অলস্পোর্ট ডেস্ক: আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে ভাল কিছু করে দেখাতে মরিয়া ভারতীয় দল। দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বঙ্গ তারকা শুভাশিস বোসের কথায় অন্তত সে রকমই ইঙ্গিত।
এ বার এশিয়ান কাপে ভারতীয় দলে যারা রয়েছেন, তাদের অনেকেই এ বারের দলেও রয়েছেন। যেমন গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু, সন্দেশ ঝিঙ্গন, অনিরুদ্ধ থাপা, সুনীল ছেত্রী, উদান্ত সিং, প্রীতম কোটাল। এই তালিকায় রয়েছেন শুভাশিসও। তিনি বলছেন, গতবারের এশিয়ান কাপ মূলপর্বে খেলার অভিজ্ঞতা এ বার তাঁদের কাজে লাগবে।
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে শুভাশিস বলেন, “গতবার থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের শুরুটা ভাল হলেও পরের দুটো ম্যাচে আমরা হেরে যাই। তার ফলে আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাই। আমরা সে বার নিজেদের সেরাটা দিয়ে শেষ পর্যন্ত অনেক লড়াই করেছিলাম। সে বার এই হারের পর আমরা হতাশ হয় ভেঙে পড়ি। কিন্তু খেলোয়াড়দের এ সব মনে রাখতে নেই”।
চার বছর আগে এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ভারত থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-১ জয় দিয়ে শুরু করলেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (০-২) ও বাহরিনের (০-১) কাছে হেরে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।
গতবারের এই ফল প্রসঙ্গে বঙ্গীয় ডিফেন্ডারের বক্তব্য, “প্রতিটি ব্যর্থতা থেকেই কিছু না কিছু শিখতে হয়। আর এই দলের মধ্যে আমাদের যার যার সে বারেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আমরা এ বারের দলের তরুণ সদস্যদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগিও করে নেব, যাতে তা তাদের সাহায্য করবে”।
গতবার যেমন এশিয়ান কাপের মতো বড় আসরে নেমে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন শুভাশিসরা, এ বার দলের তরুণরা, যেমন লালচুঙনুঙ্গা, লিস্টন কোলাসো, নাওরেম মহেশ সিং, সহাল আব্দুল সামাদ, ইশান পন্ডিতা, মনবীর সিং, বিক্রম প্রতাপ সিংরাও সে ভাবেই অনেক কিছু শিখতে পারবেন বলে ধারণা শুভাশিসের।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাল ব্যাপার হল, এশিয়ান কাপের আগে ওদের বেশিরভাগেরই ভারতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টে এশিয়ার সেরাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ পেতে চলেছে তারা”।
ভারতীয় দলের প্রথম ম্যাচ ১৩ জানুয়ারি, ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল পাঁচটায়, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ১৮ জানুয়ারি ভারতীয় দল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে, রাত আটটায়। এই দুটি ম্যাচই হবে আল রায়ানের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে। লিগ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ২৩ জানুয়ারি, বিকেল পাঁচটায়, আল খোরের আল বায়েত স্টেডিয়ামে।
ফিফা ক্রমতালিকায় বর্তমানে ১০২ নম্বরে রয়েছে ভারত। অস্ট্রেলিয়া ক্রমতালিকায় রয়েছে ২৫ নম্বরে। তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ সিরিয়া ও উজবেকিস্তান রয়েছে যথাক্রমে ৯১ ও ৬৮ নম্বরে। অর্থাৎ ভারতের গ্রুপে তারাই সবচেয়ে দুর্বল দল।
এই টুর্নামেন্টে মোট ছ’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে ২৪টি দলকে। ভারত রয়েছে গ্রুপ বি-তে। তাজিকিস্তান, লেবানন, চীন ও আয়োজক কাতার গ্রুপ এ-তে রয়েছে। গ্রুপ সি-তে রয়েছে হংকং চীন, প্যালেস্তাইন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও ইরান। ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জাপান ও ভিয়েতনাম রয়েছে গ্রুপ ডি-তে। মালয়েশিয়া, বাহরিন, জর্ডন ও দক্ষিণ কোরিয়া পরষ্পরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে গ্রুপ ই থেকে নক আউট পর্বে যাওয়ার জন্য এবং গ্রুপ এফ-এ রয়েছে তাইল্যান্ড, কিরগিজ রিপাবলিক, ওমান ও সৌদি আরব।
প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা দু’টি দল প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। ভারত তাদের গ্রুপে সেরা দুইয়ে থাকতে পারবে কি না, সেটাই দেখার। অবশ্য ছ’টি গ্রুপের তিন নম্বর দলগুলির মধ্যে সেরা চারটির মধ্যে থাকলেও ১৬ দলের নক আউট রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা পাওয়া যাবে। সে জন্য ভারতকে গ্রুপ পর্বে তিনটির মধ্যে অন্তত দু’টি ম্যাচে জিততে হবে।
