাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সেতুলনায় এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিঃসন্দেহে বেশি। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি। সবুজ মেরুন জার্সিতে সফল হব, এই বিশ্বাস আছে। সম্প্রতি আমি ডুরান্ডে মোহনবাগানের খেলা ও ডার্বি দেখেছি। তাই ডার্বির আবেগ ও মাহাত্ম আমার জানা। ডার্বি খেলার সুযোগের অপেক্ষায় থাকব, মাঠে নামব জয়ে এনে দেওয়ার লক্ষ্যে।’‌

শেষ কবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন, এই প্রশ্নে রবসন জানালেন, ‘‌ মার্চ মাসে। তবে তারপর নিজেকে ফিট রাখতে মাঠে ও জিমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্র‌্যাকটিস চালিয়ে গেছি। মোহনবাগানে এসে ১৫ দিন প্র‌্যাকটিস করলে পুরো ফিট হয়ে যাব, এই বিশ্বাস আছে। মনে করি সবুজ মেরুন জার্সিতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র প্রথম ম্যাচেই সেরা দেওয়ার জায়গায় থাকব, কোচ আমাকে খেলার জন্য বাছলে।’‌

বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসে খেলেছেন। সেখানে মোহনবাগানে নতুন পরিবেশ, স্টাইল, কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কী অসুবিধা হতে পারে?‌ বিশেষ করে যেখানে মোহনবাগানে দেশি ও বিদেশি মিলে একঝাঁক তারকা ফুটবলার রয়েছে। প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রবসনের আত্মবিশ্বাসী জবাব,‘‌ জানি, কম্পিটিশনটা খুব টাফ। কিন্তু আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমি রোজ প্র‌্যাকটিসে সেরা দেব। বাকিটা কোচের ওপর নির্ভর করে, তিনি আমাকে খেলাবেন কিনা। আমার কোনও পছন্দের পজিশন নেই। দলের স্বার্থে নাম্বার নাইন, টেন, কিংবা মাঝমাঠের যেকোনও জায়গায় খেলতে পারি। গোল করতে ও করাতে দুটোই ভালবাসি। কিন্তু সবার ওপর বেশি গুরুত্ব দি দলের জয়ে। সেটাই আসল লক্ষ্য।’‌

মোহনবাগানে খেলে যাওয়া সমর্থকদের হার্টথ্রব ব্রাজিলিয় ব্যারেটোর নাম শুনেছেন রবসন। বললেন, ‘‌ জানি ব্যারেটো সমর্থকদের খুব কাছের ফুটবলার ও মানুষ। চেষ্টা করব, ব্যারেটোর মতো সমর্থকদের মন জয় করতে।’‌

মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মধ্যে কাকে বেশি পছন্দ?‌ রবসন কোনওরকম রাখঢাক না করেই বললেন, ‘‌ দু’‌জনেই গ্রেট। নিজের দিনে সেরা। তবে দু’‌জনের ভূমিকাটা আলাদা। মেসি নাম্বার টেন পজিশনে বেশি সফল, সেখানে রোনাল্ডো নাম্বার নাইন হিসেবে। আমার বেশি পছন্দ রোনাল্ডোকেই।’‌

ব্রাজিলিয় তারকা নেইমারের বিরুদ্ধে সাওপাওলো লিগের একটি ম্যাচে খেলা জীবনের স্মরণীয় ঘটনা ও বড় প্রাপ্তি মনে করেন রবসন। বললেন, ‘‌ স্বপ্নেও ভাবিনি নেইমারের বিরুদ্ধে খেলব। বিরাট ফুটবলার। মাঠের বাইরে ওর কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু খেলার মাঠে নেইমারের জুড়ি মেলা ভার।’‌

কেন নেইমারের মতো তারকা ফুটবলার থাকতেও ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতে না?‌ কার্লোস আনসেলোত্তি কি সফল হতে পারবেন?‌ রবসনের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ ব্রাজিল জাতীয় দলে এখন অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে নাম দিয়ে সাফল্য আসবে না। একটা ইউনিট হিসেবে সবাইকে সাফল্যের জন্য লড়তে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ব্রাজিলের বর্তমান দলটা ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার ক্ষমতা রাখে। আর আনসেলোত্তি বড় মাপের কোচ। তিনি সারাবিশ্বের ফুটবল স্টাইল ও ফুটবলারদের খোঁজ রাখেন। তার ভিত্তিতে ব্রাজিলের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ জয়ের জায়গায় নিতে যেতে পারবেন।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *