সুচরিতা সেন চৌধুরী ○ ভুবনেশ্বর: কলকাতার লোক দেখলেই বাংলায় কথা বলেন তিনি। কীভাবে যেন চিনে ফেলেন। ফেলে আসা ক্লাবের রাজ্য থেকে এসেছে সাংবাদিকরা। তিনি রয় কৃষ্ণা, এখন ওড়িশা এফসির সম্পদ। খেলতে নামবেন প্রাক্তন দল মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। লক্ষ্য এএফসি কাপ। তার আগে অনুশীলনে গোটা ওড়িশা দলকে বেশ চনমনে দেখাল। বিভিন্ন দল থেকে আইএসএল খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একগুচ্ছ প্লেয়ারকে নিয়েই দল গড়েছে এবার ওড়িশা। সঙ্গে মাথার উপর রয়েছেন সার্জিও লোবেরার মতো কোচ। সব মিলে মোহনবাগানের জন্য তারা যে ঘরের মাঠে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তাই সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন হুয়ান ফেরান্দো। লোবেরাও সমীহ করছেন প্রতিপক্ষকে।
তবে এই ওড়িশা এফসি বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ম্যাচের কেন্দ্রে রয়েছেন যিনি, তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন রয় কৃষ্ণা। এক সময় মোহনবাগান জনতার প্রাণ ভোমরা। ব্যারেটো পরবর্তী সময়ে যে জায়গা দখল করেছিলেন ওডাফা ওকোলি সেই জায়গাই কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিল এই রয় কৃষ্ণার হাতে। কলকাতায় থাকতে থাকতে শিখেও নিয়েছেন বাংলা। তাই বাংলার সাংবাদিকদের দেখে তাঁর প্রথম কথা ছিল, ‘‘কেমন আছো?’’ কলকাতার চেনা মুখ যে তাঁকে এখনও ভাললাগা দেয় তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
তবে এখন তিনি ওড়িশা এফসির। তাই নতুন দল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টই জানিয়ে দেন, ‘‘এটা আমার নতুন বাড়ি।’’ তবে মোহনবাগানের নাম শুনলে রয় কৃষ্ণার মুখে এখনও একশো ওয়াটের সেই চেনা আলোটা দেখা যায়।’’ মোহনবাগানের পর চলে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু এফসিতে। এর পর এই বছর যোগ দিয়েছেন ওড়িশাতে। তবে তাঁর কাছে কোনও ক্লাবের সঙ্গে কোনও ক্লাবের বিশেষ পার্থক্য নেই। তিনি বলেন, ‘‘যখন যে রাজ্যেই গিয়েছি সেখানে সবাই আমাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে। আমার পরিবার ও আমাকে ভালবাসা দিয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি। আমি আমার ফুটবলকে ভালবাসি তাই এখনও এখানে রয়েছি। প্রত্যেকটি রাজ্যের জন্য আমার হৃদয়ে আলাদা জায়গা রয়েছে।’’
বর্তমান দল ওড়িশা এফসি নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। একইভাবে এই নতুন দল তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দল খুব ভাল। অনেক ভাল প্লেয়ার রয়েছে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সবাই মিলে দলগতভাবে সেরাটা দিতে চাই। আশা করছি একটা ভাল ম্যাচ হবে।’’ তবে রাত পোহালেই যে দলের বিরুদ্ধে তিনি খেলতে নামবেন সেই দলের জার্সি পরেই ভারতের মাটিতে প্রথম ফুটবল খেলেছিলেন তিনি। তাই সেই দলের ফ্যানদের জন্যও তাঁর জীবনে বিশেষ জায়গা রয়ে গিয়েছে।
তিনি বলছিলেন, ‘‘ভারতের এই ক্লাবেই প্রথম খেলেছি। আর সে কারণে অবশ্যই সেই দলের ফ্যানদের জন্য আমার মনে বিশেষ জায়গা রয়েছে। অনেক স্মৃতি রয়েছে। কলকাতার জন্য বিশেষ জায়গা তো থাকবেই।’’ তাই হয়তো আজও মোহনবাগান ফ্যানদের কথা উঠলে রয় কৃষ্ণা আবারও বাংলা বলে ওঠেন, ‘‘আমি তোমাকে ভালবাসি’’। তবে তিনি এখন ওড়িশার প্লেয়ার তাই আপাতত সেই দল নিয়েই ভাবতে চান আর এএফসি কাপে ঘরের মাঠে হারাতেও চান প্রতিপক্ষ মোহনবাগানকে।
সার্জিও লোবেরার মতো কোচের অধিনে খেলতে পারাটাও তাঁর কাছে ভাগ্যের বলে মনে করেন তিনি। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘‘আমরা এএফসিতে বেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছি। তবে সবাই জানে সার্জিও লোবেরা কত বড় মাপের কোচ। তাঁর অধিনে খেলতে পারাটাই ভাগ্যের। এই ম্যাচে তাঁর দেখানো পথেই আমরা খেলব। এটা পুরোটাই নির্ভর করছে আমাদের উপর আমরা কতটা ভাল খেলব। তবে ফুটবলে সব কিছুই সম্ভব। তবে নিজেদের সেরাটা দেব।’’
তবে তিনি সেই কোচের বিরুদ্ধেও নামতে চলেছে একসময় যাঁর অধিনে খেলেছেন। তিনি হলেন হুয়ান ফেরান্দো। মোহনবাগান দলকে চেনার পাশাপাশি ফেরান্দোর কোচিং স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল রয় কৃষ্ণা। তবে এটিকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। বরং তিনি বলছেন, ‘‘এখানে সবাই সবাইকে চেনে, জানে। সব ক্লাব, সব প্লেয়ার একে অপরকে জানে। ওরাও আমাদের সম্পর্কে জানে, আমরাও ওদের সম্পর্কে। আসল হল মাঠে নেমে কী করছি। আমরা শুধু আমাদের খেলায় ফোকাস করতে চাই।’’
তবে মোহনবাগান সমর্থকদের যতই ভালবাসার কথা শোনান না কেন, মঙ্গলবারের ম্যাচে কিন্তু তিনি খেলবেন ওড়িশা এফসির সমর্থকদের জন্যই। সেটাও জানিয়ে দিতে ভুললেন না এক সময়ের মোহনবাগান জনতার হার্টথ্রব।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