এমন একটি টুর্নামেন্টে ভাল কিছু করার জন্য যে মুখিয়ে রয়েছেন ভারতীয় ফুটবলাররা, তেমনই জানালেন শুভাশিস। বলেন, “আমাদের কাছে এশিয়ান কাপই সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। তাই এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য আমরা সবাই খুবই আগ্রহী। দোহায় এসে আমরা কয়েকটি ট্রেনিং সেশন করেছি। এটুকু বলতে পারি যে, এখানে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মরিয়া। ম্যাচেও সেটাই হতে চলেছে। যাদের বিরুদ্ধেই খেলি বা ফল যাই হোক, সে সব না ভেবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেব আমরা”।
গত বছর ভারতীয় দল দেশের মাঠে ১১টি ম্যাচ খেলে। তার মধ্যে ন’টিতে জেতে এবং দু’টিতে ড্র করে। অর্থাৎ গত বছরে দেশে হারের মুখে দেখেনি সুনীল ছেত্রীর ভারত। টানা আটটি ম্যাচে গোল না খাওয়ার পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে কুয়েতের বিরুদ্ধে গোল খান সুনীলরা, তাও আত্মঘাতী গোল। এমন ধারাবাহিকতা অনেকদিন দেখেনি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা। সে দেশের মাটিতেই হোক বা বিদেশে।
পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেওয়ার মতো সাহসী পারফরম্যান্স জাতীয় ফুটবল দলের কাছ থেকে অনেকদিন দেখেননি এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এ বার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই আগ্রাসন ও আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে তাই সবাই খুশি। ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেলও যে আগের চেয়ে অনেক ভাল, তা মাঠে তাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
গত নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কুয়েতে গিয়ে তাদের ১-০-য় হারিয়ে আসেন সুনীল ছেত্রীরা। গোল করেন মনবীর সিং। যদিও তার সপ্তাহ খানেক পর ঘরের মাঠে কাতারের বিরুদ্ধে কোনও ইতিবাচক ফল পায়নি ভারত। বিশ্বের ৬১ নম্বর ফুটবলখেলিয়ে দেশের কাছে সুনীল ছেত্রীরা হারেন ০-৩-এ। তবে চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে এই দোহাতেই কাতারের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ম্যাচ ড্র করেছিল ভারত, তা এখনও হয়তো অনেকেরই মনে আছে।
সেই কারণেই ভারতীয় দলের সম্ভাবনা নিয়ে এ বার দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারলেও তা হবে এ দেশের ফুটবলে এক বড় ইতিহাস। কাতারেও প্রচুর প্রবাসী ভারতীয় থাকেন, যাঁরা তাঁদের প্রিয় দলের জয় দেখার আশায় রয়েছেন। ভারতীয় ফুটবলারদের অভ্যর্থনা জানাতেও তাঁদের অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন দোহার বিমানবন্দরে। যা দেখে মুগ্ধ ও উজ্জীবিত।
শুভাশিসের কথায় সে রকমই ছবি ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, “আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা ভারতের হয়ে মাঠে নামছি। দেশের বাইরে যেখানেই যাই, গ্যালারিতে আমাদের প্রচুর সমর্থক থাকেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। এখানে বিমানবন্দরে আমরা দারুন অভ্যর্থনা পেয়েছি। কয়েকশো ভারতীয় এসেছিলেন আমাদের স্বাগত জানাতে। এখন শুনছি, প্রচুর ভারতীয় আমাদের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামেও আসবেন। এই ব্যাপারটা আমাদের খুবই উজ্জীবিত করবে। গ্যালারি থেকে যদি সমর্থন পাই, তা হলে তো নিজেদের শক্তি বাড়েই”।
এই শক্তি তাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে কি না, তা তো আর কয়েকদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে। অনেকেই ভারত থেকে কাতারে যাচ্ছেন ভারতীয় দলের এই এশীয় অভিযান দেখতে। থাকবে আইএসএলের প্রতিনিধিও। তবে আপনি যদি ঘরে বসেই ভারতীয় দলের ম্যাচ দেখতে চান ও তাদের জন্য গলা ফাটাতে চান, সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছে স্পোর্টস ১৮ ও জিও সিনেমা। টিভিতে সরাসরি ভারতের ম্যাচগুলি সম্প্রচার করবে স্পোর্টস ১৮ এবং আপনার মোবাইলে জিও সিনেমা অ্যাপ ডাউনলোড করে ম্যাচগুলি সরাসরি দেখতে পাবেন।
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
